রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২২শে ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর *** ইইউর ৬১ বাণিজ্য বাধার ৪৮টিরই সমাধান করা হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী *** সাংস্কৃতিক ঐক্যই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি: সংস্কৃতিমন্ত্রী *** নিখোঁজ শিশুদের জন্য পুলিশের বিশেষ সেল গঠনের দাবি স্বজনদের *** রোহিঙ্গা ইস্যু যেন অন্য কোনো সংকটে চাপা না পড়ে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার জন্মভূমি ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল, বিকেলে নাগরিক সংবর্ধনা *** শেষকৃত্য সম্পন্ন করার ১৫ দিন পর কারাগার থেকে ফোনকল—‘আপনার ছেলে জীবিত’ *** ফের সোনার দামে পতন, ভরিতে কত *** মিসরে মাদক মামলায় টিভি উপস্থাপকসহ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড *** গোপালগঞ্জে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ৩০

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধে বিল পাসের পর ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো চুপ কেন?

জেবিন শান্তনু

🕒 প্রকাশ: ১০:৪০ পূর্বাহ্ন, ১১ই এপ্রিল ২০২৬

#

ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের করা সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশকে স্থায়ী আইনে রূপ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত কোনো সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে ওই সরকারের আমলে জারি হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে জাতীয় সংসদ। ২০২৫ সালের ওই অধ্যাদেশের বলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

গত বুধবার জাতীয় সংসদে এ–সংক্রান্ত ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল’ পাস হয়। পাস হওয়া বিলে অধ্যাদেশের বিষয়বস্তুতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ফলে কোনো সত্তাকে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ক্ষমতাও এই আইনে থাকছে। আগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোনো ব্যক্তি বা সত্তাকে নিষিদ্ধ করার বিধান থাকলেও কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান ছিল না। এতে দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধই থাকছে।

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে সংসদে বিল পাসের ঘটনা দেশের রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও থেমে নেই। এই ঘটনাকে ঘিরে দেশের ভেতরে যেমন রাজনৈতিক, আইনি ও নৈতিক বিতর্ক চলছে, তেমনি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এর প্রতিক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুপ্রতীম প্রতিবেশী ভারত—যার গণমাধ্যম অতীতে এই দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে—তাদের তুলনামূলক নীরবতা অনেকের কাছে বিস্ময়কর মনে হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি দেশটির গণমাধ্যমেও অতীতের বিভিন্ন সময়ে, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও এর নেতৃত্বধীন সরকারের সংকটে বেশিরভাগ ভারতীয় গণমাধ্যম দলটিকে এবং সরকারকে সমর্থন জানিয়েছে। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর একটি বড় অংশে দলটির প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন পোর্টাল এবং প্রভাবশালী বিশ্লেষকেরা সেই সময় ঘটনাটিকে “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিচ্যুতি” হিসেবে তুলে ধরেন। অনেকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে দলটির প্রতি সমর্থনও জানান।

২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের একটি অংশ তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, বিবৃতি ও দলীয় কার্যক্রম প্রকাশের বিষয়ে প্রায় সময় দেশের গণমাধ্যমগুলোর তুলনায় ভারতীয়গুলোকে বিভিন্ন কারণে গুরুত্ব বেশি দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান পরিস্থিতি—যেখানে একই দলকে নিষিদ্ধ করার জন্য সংসদে বিল পাস হয়েছে—তা নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের দৃশ্যত নীরবতা একটি নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে: কেন এই পরিবর্তন?

ঢাকা ও নয়াদিল্লির নির্ভরযোগ্য একাধিক কূটনৈতিক সূত্র সুখবর ডটকমকে জানায়, ভারতীয় গণমাধ্যমের অবস্থান অনেকাংশে তাদের রাষ্ট্রীয় কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের প্রতিফলন। ভারত সরকার বর্তমানে বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে সরকার আছে, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছে। তারেক রহমান সরকার ও নরেন্দ্র মোদি সরকার দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চাচ্ছে।

নিরাপত্তা, বাণিজ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত সংবেদনশীল। ভারতীয় গণমাধ্যম অনেক সময় রাষ্ট্রের বৃহত্তর কূটনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের সম্পাদকীয় অবস্থান নির্ধারণ করে। এর বাইরে সাধারণত তারা যায় না। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরাসরি সমালোচনা করা হলে তা দুই দেশের সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে—এমন চিন্তাভাবনা থেকে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো আওয়ামী লীগের প্রশ্নে চুপ থাকার নীতি অবলম্বন করতে পারে। কারণ, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি এখন ক্ষমতায় আছে।

দেশের সাবেক এক কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব প্রসঙ্গে সুখবর ডটকমকে বলেন, ভারতের নিজস্ব রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুগুলো বর্তমানে দেশটির গণমাধ্যমের প্রধান ফোকাস। নির্বাচন, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, সামাজিক উত্তেজনা ইত্যাদি বিষয় ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বড় অংশ দখল করে রেখেছে। ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঘটনাগুলো তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পাচ্ছে। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)—এই দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতি সংবাদমাধ্যমের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের একটি সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় বাংলাদেশ ছিল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের অন্যতম আলোচিত বিষয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আগ্রহ কমে এসেছে। একই ধরনের রাজনৈতিক সংকট বা বিতর্ক পুনরাবৃত্তি হলে তা গণমাধ্যমে আগের মতো গুরুত্ব পায় না—এটিকে অনেকেই ‘নিউজ ফ্যাটিগ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তাছাড়া, প্রথম ধাক্কা সবসময় বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করে। কিন্তু পরবর্তী ঘটনাগুলো, যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক, সেগুলো একই মাত্রার কাভারেজ পায় না। এই কারণেও আওয়ামী লীগ ইস্যুটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের মনোযোগ হারিয়েছে।

কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ বলছেন, বিএনপি বা অন্য রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধকরণ প্রক্রিয়াটি জটিল আইনি কাঠামোর মধ্যে আবদ্ধ। অনেক ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নির্ভরযোগ্য ও যাচাইকৃত তথ্যের অভাবে সতর্ক অবস্থান নেয়। একটি দেশে যখন কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার মতো গুরুতর সিদ্ধান্ত আসে, তখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিশ্চিত হতে চাই যে, তথ্যগুলো নির্ভুল এবং আইনি দিকগুলো পরিষ্কার। এই সতর্কতা অনেক সময় নীরবতার মতো মনে হয়। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর বর্তমান অবস্থানকে তেমনই মনে হচ্ছে।

কয়েক বিশ্লেষকের মতে, বর্তমান অবস্থান ভারতীয় গণমাধ্যমের একটি সচেতন কৌশলও হতে পারে। অর্থাৎ, সরাসরি মন্তব্য না করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক সময় ‘নীরবতা’ও একটি বার্তা বহন করে। তাছাড়া, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমের সহানুভূতি মূলত দুটি কারণে ছিল: ১. দলটির সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক; ২. ক্ষমতাচ্যুতির প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ।

কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন। এখন বিষয়টি সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ আইনি সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের মধ্য দিয়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হয়েছে। আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে নিষিদ্ধ রাখা নির্বাচিত সরকারের সিদ্ধান্ত। ফলে ভারতীয় গণমাধ্যম সরাসরি অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশি সতর্ক। এই নীরবতা শুধু গণমাধ্যমের নয়, বরং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বর্তমানে ‘প্র্যাগম্যাটিক’ পর্যায়ে রয়েছে। এখানে আদর্শগত অবস্থানের চেয়ে বাস্তব স্বার্থ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যমও সেই বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করছে।

আরেকজন গবেষক যুক্তি দেন, ভারতীয় গণমাধ্যমের অনেক প্রতিষ্ঠান সরাসরি বা পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক ও কর্পোরেট প্রভাবের মধ্যে কাজ করে। ফলে তাদের সম্পাদকীয় নীতিতে কৌশলগত সমন্বয় দেখা যায়। যদিও বাংলাদেশের ভেতরে এই নীরবতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কখনো কখনো এটিকে “দ্বৈত মানদণ্ড” হিসেবে দেখা হলেও আসল এটি স্বাভাবিক কূটনৈতিক আচরণ। শুধু ভারত নয়, পশ্চিমা বিশ্বের বড় গণমাধ্যম বা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকেও আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে এখনো উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। এটি ইঙ্গিত করে যে, বিষয়টি এখনো আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকারের তালিকায় শীর্ষে নেই।

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে সংসদে বিল পাস একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা, যার প্রতিক্রিয়া দেশ-বিদেশে বিভিন্নভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের নীরবতা প্রথম নজরে অস্বাভাবিক মনে হলেও, গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে এটি কূটনৈতিক বাস্তবতা, মিডিয়া অগ্রাধিকার, তথ্যের সীমাবদ্ধতা এবং কৌশলগত অবস্থানের সমন্বয় হিসেবে দেখা যায়। যা মনে করিয়ে দেয় যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের আচরণ সবসময় সরলরৈখিক নয়; বরং তা বহুস্তরীয় স্বার্থ, সম্পর্ক ও বাস্তবতার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

আওয়ামী লীগ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

🕒 প্রকাশ: ০৪:৫৪ অপরাহ্ন, ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইইউর ৬১ বাণিজ্য বাধার ৪৮টিরই সমাধান করা হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

🕒 প্রকাশ: ০৪:৪৯ অপরাহ্ন, ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাংস্কৃতিক ঐক্যই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি: সংস্কৃতিমন্ত্রী

🕒 প্রকাশ: ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিখোঁজ শিশুদের জন্য পুলিশের বিশেষ সেল গঠনের দাবি স্বজনদের

🕒 প্রকাশ: ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

রোহিঙ্গা ইস্যু যেন অন্য কোনো সংকটে চাপা না পড়ে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

🕒 প্রকাশ: ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250