মঙ্গলবার, ১লা সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৭ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ফের সংগঠিত হচ্ছে নব্য জেএমবি? নতুন আমির কামরুল হাসানের অবস্থান কোথায়? *** দীর্ঘ দুঃসময় পেরিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে যেভাবে ঘুরে দাঁড়াল বিএনপি *** মেসির বিদায়ে এনজোর আবেগঘন চিঠি, ‘কত ভাগ্যবান ছিলাম, লিও’ *** যে কারণে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে বিদায় বললেন মেসি *** বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে তারেক রহমানের শ্রদ্ধা *** নেপাল–তিব্বতে নিহত বেড়ে ৯৫৫ ও নিখোঁজ ৪৪৭১, ত্রাণ–সহায়তা পাঠাচ্ছে যেসব দেশ *** দেশজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির আভাস, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা *** বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ *** দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস: প্রধানমন্ত্রী *** থার্ড টার্মিনালের র‌্যাম্প থেকে পিকআপ পড়ে বিমানবাহিনীর ৩ সদস্য নিহত

ফের সংগঠিত হচ্ছে নব্য জেএমবি? নতুন আমির কামরুল হাসানের অবস্থান কোথায়?

বিশেষ প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০১:১৭ অপরাহ্ন, ১লা সেপ্টেম্বর ২০২৬

#

ফাইল ছবি

নব্য জেএমবিকে ঘিরে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিষিদ্ধ এই জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ নেতা মোহাম্মদ কামরুল হাসান ওরফে মাহাদী হাসান জন ওরফে আবু আব্বাস আল-বাঙ্গালী হাফিজুল্লাহ অজ্ঞাতস্থান থেকে অনলাইনে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন—এমন তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সাম্প্রতিক কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণ, বোমা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ও অভিযানের সূত্র ধরে তার নাম সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।

তবে কামরুল হাসান বর্তমানে বাংলাদেশে নাকি বিদেশে—এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নেই। ২০২৩ সালে তুরস্কে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি জামিনে মুক্ত হন। এরপর তার অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এর মধ্যেই সাম্প্রতিক জঙ্গি তৎপরতার তদন্তে তার নাম আবার সামনে আসায় পুরোনো নেটওয়ার্ক নতুন করে সক্রিয় হচ্ছে কি না, তা নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।

সিটিটিসির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুন্সি শাহাবুদ্দিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় নব্য জেএমবির আমির কামরুল হাসানের নাম এসেছে। তাকে খোঁজা হচ্ছে, তবে তার অবস্থান এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। বগুড়ার পুলিশও কামরুলের বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তার বাড়ি বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার জয়পুরপাড়ায়।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর দিকে তাকালে উদ্বেগের কারণটি স্পষ্ট হয়। গত ২৬ ডিসেম্বর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ হাউজিং এলাকার উম্মুল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ ঘটে। পরে ওই ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৩০ জানুয়ারি গ্রেপ্তার হন নব্য জেএমবির নেতা আবদুর রহমান। ২৩ ফেব্রুয়ারি কদমতলী থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মামলার প্রধান আসামি শেখ আল-আমিন ওরফে রাজিব ইসলামকে।

এরপর একের পর এক ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর আরও বাড়ে। ২১ ফেব্রুয়ারি যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালীতে পুলিশকে ছুরিকাঘাত ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ৭ মার্চ কুমিল্লায় একটি মন্দির ও মসজিদের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ১২ মার্চ ফেনীতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। ২৫ মার্চ ঢাকার সায়েদাবাদের জনপদ মোড়ে বিস্ফোরণ ঘটে।

এরপর ২২ জুন ঢাকার দক্ষিণখানে রাষ্ট্রীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে দূরনিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরক উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করা হয়। ৩০ জুলাই আশুলিয়ায় উদ্ধার করা হয় প্রেসার কুকার বোমা। ১ আগস্ট মিরপুর-১০ ও ফার্মগেটে বোমাতঙ্ক ছড়ায়। সর্বশেষ ১১ আগস্ট সাভারে বোমা ও বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সাভারের ওই অভিযানের পর নব্য জেএমবির সাম্প্রতিক তৎপরতা নিয়ে তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরিফের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুরে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। মামলার এজাহারে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নব্য জেএমবির সদস্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথম আলোর ইংরেজি সংস্করণের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১১ আগস্ট রাতে সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুরে তিনতলা একটি বাড়িতে সিটিটিসি অভিযান চালায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তথ্য ছিল, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা সেখানে বিস্ফোরক নিয়ে অবস্থান করছেন।

এই ধারাবাহিকতার মধ্যেই আলোচনায় এসেছে নাজমুল হাসান মামুন ওরফে ‘বোমারু মামুন’-এর নাম। সিটিটিসির কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বোমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত মোহাম্মদ আরিফ তার সহযোগী। মামুন দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর জামিনে বের হন। বর্তমানে তাকে ধরতে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

অর্থাৎ, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর তদন্তে শুধু বিদেশে অবস্থানকারী কোনো শীর্ষ নেতার নামই আসছে না; দেশে থাকা পুরোনো ও নতুন সদস্যদের মধ্যেও যোগাযোগের একটি যোগসূত্র খুঁজে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর ফলে প্রশ্ন উঠছে, ২০১৬ সালের পর ধারাবাহিক অভিযানে দুর্বল হয়ে পড়া নব্য জেএমবি কি আবার ছোট ছোট গোপন সেলে সংগঠিত হচ্ছে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে ফিরে তাকাতে হয় কামরুল হাসানের অতীতের দিকে।

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার জয়পুরপাড়ার বাসিন্দা কামরুল হাসান স্থানীয় শাপলা কিন্ডারগার্টেন, পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ও জাহানারা-কামরুজ্জামান কলেজে পড়াশোনা করেন। কলেজের পড়া শেষ হওয়ার আগেই ২০১৬ সালের আগস্টে তিনি দেশ ছাড়েন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তখন তার বিরুদ্ধে নাশকতার কয়েকটি মামলা ছিল।

কামরুলের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযোগ, দেশে থাকতেই তিনি নব্য জেএমবিতে যুক্ত হন এবং সংগঠনটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা তামিম আহমেদ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। ২০১৬ সালের ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে তামিম নিহত হওয়ার দুই দিন আগে কামরুল দেশ ছাড়েন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরাক, তুরস্ক ও সিরিয়ায় অবস্থানের সময় তিনি আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে যুক্ত হন। তুরস্কে অবস্থান করেই বাংলাদেশে নব্য জেএমবিকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেন তিনি। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তাকে নব্য জেএমবির আমির করা হয় বলে সিটিটিসির তদন্তে উঠে আসে।

এ তথ্য অবশ্য নতুন নয়। ২০২১ সালেও দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছিল, মাহাদী হাসান জন নামে পরিচিত নব্য জেএমবির আমির তুরস্কে বসে সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। একই সময়ে সংগঠনটি নতুন কৌশলে সামরিক শাখা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে বলেও গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছিল।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরেও দ্য ডেইলি স্টার-এর এক প্রতিবেদনে সিটিটিসির কর্মকর্তারা বলেছিলেন, নব্য জেএমবি আবার সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। ওই সময় তুরস্কে থাকা আমির মাহাদী হাসান জনকে তুরস্কের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাংলাদেশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানানো হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণেও কামরুলের পরিচয় ও ভূমিকার বিষয়ে একই ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জেমসটাউন ফাউন্ডেশনের ২০২৪ সালের এক বিশ্লেষণে মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে ইসলামিক স্টেটের বাংলাদেশভিত্তিক নেটওয়ার্কের নেতা এবং নব্য জেএমবির আমির হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সেখানে তার অন্য নাম মাহাদী হাসান জন ও আবু আব্বাস আল-বাঙ্গালী বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি তুরস্কে অবস্থান করে বাংলাদেশে তরুণদের উগ্রবাদে যুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।

সিঙ্গাপুরের রাজরত্নম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সন্ত্রাসবাদবিষয়ক বিশ্লেষণেও নব্য জেএমবিকে বাংলাদেশে ইসলামিক স্টেটের আদর্শে প্রভাবিত একটি প্রধান স্থানীয় জঙ্গি নেটওয়ার্ক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে সংগঠনটির সক্ষমতা কমলেও নিরাপদ যোগাযোগমাধ্যম ও ভার্চুয়াল সেলের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তরুণদের অনলাইনে নিয়োগের বিষয়টিও সেখানে উঠে এসেছে।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জঙ্গিদের জামিনে মুক্তি এবং কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া নিয়ে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আশ্রয়বিষয়ক সংস্থার ২০২৫ সালের বাংলাদেশবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ১৭৪ জন বন্দী জামিনে মুক্তি পান বলে কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছিল। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, আগস্ট ২০২৪-এর পর বাংলাদেশে উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ার বিষয়ে কিছু নিরাপত্তা বিশ্লেষক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে এ বিষয়ে সব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলেও প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।

কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া জঙ্গিদের বিষয়টিও আলাদা উদ্বেগের। গত আগস্টে কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শকের বরাত দিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় বিভিন্ন কারাগার থেকে পালানো বন্দীদের মধ্যে এখনো অনেকের খোঁজ পাওয়া যায়নি। ওই সময় পালানো নয়জন জঙ্গির মধ্যে দুজন এখনো পলাতক বলে জানানো হয়েছে।

জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জঙ্গিদের জামিন ও পলাতক আসামিদের বিষয়ে নজরদারি দুর্বল হয়েছে কি না, সেটি এখন বড় প্রশ্ন। তবে শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনকেই জঙ্গিবাদের পুনরুত্থানের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। জঙ্গিবাদ একটি দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সমস্যা; কারাগারে উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক, অনলাইন প্রচার, বিদেশি জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ, নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা—সবকিছুর ওপর এর বিস্তার নির্ভর করে।

তারপরও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত দিচ্ছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জামিনে মুক্ত হওয়া কয়েকজন সন্দেহভাজন জঙ্গি পুরোনো নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করছেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মনে করছে।

আরেকটি পরিবর্তন চোখে পড়ছে জঙ্গিদের বোমা তৈরির কৌশলে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় দূরনিয়ন্ত্রিত বোমা ব্যবহারের আলামত পেয়েছে পুলিশ। আশুলিয়া ও সাভারে উদ্ধার হওয়া প্রেসার কুকার বোমার সঙ্গে দূরনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার যোগসূত্র পাওয়া গেছে।

নব্য জেএমবির ইতিহাসও বলে, সংগঠনটি একবারে বিলীন হয়ে যায়নি। ২০১৪ সালের দিকে জেএমবির একটি অংশ ইসলামিক স্টেটের আদর্শ অনুসরণ করে আলাদা কাঠামো গড়ে তোলে। ২০১৬ সালের হলি আর্টিজান হামলার পর সংগঠনটি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে। তামিম চৌধুরী ও সারোয়ার জাহানসহ শীর্ষ নেতাদের নিহত হওয়া এবং পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিক অভিযানে সংগঠনটি বড় ধাক্কা খেলেও ছোট ছোট সেল ও অনলাইনভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে টিকে থাকার চেষ্টা করেছে।

কামরুল হাসানের উত্থান সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ। দেশে মামলা থাকা অবস্থায় বিদেশে যাওয়া, আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়া, তুরস্কে অবস্থান করে বাংলাদেশে সংগঠন পরিচালনার চেষ্টা এবং ২০২৩ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্তি—সব মিলিয়ে তার গতিপথ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করেছে: একজন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত জঙ্গি নেতাকে গ্রেপ্তারের পর তার অবস্থান কীভাবে অজানা হয়ে গেল?

আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, তুরস্ক থেকে মুক্তির পর তিনি যদি সত্যিই বাংলাদেশে থাকা অনুসারীদের সঙ্গে আবার যোগাযোগ স্থাপন করে থাকেন, সেই যোগাযোগ কতটা বিস্তৃত। সাম্প্রতিক ১৫টি ঘটনা, অভিযান ও মামলার তদন্তে তার নাম আসার বিষয়টি সেই প্রশ্নকেই সামনে আনছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এসব ঘটনায় তার সরাসরি নির্দেশ বা সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়েছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই।

এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে দুটি কাজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, কামরুল হাসানের প্রকৃত অবস্থান শনাক্ত করা। দ্বিতীয়ত, সাম্প্রতিক বোমা উদ্ধার ও হামলার সঙ্গে তার কথিত যোগাযোগের প্রমাণ যাচাই করা। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জামিনে মুক্তি পাওয়া বা কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া জঙ্গিদের কতজন আবার সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছেন, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।

কারণ নব্য জেএমবির মতো সংগঠনের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব ধরা পড়লেই সংগঠন শেষ হয়ে যায় না। একটি সেল ভেঙে গেলে অন্য সেল তৈরি হতে পারে, অনলাইন যোগাযোগ বন্ধ হলে নতুন মাধ্যমে যোগাযোগ শুরু হতে পারে। তাই সাম্প্রতিক বোমা উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার বদলে পুরো নেটওয়ার্কের গতিপথ বোঝার চেষ্টা করাই এখন বড় পরীক্ষা।

কামরুল হাসান কোথায়—এই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। কিন্তু তাকে ঘিরে সাম্প্রতিক তদন্ত যে প্রশ্নটি সামনে এনেছে, সেটি আরও বড়: দীর্ঘদিন চাপে থাকা নব্য জেএমবি কি আবার নতুন নেতৃত্ব, অনলাইন যোগাযোগ ও ছোট ছোট সেলের মাধ্যমে বাংলাদেশে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে? সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো অন্তত সেই আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে না।

নব্য জেএমবি

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

ফের সংগঠিত হচ্ছে নব্য জেএমবি? নতুন আমির কামরুল হাসানের অবস্থান কোথায়?

🕒 প্রকাশ: ০১:১৭ অপরাহ্ন, ১লা সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীর্ঘ দুঃসময় পেরিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে যেভাবে ঘুরে দাঁড়াল বিএনপি

🕒 প্রকাশ: ১২:০৮ অপরাহ্ন, ১লা সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেসির বিদায়ে এনজোর আবেগঘন চিঠি, ‘কত ভাগ্যবান ছিলাম, লিও’

🕒 প্রকাশ: ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, ১লা সেপ্টেম্বর ২০২৬

যে কারণে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে বিদায় বললেন মেসি

🕒 প্রকাশ: ১১:২০ পূর্বাহ্ন, ১লা সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে তারেক রহমানের শ্রদ্ধা

🕒 প্রকাশ: ১১:০১ পূর্বাহ্ন, ১লা সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250