শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১১ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** শেখ হাসিনা দেশ ছাড়লেন কেন, আজ দেখানো হবে টেলিছবিতে *** শেখ হাসিনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-ভারত মিলে নেবে—আশা যুক্তরাষ্ট্রের *** সন্ত্রাসী দেশ আমাকে এই প্রশ্ন করছে—পাকিস্তানি সাংবাদিককে পাল্টা প্রশ্ন জয়শঙ্করের *** জাতিসংঘেও কালো সানগ্লাস পরে ভাষণ দিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু কেন *** যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ৭ দিনের পরিকল্পনায় যা আছে *** বন্দুকের ভঙ্গিতে উদযাপন করে লালকার্ড দেখলেন ইসরায়েলি ফুটবলার *** ‘আমলাদের লেখা আইনের খসড়া অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে’ *** জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভ, অস্কারজয়ী অভিনেত্রীসহ অনেকে গ্রেপ্তার *** জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এবার কেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেই *** পাকিস্তান সফরে কবে যাবেন—জবাবে সাংবাদিকদের যা বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সুখবর এক্সপ্লেইনার

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা পরিকল্পনা: পানি ব্যবস্থাপনায় সরকারের আত্মবিশ্বাসের বার্তা

নবনীতা রায়

🕒 প্রকাশ: ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, ৭ই জুন ২০২৬

#

ছবি: ডেইলি স্টার

দেশের পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি উৎপাদন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত দুটি বড় প্রকল্প—পদ্মা ব্যারাজ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা। নানা সরকার, নানা পরিকল্পনা ও বিদেশি অর্থায়নের আলোচনা পেরিয়ে প্রকল্প দুটি বারবার সংবাদ শিরোনামে এসেছে। কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। এমন প্রেক্ষাপটে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সাম্প্রতিক বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, সরকার পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে চায় না। বরং দেশের নিজস্ব অর্থায়নে এই দুই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

দেশে অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিদেশি ঋণ বা উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়ন দীর্ঘদিনের বাস্তবতা। পদ্মা সেতু নির্মাণের সময় আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নিয়ে জটিলতার পর বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল।

সেই অভিজ্ঞতা এখনো দেশের নীতিনির্ধারকদের আত্মবিশ্বাস জোগায়। পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা প্রকল্পের ক্ষেত্রে সরকারের বর্তমান অবস্থানও সেই আত্মবিশ্বাসেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নতুন কোনো ধারণা নয়। ২০০২ সালে বিএনপি সরকারের সময় প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজও অনেক দূর এগোয়। কিন্তু বিভিন্ন কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। প্রায় দুই দশক পর আবারও এটি জাতীয় আলোচনায় ফিরে এসেছে।

মন্ত্রী এ্যানির ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকল্পটি পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে এবং নির্বাচনের আগে দেওয়া রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই সরকার এগোচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পদ্মা ব্যারাজ নির্মিত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ এবং শুষ্ক মৌসুমে তা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।

কৃষি, মৎস্য, নৌপরিবহন এবং পরিবেশ—সব ক্ষেত্রেই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। দীর্ঘদিন ধরে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বহু এলাকায় শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট দেখা যায়। আবার বর্ষায় বন্যা পরিস্থিতিও তৈরি হয়। পরিকল্পনামাফিক পরিচালিত হলে ব্যারাজটি এই দুই সমস্যার কিছুটা সমাধান দিতে পারে।

মন্ত্রী এ্যানি যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছেন, তা হলো প্রকল্পটির অর্থায়ন। প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের কথা তিনি বলেছেন। তার যুক্তি, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এই অর্থ জোগাড় করা অসম্ভব নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা, অর্থ পাচার এবং উন্নয়ন প্রকল্পে অপচয় নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, তার প্রেক্ষাপটে মন্ত্রীর এই বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ।

তবে অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করেন, শুধু অর্থের সংস্থান নয়, প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো কাজ শেষ করা, ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে না পারলে প্রকল্পের সুফল কমে যেতে পারে। ফলে নতুন সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

একইভাবে তিস্তা মহাপরিকল্পনাও দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়। উত্তরাঞ্চলের কৃষি, নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ, বন্যা ব্যবস্থাপনা এবং নদীর নাব্যতা রক্ষায় এই প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়। অতীতে চীনের অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা হলেও সরকার এখন নিজস্ব অর্থায়নের পথ বেছে নিতে চায়। মন্ত্রী এ্যানির মতে, প্রকল্পটির ব্যয় পদ্মা ব্যারাজের প্রায় অর্ধেক। তাই বিদেশি ঋণ নেওয়ার যৌক্তিকতা তিনি দেখছেন না।

তিস্তা নদী নিয়ে আলোচনায় ভারতের সঙ্গে পানিবণ্টন প্রশ্নও অনিবার্যভাবে সামনে আসে। তবে মন্ত্রী তার সাক্ষাৎকারে গঙ্গা চুক্তি নবায়নের বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। দেশের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কূটনৈতিক বিষয়। কারণ শুষ্ক মৌসুমে নদীর প্রবাহ, কৃষি উৎপাদন এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের সঙ্গে এ চুক্তির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

মন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের কারিগরি দল ইতোমধ্যে কাজ করছে এবং নতুন বাস্তবতার আলোকে চুক্তিতে কিছু অতিরিক্ত নিশ্চয়তার বিষয় যুক্ত করার আলোচনা চলছে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার যে কূটনৈতিক ভারসাম্য প্রয়োজন, তার বক্তব্যে সেই দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন দেখা যায়।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আরেকটি উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ হলো ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি। ইতোমধ্যে কয়েক শ কিলোমিটার খাল খননের কাজ শেষ হয়েছে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন। দেশের নদী ও খালভিত্তিক সভ্যতায় জলাধার পুনরুদ্ধার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েক দশকে নগরায়ণ, দখল, দূষণ এবং অব্যবস্থাপনার কারণে অসংখ্য খাল বিলুপ্ত বা অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু খনন করলেই হবে না; খালের সঙ্গে নদীর সংযোগ, পানি প্রবাহের ধারাবাহিকতা এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আইডব্লিউএম, সিইজিআইএস এবং ওয়ারপোর মতো প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করার কথা মন্ত্রী বলেছেন, যা একটি ইতিবাচক দিক। বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা ছাড়া খাল খননের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হয় না—এই বাস্তবতা সরকারের নীতিনির্ধারকেরাও উপলব্ধি করছেন বলে মনে হয়।

বুড়িগঙ্গাসহ দেশের দূষিত নদীগুলো পুনরুদ্ধার নিয়েও মন্ত্রীর বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। জলাশয় দখল ও দূষণ দেশের পরিবেশগত সংকটগুলোর অন্যতম। বিশ্বব্যাংক, জাইকা এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করে নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগকে পরিবেশবিদরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

সব মিলিয়ে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সাক্ষাৎকারে দেশের পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি সুসংহত ও আত্মবিশ্বাসী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন দেখা যায়। পদ্মা ব্যারাজ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, গঙ্গা চুক্তি নবায়ন, খাল পুনরুদ্ধার এবং নদী দূষণ নিয়ন্ত্রণ—সবগুলো বিষয়কে তিনি একই নীতিগত কাঠামোর মধ্যে দেখার চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে নিজস্ব অর্থায়নে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের যে সাহসী অবস্থান তিনি তুলে ধরেছেন, তা দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় নতুন আত্মবিশ্বাসের বার্তা দেয়।

তবে শেষ পর্যন্ত সাফল্য নির্ভর করবে পরিকল্পনার গুণগত মান, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সময়মতো বাস্তবায়নের ওপর। যদি সরকার এসব ক্ষেত্রে সফল হতে পারে, তাহলে পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুধু দুটি অবকাঠামো প্রকল্পই হবে না; বরং দেশের পানি নিরাপত্তা ও কৃষি অর্থনীতির ভবিষ্যৎ রূপান্তরের অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

শেখ হাসিনা দেশ ছাড়লেন কেন, আজ দেখানো হবে টেলিছবিতে

🕒 প্রকাশ: ০২:২৭ পূর্বাহ্ন, ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেখ হাসিনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-ভারত মিলে নেবে—আশা যুক্তরাষ্ট্রের

🕒 প্রকাশ: ০১:৩০ পূর্বাহ্ন, ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

সন্ত্রাসী দেশ আমাকে এই প্রশ্ন করছে—পাকিস্তানি সাংবাদিককে পাল্টা প্রশ্ন জয়শঙ্করের

🕒 প্রকাশ: ১১:৪৯ অপরাহ্ন, ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘেও কালো সানগ্লাস পরে ভাষণ দিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু কেন

🕒 প্রকাশ: ১১:২১ অপরাহ্ন, ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ৭ দিনের পরিকল্পনায় যা আছে

🕒 প্রকাশ: ১০:৫৩ অপরাহ্ন, ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250