শনিবার, ৪ঠা এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২১শে চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** সাংবাদিক তানবিরুল মিরাজকে হয়রানি বন্ধের আহ্বান সিপিজের *** শক্তিশালী সরকারকে হটানো গেছে, এই সরকারকেও হটানো সম্ভব: শহিদুল আলম *** শহিদুল আলমের গতিবিধি নিয়ে প্রশাসনের সন্দেহ *** গাড়ির জ্বালানি ৩০ শতাংশ কম নেবেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা *** নরওয়ের উন্নয়ন সংস্থার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে *** ভারত কি পারবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নতুন খ্রিষ্টান রাষ্ট্র গঠন ঠেকাতে? *** তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি বন্ধ হলে কি বড় সংকট দেখা দেবে? *** অফিস সময় ৯টা-৪টা, মার্কেট বন্ধ সন্ধ্যা ৬টায় *** সাংবাদিকদের হাতকড়া: ক্ষমতার প্রয়োগ না অপপ্রয়োগ? *** নারী এমপিদের নিয়ে আমির হামজার কুৎসিত বক্তব্যের বিচার চাইলেন রুমিন ফারহানা

দেশে কাশি আর জাপানে হাসি, মেটিকুলাস নকশার রূপ: মুজতবা দানিশ

শাওন দত্ত

🕒 প্রকাশ: ১০:০৯ পূর্বাহ্ন, ৪ঠা এপ্রিল ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

দেশে শিশুদের টিকা সংকটের প্রভাব যখন দৃশ্যমান, তখন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সময়কার সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে সমালোচনা উঠছে। বিশিষ্ট সাংবাদিক মুজতবা দানিশ তার বিশ্লেষণে উল্লেখ করেন, সরকারের দায়িত্বে থাকাকালে নেওয়া কিছু নীতিগত সিদ্ধান্তের ফল এখনো দেশের স্বাস্থ্য খাতে ভোগান্তি তৈরি করছে।

“দেশে কাশি, আর বিদেশে হাসি”—এই ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি নেতৃত্বের বিচ্ছিন্নতাকে তুলে ধরেন। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। মুজতবা দানিশের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারা ভেরিফায়েড নয়। তবে সুখবর ডটকম নিশ্চিত হয়েছে, অ্যাকাউন্টটি তিনি নিজেই পরিচালনা করেন।

মুজতবা দানিশ বলেন, দেশে কাশি আর জাপানে হাসি—এ যেন মেটিকুলাস নকশারই রূপ। দেশে রাজনীতির খেলায় সবাই “ধোয়া তুলসীপাতা”; ক্ষমতায় বসলেই বের হয়ে আসে আসল রূপ। কোনো সন্দেহ নেই, মেটিকুলাস ডিপ স্টেটের ফসল ছিল ১৮ মাসের ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদ।

তিনি লেখেন, চিকিৎসাবিদ ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আব্দুন নূর তুষারের তথ্য মতে, ইপিআইয়ের আওতায় শিশুর ৯ মাস বয়সে এমএমআর-এর প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পঞ্চম সেক্টর প্রোগ্রাম থেকে বের হয়ে আসার পরিকল্পনা করে অন্তর্বর্তী সরকার। সেক্টর প্রোগ্রাম বন্ধ থাকায় ইপিআইয়ের টিকা কেনা হয়নি। ফলে ২০২৫ সালে দেশে ইপিআইয়ের টিকা সংকট দেখা দেয়।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অভিযোগ অনুযায়ী, ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমের চরম অবহেলা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণেই শিশুদের অত্যাবশ্যকীয় হাম, পোলিও এবং মাতৃত্বকালীন টিকা আমদানি করা হয়নি। মূলত এটাই দেশের শিশু ও গর্ভবতী নারীদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। ক্ষমতায় থেকে দেশের শিশুদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে গর্তে ঠেলে দিয়েছেন ইউনূস। আর দেশের শিশুদের নির্মমতার মধ্যে ফেলে তিনি জাপানে শিশুদের সঙ্গে খেলছেন—কি অদ্ভুত চরিত্র!

প্রসঙ্গত, স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে দাতা সংস্থার সহায়তায় ১৯৯৮ সালে স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টিখাত কর্মসূচি (এইচপিএনএসপি) চালু করে সরকার। পাঁচ বছর মেয়াদি এই কর্মসূচি স্বাস্থ্যখাতের কর্মীদের কাছে ‘সেক্টর প্রোগ্রাম’ নামে বেশি পরিচিত। এটি বাস্তবায়ন করা হতো অপারেশন প্ল্যান (ওপি) বা বিষয়ভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে। প্রকল্পটি চালুর সময় দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনা।

প্রকল্পটির মাধ্যমে খাদ্য-পুষ্টি, শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য, সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, টিকাদানসহ স্বাস্থ্যের বিভিন্ন খাতে অর্থ বরাদ্দ, কেনাকাটা, জনবল নিয়োগসহ যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। সেক্টর প্রোগ্রামের শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য কার্যক্রমের আওতায় এতদিন সারাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) পরিচালিত হতো।

এক্ষেত্রে টিকার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব সংস্থা গ্যাভির আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশ এতদিন টিকা কিনত ইউনিসেফের মাধ্যমে। ‘এতে টিকা কিনতে সরকারকে খুব একটা বেগ পেতে হতো না এবং সময়ও তুলনামূলকভাবে কম লাগত,’ বলেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. হোসেন।

কিন্তু দাতানির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সেক্টর প্রোগ্রাম থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার পরিকল্পনা করা হয়। ‘দাতানির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি এটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল নিজেদের আর্থিক ও কারিগরি সক্ষমতা বাড়িয়ে সেক্টর প্রোগ্রামগুলোকে মূলধারায় আনা বা রাজস্ব খাতের আওতায় নেওয়া,’ বলেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আহমদ এহসানুর রহমান।

সেক্টর প্রোগ্রাম থেকে সরে আসার ফলে টিকা কেনা বাবদ ইউনিসেফকে দেওয়া অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় অনেক ব্যয় কমে আসার কথাও সুখবর ডটকমকে জানান এই খাতের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা। ২০২২ সালে চতুর্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টিখাত কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা মহামারিসহ নানা কারণে সেটির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়।

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ক্ষমতায় আসে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এ সময় বিভিন্ন খাতে সংস্কার নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যে সেক্টর প্রোগ্রাম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

অভিযোগ উঠেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে এইচপিএনএসপির আওতায় টিকা কর্মসূচি দেশে প্রথম চালু হওয়ায় প্রকল্পটি ড. ইউনূস সরকারের সময় রোষানলে পড়ে। সরকার ২০২৪ সালে কর্মসূচিটি বন্ধ করে দেয়। এতে দেশে টিকার মজুত ফুরিয়ে যায়। ফলে ঘটনার একটি রাজনৈতিক ব্যাখ্যাও সামনে এসেছে।

শেখ হাসিনা সরকারের সময় শক্ত ভিত্তি পাওয়া এইচপিএনএসপি ড. ইউনূসের অনির্বাচিত সরকারের কাছে অগ্রাধিকার পায়নি; বরং সেটি বাতিলের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মানসিকতা কাজ করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাস্তবতা হলো—যে কারণেই হোক, একটি কার্যকর ব্যবস্থা হঠাৎ ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্তের ফল ভোগ করতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে, বিশেষ করে শিশুদের।

জে.এস/

মুজতবা দানিশ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250