ছবি : সংগৃহীত
চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার নিন্দপুর ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে শতভাগ পাশ নিশ্চিত করতে শিক্ষক কর্তৃক এইচএসসি পরীক্ষায় নকল সরবরাহের বিষয়ে এটিএন নিউজে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর দৃষ্টিগোচর হলে মন্ত্রী কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
মন্ত্রীর নির্দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড কুমিল্লা চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার পালাখাল রুস্তম আলী কলেজ ও নিন্দপুর ড. মহিউদ্দিন খান স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অব্যাহতি প্রদান করেন এবং বোর্ড থেকে চার সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি প্রেরণ করেন। উক্ত বোর্ডের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন পরীক্ষা কেন্দ্রে অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে পরীক্ষা সংক্রান্ত শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে "ফোন দেখে লিখছেন পরীক্ষার্থীরা, পাশে দাঁড়িয়ে কক্ষ পরদির্শক" শিরোনামে দৈনিক দেশ রূপান্তরে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়। সংবাদে উল্লেখ করা হয়, সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপলেজার মনসুর নগর ইউনিয়নের এম. মনসুর আলী জাতীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা স্মার্ট ফোন দেখে লিখছে, পাশে দাঁড়িয়ে আছেন কক্ষ পরিদর্শক।
আরো পড়ুন : কোটা বিরোধী আন্দোলন আজ মাঠে নামছেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা
জানা গেছে, মাত্র দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে এভাবেই উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা দিচ্ছে এই কেন্দ্রের প্রায় এক হাজার পরীক্ষার্থী! কেন্দ্র কমিটিকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে কব্জায় নিয়ে পরীক্ষার্থীদের জন্য এমন বন্দোবস্ত করেছে একটি চক্র। বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য শাখা মিলিয়ে অন্তত ৯টি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে এই কারবার চালাচ্ছে চক্রটি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার দুর্গম এক জনপদ মনসুর নগর ইউনিয়ন। সেখানে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতকের জন্য একটি মাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আলহাজ ফরহাদ আলী মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ। তার পাশেই এম মনসুর আলী জাতীয় উচ্চবিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়টিই অত্র অঞ্চলের এইচএসসি পরীক্ষার একমাত্র কেন্দ্র। দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় উপজেলা সদর থেকে এই কেন্দ্রে সড়ক ও নৌপথে পৌঁছাতে সময় লাগে চার থেকে ছয় ঘণ্টা। ফলে উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অফিস থেকে কেউ কেন্দ্র পরিদর্শনে যান না বললেই চলে। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রটিকে ঘিরে গত ছয় বছর ধরে যেন চলছে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে নকল বাণিজ্যের উৎসব।
প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে ১১ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে, ১ জনকে ৭ দিনের জেল দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এন/এস/ আই.কে.জে/
খবরটি শেয়ার করুন