ছবি: রয়টার্স
হরমুজ প্রণালিতে ‘নিরাপত্তাহীনতার’ জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আজ সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদি শাসকগোষ্ঠীর (ইসরায়েল) চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক অবরোধ আমাদের অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতার প্রধান উৎস।’ এর আগে তিনি ‘উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি’ নিয়ে কথা বলেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো সোমবার তেহরান সফরে গেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। লাভরভের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আরাঘচি। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা রাখতে চাইছে মস্কো।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রোববার বলেন, এ সফরে ‘আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি’ নিয়ে আলোচনা হবে।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সফরে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে লাভরভের।
বাঘাই বলেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা থমকে আছে। এই পরিস্থিতিতে বড় আকারের যুদ্ধ যাতে আবার ছড়িয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে চায় মস্কো।
অক্টোবরের শুরুর দিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পেজেশকিয়ানকে বলেছিলেন, মস্কো মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। এর পরই লাভরভের এই সফর হলো।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা দেশগুলোর মধ্যে রাশিয়া ও ইরান অন্যতম। দেশ দুটির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বেড়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশটির পরমাণু প্রকল্প বন্ধ করা। তবে আক্রান্ত হয়ে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল বন্ধ করে দেয় ইরান। যার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়।
স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কৌশলগত দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের সমুদ্রপথে বাণিজ্য হওয়া জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের উল্লেখযোগ্য অংশ পরিবহন করা হয়।
খবরটি শেয়ার করুন