ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের তরুণ ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ড এবং শীর্ষ দুই পত্রিকা—প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলার ঘটনা নিয়ে সম্পাদকীয় লিখেছে পাকিস্তানের প্রভাবশালী ইংরেজি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ আবারও সহিংসতার ঝাঁকুনিতে কাঁপছে। সম্প্রতি ঢাকায় গুলিবিদ্ধ এক ছাত্রনেতা সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর দেশজুড়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়।
ডন বলছে, বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। এই সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো দেশকে অরাজকতার দিকে যেতে না দেওয়া। রাজনৈতিক সহিংসতা ও মবতন্ত্রের কোনো ঠাঁই নেই। বাংলাদেশের এখন নতুন পথে এগোনোর সময়। এজন্য শান্তিপূর্ণভাবে পুরোপুরি গণতন্ত্রে ফেরা খুবই জরুরি। তা না হলে মানুষের সব ত্যাগ ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে।
আজ রোববার (২১শে ডিসেম্বর) 'বাংলাদেশ আপহিভ্যাল' (বাংলাদেশে অস্থিরতা) শিরোনামে প্রকাশিত সম্পাদকীয়তে ডন বলেছে, রাজনৈতিক সহিংসতা ও মবতন্ত্রের কোনো ঠাঁই নেই। শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিতে হবে। যারা সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন, তাদেরও শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ আবারও সহিংসতার ঝাঁকুনিতে কাঁপছে। সম্প্রতি ঢাকায় গুলিবিদ্ধ এক ছাত্রনেতা সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর দেশজুড়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়।
তারা বলছে, শরিফ ওসমান হাদি গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। ওই আন্দোলনের মাধ্যমেই শেখ হাসিনা ওয়াজেদের সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। তিনি 'ইনকিলাব মঞ্চ' নামের একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের মুখপাত্র ও আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের প্রার্থী ছিলেন।
ডনের সম্পাদকীয়তে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ শুরু হয়, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উত্তেজিত জনতা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে জড়িয়ে পড়ে। হামলার শিকার হয় দেশের শীর্ষ দুই পত্রিকা—প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার। ডেইলি স্টারের ভবনে আগুন দেওয়া হলে সেখানে কর্মরত সাংবাদিক ও কর্মচারীরা ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়েন। পরে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের উদ্ধার করে।
এতে বলা হয়, স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, শনিবার হাদির জানাজায় কয়েক লাখ মানুষ অংশ নেন। এতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী নেতা মুহাম্মদ ইউনূসও উপস্থিত ছিলেন। ইনকিলাব মঞ্চ হাদিকে 'ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে শহীদ' বলে আখ্যায়িত করেছে। অপরদিকে সন্দেহভাজন হত্যাকারী নাকি ভারতে পালিয়ে গেছেন।
এতে বলা হয়, নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক মাস। এই সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো দেশকে অরাজকতার দিকে যেতে না দেওয়া। রাজনৈতিক সহিংসতা ও মবতন্ত্রের কোনো ঠাঁই নেই।
আরো বলা হয়, হাদির হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিতে হবে। একইসঙ্গে সব রাজনৈতিক দলকে গণতান্ত্রিক নিয়ম মেনে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করতে হবে। বিশেষ করে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে সন্ত্রাসী হামলা থেকে রক্ষা করা জরুরি। যারা সহিংসতা উসকে দিচ্ছে, তাদেরও শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
এতে বলা হয়, শেখ হাসিনার শাসনামল ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অন্ধকার অধ্যায়। একজন নির্বাচিত নেতা থেকে ধীরে ধীরে তিনি কঠোর স্বৈরশাসকে পরিণত হন। সেই দমনমূলক শাসনেরই প্রতিক্রিয়ায় গত বছর গণঅভ্যুত্থান হয়।
ডনের সম্পাদকীয় বলছে, বাংলাদেশের এখন নতুন পথে এগোনোর সময়। এজন্য শান্তিপূর্ণভাবে পুরোপুরি গণতন্ত্রে ফেরা খুবই জরুরি। তা না হলে মানুষের সব ত্যাগ ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে।
প্রসঙ্গত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সংগঠিত সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে দেশের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো। একই সঙ্গে হামলার শিকার হয়েছে শীর্ষ ইংরেজি সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টারও। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সন্ত্রাসীরা কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো ও কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউতে ডেইলি স্টার-এর কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় কার্যালয় দুটি।
হামলার শুরু হলে প্রথম আলোর সাংবাদিক ও কর্মীরা প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত কার্যালয় ত্যাগ করেন। হামলার কারণে কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ায় গত শুক্রবারের প্রথম আলো প্রকাশ হয়নি। একই কারণে ওই দিন ডেইলি স্টারও প্রকাশ হয়নি। দুটি পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের কার্যক্রম বন্ধ ছিল প্রায় ১৭ ঘণ্টা। ঢাকার বাইরে কুষ্টিয়া, খুলনা ও সিলেটে প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর হয়েছে। চট্টগ্রাম, বগুড়া ও বরিশাল কার্যালয়েও হামলার চেষ্টা হয়েছে।
ডেইলি স্টার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘শাহবাগের ঘটনা এবং কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয় অভিমুখে একদল লোক আসার খবর পেয়ে ডেইলি স্টার কর্তৃপক্ষ সরকারের সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে যোগাযোগ করে। তারা সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং ঘটনাস্থলে সহায়তা করে। তবে আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করেছি, সমন্বিত ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হলে ছাদে আটকে পড়া আমাদের সহকর্মীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা চরম অনিশ্চয়তা ও মৃত্যুভয়ে কাটাতে হতো না।’
খবরটি শেয়ার করুন