ছবি: সংগৃহীত
‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে সিরাজগঞ্জ শহর বিএনপির ১১ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মো. মিন্টু শেখকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা বিএনপি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার পর তিনি ওই স্লোগান দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে তার স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে দলটির নেতা-কর্মী ও নেটিজেনদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।
জেলা বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, দলীয় দায়িত্বশীল পদে থাকা একজন নেতার প্রকাশ্য কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের দলীয় স্লোগান দেওয়ার বিষয়টিকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী হিসেবে দেখছে জেলা বিএনপি। এ কারণে মিন্টু শেখের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
জেলা বিএনপির দপ্তর থেকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, একটি মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়ার পর মিন্টু শেখ ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন। তার দেওয়া ওই স্লোগানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ‘চরম বিতর্কের’ সৃষ্টি হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, বিএনপির দায়িত্বশীল দলীয় পদে থেকে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের দলীয় স্লোগান দেওয়ার মাধ্যমে মিন্টু শেখ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। এ ঘটনায় কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে তিন দিনের মধ্যে লিখিত বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে। লিখিত বক্তব্য জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য রুমানা মাহমুদ এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক তানভীর মাহমুদ পলাশ নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে মিন্টু শেখের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে কী বক্তব্য দেওয়ার পর মিন্টু শেখ ওই স্লোগান দেন, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ঘিরে নানা আলোচনা হচ্ছে। ভিডিওতে তাকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে দেখা ও শোনা যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের অনেকে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। তবে এসব প্রতিক্রিয়ায় ব্যবহৃত নামের পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
নেটিজেন রাকিবুল হাসান তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু একটি দলের দায়িত্বশীল পদে থেকে অন্য দলের বহুল পরিচিত রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া হলে সেটি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করবে। বিএনপি শোকজ করে অন্তত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছে।’
আরেক নেটিজেন সুমাইয়া আক্তার লেখেন, ‘ভিডিও দেখে তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট জানা দরকার। তিনি কেন ওই স্লোগান দিয়েছেন, সেটি তার বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার হওয়া উচিত।’
আবার তানভীর আহমেদ নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘দলীয় শৃঙ্খলা থাকলে এমন ঘটনার ব্যাখ্যা চাওয়া স্বাভাবিক। তবে শোকজের পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটিই দেখার বিষয়।’
অন্যদিকে, মেহেদী হাসানের মন্তব্য, ‘রাজনৈতিক স্লোগান অনেক সময় মুখ ফসকে বা আবেগের কারণে চলে আসতে পারে। তাই শুধু ভিডিও দেখে কাউকে চূড়ান্তভাবে বিচার না করে তার ব্যাখ্যাও শোনা উচিত।’
ঘটনাটি নিয়ে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যেও আলোচনা চলছে। দলটির দায়িত্বশীল পদে থাকা কোনো নেতার বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড দলীয় নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, সেটি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে সাধারণত সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকে। মিন্টু শেখের ক্ষেত্রে জেলা বিএনপি আপাতত তার লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলীয় কর্মসূচিতে নেতাদের বক্তব্য ও স্লোগান এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে কোনো নেতার বক্তব্য ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না থেকে অল্প সময়ের মধ্যেই দলীয় বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে বড় রাজনৈতিক দলের স্থানীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাদের ক্ষেত্রে প্রকাশ্য বক্তব্য দেওয়ার সময় দলীয় অবস্থান ও রাজনৈতিক বার্তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে তিন দিনের মধ্যে মিন্টু শেখ কী ব্যাখ্যা দেন, তার ওপরই পরবর্তী সাংগঠনিক পদক্ষেপ অনেকটা নির্ভর করবে বলে জেলা বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তিনি তার লিখিত জবাবে স্লোগান দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করবেন। এরপর জেলা বিএনপি তার বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
স্থানীয় রাজনীতিতে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা চললেও বিএনপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি বা বহিষ্কারের কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। আপাতত কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে জেলা বিএনপি।
খবরটি শেয়ার করুন