শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৮ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান *** রুয়েটের বাসে প্রধানমন্ত্রী, ‘স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্যের জেরে আইনের আওতায় বাবা-ছেলে *** প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা, মিরপুরে গ্রেপ্তার ১ *** প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকালে রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় রাখার সিদ্ধান্ত *** মাজারের সিন্দুক ও মসজিদের দানবাক্স ভেঙে টাকা চুরি *** এআই-ছবি ছড়িয়ে ঘৃণা উসকে দেওয়া সব ধর্মের জন্য অবমাননাকর: রুমিন ফারহানা *** সাজেকে পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর গুলি, ৩ হাজার পর্যটক উদ্ধার *** সাজেককে ঘিরে ‘কী হচ্ছে’, প্রশ্ন শফিকুর রহমানের *** সৌদি আরবে ১২ বছরে ২০৮৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই ১০০ *** সারোগেসি পদ্ধতিতে প্রথম সন্তানের অপেক্ষায় নেদারল্যান্ডসের প্রথম সমকামী প্রধানমন্ত্রী

‘শাহবাগে বক্তৃতা আর পার্লামেন্টে বক্তৃতা এক নয়,’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সংসদে হট্টগোল

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৮:৪৪ অপরাহ্ন, ২৭শে আগস্ট ২০২৬

#

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালে বিরোধী দলের সদস্যদের প্রতিবাদ ও হট্টগোল করতে দেখা গেছে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে হস্তক্ষেপ করতে হয় এবং তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে সংসদ সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

বিশৃঙ্খলার এক পর্যায়ে সালাহউদ্দিন আহমদ তার মন্তব্য প্রত্যাহার করার কথা বললেও শান্ত হননি বিরোধী দলের সদস্যরা। তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক দুঃখপ্রকাশ এবং তার বক্তব্যকে সংসদীয় রেকর্ড থেকে স্থায়ীভাবে মুছে ফেলার (এক্সপাঞ্জ) দাবি জানান।

এর শুরু বিকেলে পটুয়াখালী-২ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের একটি প্রশ্নের পর। তার প্রশ্ন ছিল দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে। উত্তর দিতে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথমেই বলেন, শাহবাগ স্কয়ারে বক্তৃতা দেওয়া আর পার্লামেন্টে বক্তৃতা দেওয়া এক কথা না।

এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। তারা দাঁড়িয়ে তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেন। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলেননি। এরপরও প্রতিবাদ চলতে থাকায় সালাহউদ্দিন আহমদ স্পিকারের দিকে তাকিয়ে বলেন, 'মাননীয় স্পিকার, আমি আপনার শেল্টার চাই।'

বিরোধী দলের প্রবল বিরোধিতার মুখে মন্ত্রী তার মন্তব্য প্রত্যাহার করার কথা জানিয়ে বলেন, 'আই উইথড্র।' কিন্তু বিরোধী এমপিরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখপ্রকাশ এবং বক্তব্যটি কার্যপ্রণালী থেকে এক্সপাঞ্জ করার দাবিতে অটল থাকেন।

স্পিকারের বারবার শান্ত হওয়ার তাগিদ দেওয়ার পরও হট্টগোল চলতে থাকলে স্পিকার বিরোধী এমপিদের শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং নিজ আসনে বসার অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, 'আপনাদের তো কথা বলতে দিচ্ছি। এভাবে ঢালাওভাবে চিৎকার না করে নিয়ম মেনে মাইকে কথা বললে সবাই শুনতে পাবে এবং সংসদ সদস্যদের কথা বলার জন্য প্রচুর সুযোগ দেওয়া হবে। অনুগ্রহ করে পেছনের সারি থেকে কথা বলবেন না।'

একপর্যায়ে তিনি বলেন, 'এটা তো আওয়ামী লীগের আমল না। এখানে আপনারা ইচ্ছামতো সরকারকে ক্রিটিসাইজ (সমালোচনা) করতে পারছেন।'

এরপরও বিরোধী দলের এমপিরা দাঁড়িয়ে কথা বলতে থাকেন। এসময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, 'আপনাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে হবে। উত্তর যদি আপনাদের পছন্দ না হয়...বিরোধী দলের নেতাকে আমি মাইক দেবো। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমার দিকে তাকিয়ে বলেন।'

হট্টগোলের মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুনরায় বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, 'আমার যে শব্দচয়নে তাদের আপত্তি, সেটার জবাব আমি দিতে পারব। আমি বলেছি এটা জাতীয় সংসদ...।' এর মধ্যেই হট্টগোল চলতে থাকলে তিনি বিরোধী এমপিদের উদ্দেশ্য করে বলেন, 'সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকতে পারবেন, আমিও দাঁড়িয়ে থাকব। আমাকে যদি কথা বলতে না দেন, তাহলে কীসের বাকস্বাধীনতা।'

'এখানে প্রশ্ন সুনির্দিষ্ট করতে হবে। প্রথমে বলেছেন কোথায় ছিনতাই হয়েছে, কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি? স্পষ্ট বর্ণনা দরকার। সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন দরকার,' বলেন তিনি।

এরপর স্পিকার বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াত আমির শফিকুর রহমানকে কথা বলার সুযোগ দেন। তিনি বক্তব্য শুরু করলে সরকারি দলের কয়েকজন এমপি হট্টগোল করে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

বিরোধীদলীয় নেতা এসময় বলেন, 'এটি অশোভন। আমার বক্তব্যের সময় যদি বাধা দেওয়া হয়, তবে আমার এখানে দাঁড়িয়ে থাকার কোনো মানে হয় না।'

'স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, তিনি আজ সেই শব্দগুলো বললেন, সেগুলো আজই প্রথম বলেননি। অধিবেশনের শুরু থেকেই তিনি সবাইকে ছোট করে কথা বলছেন। এমনকি তিনি এই সংসদে শিক্ষকের ভূমিকা পালন করবেন বলেও বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা এখানে তার ছাত্র হতে আসিনি। তিনি যদি পড়াতে চান, তবে একটি বিশ্ববিদ্যালয় খুলুন যেখানে গিয়ে মানুষ তার লেকচার শুনবে,' বলেন বিরোধী দলের নেতা।

সংসদের মর্যাদা রক্ষায় বিরোধী দলীয় নেতা দাবি করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবশ্যই 'দুঃখপ্রকাশ' করতে হবে এবং তার বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করতে হবে। 'তবেই বিরোধী দল সংসদে থাকবে। না হলে এই ধরনের অপমানের মধ্যে আমরা এখানে বসে থাকতে পারি না,' বলেন শফিকুর রহমান।

এরপর স্পিকার বলেন, এই সংসদ আইন, নিয়ম ও বিধি অনুযায়ী চলে। কার্যপ্রণালী বিধি না মানলে সংসদ চলতে পারে না। আমি কিছু সদস্যের মধ্যে অসহিষ্ণুতা লক্ষ্য করছি। সংসদ পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হয় এবং এখানে সবার কথা বলার স্বাধীনতা রয়েছে।

প্রায় ১৫ মিনিট ধরে চলা এ হট্টগোলের মধ্যে স্পিকার আশ্বাস দেন, তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য পরীক্ষা করবেন এবং অসংসদীয় কিছু থাকলে তা এক্সপাঞ্জ করবেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250