রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২২শে ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর *** ইইউর ৬১ বাণিজ্য বাধার ৪৮টিরই সমাধান করা হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী *** সাংস্কৃতিক ঐক্যই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি: সংস্কৃতিমন্ত্রী *** নিখোঁজ শিশুদের জন্য পুলিশের বিশেষ সেল গঠনের দাবি স্বজনদের *** রোহিঙ্গা ইস্যু যেন অন্য কোনো সংকটে চাপা না পড়ে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার জন্মভূমি ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল, বিকেলে নাগরিক সংবর্ধনা *** শেষকৃত্য সম্পন্ন করার ১৫ দিন পর কারাগার থেকে ফোনকল—‘আপনার ছেলে জীবিত’ *** ফের সোনার দামে পতন, ভরিতে কত *** মিসরে মাদক মামলায় টিভি উপস্থাপকসহ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড *** গোপালগঞ্জে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ৩০

বিএনপির যেসব নেতা আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে!

বিশেষ প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০২:৫৪ অপরাহ্ন, ১৬ই জুলাই ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে ভবিষ্যতে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে বিএনপির প্রভাবশালী কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার অবস্থান বলে দাবি করেছেন দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক রাজনৈতিক বিশ্লেষক অবিনাশ পালিওয়াল। তার দাবি, তাদের মধ্যে রয়েছেন দলটির প্রভাবশালী জ্যেষ্ঠ নেতা ও মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তারা যে বাস্তববাদী অবস্থান সমর্থন করছেন, তা হলো আওয়ামী লীগের সংস্কারপন্থীদের রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া।

সালাহউদ্দিন, মির্জা ফখরুল, টুকু ও আমীর খসরু মনে করছেন, আওয়ামী লীগের সংস্কারপন্থীদের রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া হলে জামায়াতে ইসলামী-এনসিপি জোটের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার সীমিত হবে এবং একই সঙ্গে বিএনপি একটি দুর্বল আওয়ামী লীগকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে পারবে। এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরাও।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভবত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের আওয়ামী লীগের বিষয়ে এই দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সহানুভূতিশীল। তবে বিএনপির তরুণ কর্মী ও মধ্যম সারির নেতৃত্বের মধ্যে যে কঠোর অবস্থান রয়েছে, তা হলো আওয়ামী লীগের ওপর বর্তমান নিষেধাজ্ঞা ভবিষ্যতেও বহাল রাখা। তাদের মতে, আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন আবারও রাজপথকে অস্থিতিশীল করবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে দেবে।

বিএনপির একটি অংশ মনে করে, সাবের হোসেন চৌধুরীর মতো নেতাদের নেতৃত্বে একটি সংস্কারপন্থী আওয়ামী লীগ ভবিষ্যতে রাজনীতিতে ফিরতে পারে। তবে জামায়াত-এনসিপি আওয়ামী লীগকে রাজনীতির বাইরে রাখার পক্ষে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে কঠোর অবস্থান নিলেও দলটির কয়েকজন শীর্ষ নেতা বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আওয়ামী লীগের সংস্কারপন্থীদের জন্য ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পথ খোলা রাখার পক্ষে দলীয় নীতিনির্ধারণী ফোরামে মতামত দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক, লন্ডনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক কার্নেগি সাউথ এশিয়া প্রোগ্রামের নন-রেসিডেন্ট স্কলার অবিনাশ পালিওয়াল নিজের লেখায় এসব দাবি করেছেন। তার লেখাটি ‘ঢাকা শুড থিংক অব পলিটিক্স অব রিকনসিলিয়েশন’ শিরোনামে ১৫ জুলাই ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসে প্রকাশিত হয়েছে।

অবিনাশ পালিওয়াল লেখায় বলেন, ‘বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের বিষয়ে বিএনপির আনুষ্ঠানিক অবস্থান নির্ধারণে কঠোর অবস্থানপন্থীরাই বেশি প্রভাব ফেলছেন। এর কারণ এই নয় যে দলের অভ্যন্তরে তাদের ক্ষমতা বেশি; বরং এ মুহূর্তে বিএনপির আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের কোনো জরুরি প্রয়োজন নেই। সরকার বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অভিঘাত থেকে অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে ব্যস্ত এবং জনগণ দীর্ঘ অস্থিরতার পর তুলনামূলক শান্ত সময় উপভোগ করছেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলের নানা বাড়াবাড়ির স্মৃতি এখনও মানুষের মনে তাজা। ফলে দলটিকে দ্রুত রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার যে কোনো উদ্যোগ জনমনে পুরোনো ক্ষত ও আতঙ্ক আবার উসকে দিতে পারে। এ কারণেই বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি আপাতত একটি অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছেছে—অদূর ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগকে রাজনীতির বাইরে রাখার ব্যাপারে।’

তার দাবি, ‘আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়েছে। একদিকে রয়েছেন দলীয় সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুগত নেতারা, যারা এখনও তার নেতৃত্বেই আস্থা রাখেন। অন্যদিকে রয়েছেন সংস্কারপন্থীরা, যারা ব্যক্তি শেখ হাসিনার চেয়ে দল ও আদর্শকে বেশি গুরুত্ব দেন। উভয় পক্ষই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন চাইলেও বিএনপি তুলনামূলকভাবে সংস্কারপন্থীদের পুনর্বাসনের ব্যাপারে বেশি আগ্রহী, কারণ তাদের কম হুমকিস্বরূপ বলে মনে করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘যদি আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে শেখ হাসিনার অনুগত শিবিরের প্রতিনিধি ধরা হয়, তবে অপেক্ষাকৃত তরুণ সাবেক পরিবেশমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীকে সংস্কারপন্থী হিসেবে বিবেচনা করা যায়। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার এবং বিএনপি—উভয়েই চেয়েছিল, একটি ‘সংস্কারকৃত’ আওয়ামী লীগ সাবের হোসেনের নেতৃত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিক।’

অবিনাশ পালিওয়ালের মতে, ‘সাবের হোসেন চৌধুরী কেন সেই পথে হাঁটেননি, তার কারণ জামায়াত, এনসিপির বিরোধিতা যতটা নয়, তার চেয়ে বেশি ছিল আওয়ামী লীগের অনুগত অংশের প্রতিশোধমূলক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা। এ কারণেই বিএনপির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত—আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, যা মূলত অনুগত অংশকে আরও প্রান্তিক করে রাখা, একই সঙ্গে সংস্কারপন্থীদের জন্য ভবিষ্যতের দরজা খোলা রাখার একটি প্রচেষ্টা।

তিনি লেখেন, ‘জামায়াত ও এনসিপির আওয়ামী লীগ বিরোধিতা অনেক গভীর। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যেমন শিক্ষার্থীরা গুলির মুখে পড়েছিলেন, তেমনি জামায়াতও শেখ হাসিনার আমলে দীর্ঘদিন ধরে নিপীড়নের শিকার হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে তাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর যে সামান্য রাজনৈতিক অবস্থান তারা অর্জন করেছে, সেটিও হারিয়ে যেতে পারে।’

অবিনাশ পালিওয়াল বলছেন, ‘জামায়াত-এনসিপি জানে, দেশে ইসলামপন্থী রাজনীতির নির্বাচনী আবেদন সীমিত এবং বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি এখনও অনেক শক্তিশালী। এ কারণেই বিএনপি সরকারের প্রথমার্ধে তারা তাদের সীমিত রাজনৈতিক শক্তি রাজপথের আন্দোলনে ব্যয় করতে চায় না। কিন্তু তারা এটাও উপলব্ধি করে যে, যদি বিএনপির সহায়তায় একটি সংস্কারপন্থী আওয়ামী লীগ পুনরায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে আসে, তবে সেটিই জামায়াত-এনসিপি জোটের জন্য তাৎক্ষণিক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। সে ক্ষেত্রে এই দলগুলো আরও দৃঢ়ভাবে রাজপথে নামবে এবং একটি নতুন রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি হতে পারে।’

অবিনাশ লেখেন, ‘একটি বিষয় স্পষ্ট—বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নতুন করে বিবেচনা করা এবং সেখানে পুনর্মিলনের জন্য জায়গা তৈরি করা। ‘বিজয়ীই সবকিছু পাবে’—বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত এই ধারণা কোনো অপরিবর্তনীয় প্রাকৃতিক নিয়ম নয়। দীর্ঘমেয়াদে একটি টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আইনের শাসনভিত্তিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে স্বল্পমেয়াদি সমঝোতা মেনে নেওয়ার রাজনৈতিক সাহস প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগকে স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়া টেকসই কোনো সমাধান নয়। প্রকৃত প্রশ্ন হলো, দলটির সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনকে কীভাবে ঝুঁকি নয়, বরং একটি সুযোগে পরিণত করা যায়।’

বিএনপি আওয়ামী লীগ অবিনাশ পালিওয়াল

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

🕒 প্রকাশ: ০৪:৫৪ অপরাহ্ন, ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইইউর ৬১ বাণিজ্য বাধার ৪৮টিরই সমাধান করা হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

🕒 প্রকাশ: ০৪:৪৯ অপরাহ্ন, ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাংস্কৃতিক ঐক্যই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি: সংস্কৃতিমন্ত্রী

🕒 প্রকাশ: ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিখোঁজ শিশুদের জন্য পুলিশের বিশেষ সেল গঠনের দাবি স্বজনদের

🕒 প্রকাশ: ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

রোহিঙ্গা ইস্যু যেন অন্য কোনো সংকটে চাপা না পড়ে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

🕒 প্রকাশ: ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250