ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুধু একটি আর্থিক প্রস্তাব অনুমোদনের আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি সরকারের নীতিনির্ধারণ, সাংবিধানিক জবাবদিহি এবং জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। বাজেট পাসের দিন সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি তাই রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক—দুই দিক থেকেই বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এমন একটি দিনে সরকারদলীয় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সংসদ সদস্যের অনুপস্থিতি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানকে প্রকাশ্যে অসন্তুষ্ট করেছে। শুধু ক্ষোভ প্রকাশেই তিনি থেমে থাকেননি; অনুপস্থিত সদস্যদের কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়ে অধিবেশন শেষে নিজের সংসদ কার্যালয়ে তাদের ডেকে ব্যাখ্যা শুনেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনায় সরকারপ্রধান স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে সংসদীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি তিনি মেনে নিতে প্রস্তুত নন।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়। দেশের অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে এ বাজেট ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজেট অনুমোদনের দিন প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত সময়েরও আগে, সকাল পৌনে ১০টার দিকে সংসদ ভবনে উপস্থিত হন। পরে বেলা ১১টায় শুরু হওয়া মুলতবি অধিবেশনে অংশ নেন তিনি। এর আগে সংসদ সদস্যদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল যে, অধিবেশন শুরু হওয়ার অন্তত ১৫ মিনিট আগে সবাইকে উপস্থিত থাকতে হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, সকালের অধিবেশনে সরকারদলীয় অনেক সংসদ সদস্যের আসন ফাঁকা।
এই দৃশ্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি এড়ায়নি। অধিবেশন শুরুর পরপরই তিনি কয়েকজন হুইপকে ডেকে জানতে চান, গুরুত্বপূর্ণ এই দিনে কেন এতজন সংসদ সদস্য অনুপস্থিত। শুধু কারণ জানতে চাওয়াই নয়, যারা উপস্থিত ছিলেন না তাদের প্রত্যেককে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে হুইপরা সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা জানান এবং অধিবেশন শেষে তার সংসদ কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন।
অধিবেশন শেষে প্রধানমন্ত্রী নিজের সংসদ কার্যালয়ে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন। সেখানে হুইপদের পাশাপাশি অনুপস্থিত সংসদ সদস্যদেরও ডেকে পাঠানো হয়। একাধিক হুইপ ও সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাদের কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে বিষয়টি কেবল প্রশাসনিক রুটিন ছিল না; বরং সংসদীয় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারপ্রধান সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন।
ঘটনার পর অনুপস্থিত এক সংসদ সদস্য, যিনি ফরিদপুর অঞ্চলের একটি আসনের প্রতিনিধি, নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “সকালে যথা সময়ে অধিবেশনে যোগ না দেওয়ার কারণে প্রধানমন্ত্রী ডেকেছেন। আল্লাহই জানেন কপালে কী আছে।” তার বক্তব্যে স্পষ্ট যে প্রধানমন্ত্রীর তলবকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। একই সময়ে পাশে থাকা আরেক সংসদ সদস্য কিছুটা রসিকতার সুরে বলেন, “এমনিতেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাই না। যাক, এই উসিলায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটু সাক্ষাতের সুযোগ পাব।” দুটি মন্তব্যের মধ্যে ভিন্ন ধরনের মানসিক প্রতিক্রিয়া ফুটে উঠলেও উভয় ক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ যে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট।
একজন হুইপও বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই সরকারদলীয় সদস্যদের অনুপস্থিতি দেখে প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি কয়েকজন হুইপকে ডেকে অনুপস্থিত সদস্যদের বিষয়ে জানতে চান এবং নির্দেশ দেন, প্রত্যেক অনুপস্থিত সংসদ সদস্য যেন কারণ দর্শান। পাশাপাশি তাদের অধিবেশন শেষে প্রধানমন্ত্রীর সংসদ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়। বাজেট অনুমোদনের পর অধিবেশন মুলতবি হলে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ সময় নিজের কার্যালয়ে অবস্থান করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংসদে উপস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থান হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। গত কয়েক সপ্তাহে বিভিন্ন ঘটনায় তিনি সংসদীয় কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন। এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ ঘটে গত ১৭ জুন। সেদিন মৌলভীবাজার সফরে যাওয়ার পথে তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরে নামেন। সেখানে সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তাদের দেখে প্রধানমন্ত্রী বিরক্তি প্রকাশ করে প্রশ্ন করেন, “আপনারা এখানে কেন? আজকে আপনাদের সংসদ নেই?” তার এই মন্তব্যের পর পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী সেদিনই বিকেলে ঢাকায় ফিরে সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন।
দুটি ঘটনাকে পাশাপাশি রেখে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী সংসদকে কেবল আইন পাসের একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখছেন না; বরং তিনি এটিকে জনপ্রতিনিধিদের প্রধান কর্মক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছেন। তার বার্তা পরিষ্কার—জনপ্রতিনিধিদের প্রথম দায়িত্ব সংসদে উপস্থিত থাকা এবং জনগণের পক্ষে ভূমিকা রাখা। অন্য সব রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কর্মসূচি তার পরে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদ সদস্যদের মূল দায়িত্বের অন্যতম হলো আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন, সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং জনগণের প্রতিনিধিত্ব করা। বাজেট অধিবেশন এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনগুলোর একটি। কারণ এখানেই দেশের অর্থনৈতিক নীতি, উন্নয়ন পরিকল্পনা, কর কাঠামো এবং সরকারি ব্যয়ের দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হয়। ফলে এ ধরনের অধিবেশনে অনুপস্থিতি শুধু দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়; এটি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
এ কারণে সংসদে উপস্থিতির বিষয়টি অনেক গণতান্ত্রিক দেশেই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। জাতীয় সংসদেও দলীয় হুইপদের অন্যতম দায়িত্ব হলো গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং ভোটাভুটির সময় দলীয় অবস্থান কার্যকর রাখা। প্রধানমন্ত্রী হুইপদের মাধ্যমে অনুপস্থিত সদস্যদের তলব করে মূলত সেই সংসদীয় ব্যবস্থাকেই আরও কার্যকর করার বার্তা দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজেট অধিবেশনের দিন ঘটে যাওয়া ঘটনাটি তাৎক্ষণিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হলেও এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অনেক গভীর। একটি রাজনৈতিক দলে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, সংসদীয় দলে শৃঙ্খলা বজায় রাখাও ততটাই অপরিহার্য। কারণ সংসদেই সরকার তার নীতি, আইন ও বাজেটের সাংবিধানিক অনুমোদন লাভ করে। ফলে সরকারদলীয় সদস্যদের উপস্থিতি কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রদর্শনের বিষয় নয়; এটি সরকারের প্রতি তাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকারেরও বহিঃপ্রকাশ।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, সংসদ সদস্যদের ভূমিকা শুধু নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা বা দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তারা মূলত জাতীয় সংসদে জনগণের প্রতিনিধি। সংসদে উপস্থিত থেকে আইন প্রণয়ন, বাজেটের ওপর মতামত প্রদান, সরকারের নীতির পক্ষে বা প্রয়োজনে সমালোচনামূলক আলোচনা এবং নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করাই তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব। ফলে গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে অনুপস্থিতি গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্বের চেতনার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
দেশের সংসদীয় ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক সময় বিরোধী দলের বর্জন, আবার কখনো সরকারদলীয় সদস্যদের অনিয়মিত উপস্থিতি সংসদের কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। তবে বাজেট অধিবেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে সরকারদলীয় সদস্যদের অনুপস্থিতির বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই বেশি গুরুত্ব পায়। কারণ বাজেট পাসের মাধ্যমে একটি অর্থবছরের জন্য সরকারের আয়-ব্যয়, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার নির্ধারিত হয়।
সংসদ সচিবালয়ের সাবেক কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে বলেছেন, বাজেট অধিবেশন সংসদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনগুলোর একটি। এ সময় প্রতিটি সদস্যের সক্রিয় অংশগ্রহণ সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর করে। যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে বাজেট পাসে কোনো বাস্তব সংকট তৈরি হয়নি, তবুও ফাঁকা আসনের দৃশ্য সংসদের ভাবমূর্তির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে না।
এখানে হুইপদের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সংসদীয় ব্যবস্থায় হুইপ শুধু উপস্থিতি নিশ্চিত করেন না; দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, সদস্যদের সমন্বয় এবং গুরুত্বপূর্ণ ভোটাভুটির সময় দলীয় অবস্থান নিশ্চিত করাও তাদের দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী যখন হুইপদের মাধ্যমে অনুপস্থিত সদস্যদের কারণ জানতে চেয়েছেন এবং ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন, তখন সেটি সংসদীয় রীতির মধ্যেই পড়ে। একই সঙ্গে এটি দলীয় নেতৃত্বের কাছে হুইপদের জবাবদিহির বিষয়টিও সামনে নিয়ে আসে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপের আরেকটি উদ্দেশ্য হতে পারে ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করা। অর্থাৎ সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের কাছে পরিষ্কার বার্তা পৌঁছে দেওয়া যে, গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কার্যক্রমে অনুপস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং বিষয়টি দলীয় নেতৃত্বের নজর এড়াবে না। এতে সংসদে উপস্থিতির হার বাড়ার পাশাপাশি সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ববোধও জোরদার হতে পারে।
অন্যদিকে, জনগণের প্রত্যাশার বিষয়টিও এখানে সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভোটাররা একজন প্রার্থীকে নির্বাচিত করেন মূলত সংসদে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার জন্য। নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সংসদে উপস্থিত থেকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেওয়াই একজন সংসদ সদস্যের মৌলিক সাংবিধানিক দায়িত্ব। ফলে সংসদে অনুপস্থিতির বিষয়টি জনমনে প্রশ্ন তৈরি করতেই পারে।
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক দুটি পদক্ষেপ—একটি বাজেট অধিবেশনে অনুপস্থিত সদস্যদের কারণ দর্শানোর নির্দেশ এবং অন্যটি সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে করা মন্তব্য—একসঙ্গে বিবেচনা করলে একটি ধারাবাহিক রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট হয়। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, সংসদ চলাকালে অন্য কর্মসূচির চেয়ে সংসদীয় দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সিলেটে তিনি যখন বলেছিলেন, “আপনারা এখানে কেন? আজকে আপনাদের সংসদ নেই?”—তখনও একই বার্তা দিয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরীর ঢাকায় ফিরে সংসদে যোগ দেওয়া প্রমাণ করে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা দলীয় সংসদ সদস্যদের কাছে কতটা গুরুত্ব বহন করে।
বাজেট অধিবেশনের দিন অনুপস্থিত ফরিদপুর অঞ্চলের এক সংসদ সদস্যের উদ্বেগমিশ্রিত মন্তব্য—“সকালে যথা সময়ে অধিবেশনে যোগ না দেওয়ার কারণে প্রধানমন্ত্রী ডেকেছেন। আল্লাহই জানেন কপালে কী আছে।”—এবং অপর এক সদস্যের রসিকতা—“এমনিতেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাই না। যাক, এই উসিলায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটু সাক্ষাতের সুযোগ পাব।”—ঘটনার মানবিক দিকটিও তুলে ধরে। একদিকে নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা ও জবাবদিহির চাপ, অন্যদিকে পরিস্থিতিকে সহজভাবে নেওয়ার মানসিকতা—দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই সেখানে দেখা গেছে।
সব মিলিয়ে বাজেট পাসের দিনের ঘটনাটি সংসদীয় রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেই সংসদ কার্যকর হয় না; কার্যকর হয় সদস্যদের সক্রিয় উপস্থিতি, বিতর্কে অংশগ্রহণ এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রী অনুপস্থিত সদস্যদের কারণ জানতে চেয়ে এবং সরাসরি তাদের ব্যাখ্যা শুনে যে অবস্থান নিয়েছেন, তা সংসদীয় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার একটি সুস্পষ্ট প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ভবিষ্যতে এই পদক্ষেপ সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের আচরণে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—সংসদে উপস্থিতির প্রশ্নে সরকারের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব আপস করতে রাজি নয়। গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন, বিশেষ করে বাজেট পাসের মতো সাংবিধানিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ দিনে অনুপস্থিতি আর কেবল একটি প্রশাসনিক বিষয় হিসেবে দেখা হবে না; বরং তা রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা, দলীয় শৃঙ্খলা এবং জনগণের প্রতি একজন নির্বাচিত প্রতিনিধির কর্তব্য পালনের মানদণ্ড হিসেবেই মূল্যায়িত হবে। সেই অর্থে বাজেট অধিবেশনের এই ঘটনাকে কেবল কয়েকজন এমপির অনুপস্থিতির ঘটনা বলে দেখার সুযোগ নেই; বরং এটি সংসদীয় সংস্কৃতি, রাজনৈতিক জবাবদিহি এবং প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবেই বিবেচিত হওয়া উচিত।
খবরটি শেয়ার করুন