শনিবার, ২৯শে আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৪ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৯৯৬ *** হামের উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, মোট ৯৬৩ *** স্কুল ভেসে গেছে, জঙ্গলে গাছে উঠে বেঁচেছে ৮ বছরের শিশুটি, ফিরল মায়ের কোলে *** জুলাই শহীদ ও গুমের শিকার পরিবারের ৭৪ জনকে নিয়োগপত্র দিলেন প্রধানমন্ত্রী *** কান্নাঝরা কণ্ঠে ইমরানের মুক্তি চাইলেন মিয়াঁদাদ *** অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিলে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** ট্রাম্পের ‘হঠকারিতার’ মূল্য দিচ্ছে মার্কিন শিক্ষাখাত, কানাডায় ফিরছেন খ্যাতনামা অধ্যাপকেরা *** ‘মা-বাবাকে ছেড়ে যেও না’, রাখি বন্ধনে বোনকে বার্তা পাঠিয়ে কিশোরের আত্মহত্যা *** ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হওয়ায় দুঃখপ্রকাশ করলেন হাসনাত আবদুল্লাহ *** নেপালের বন্যার প্রভাব কি বাংলাদেশে পড়বে, গঙ্গা–পদ্মায় পানি বাড়ার শঙ্কা কতটা

ট্রাম্পের ‘হঠকারিতার’ মূল্য দিচ্ছে মার্কিন শিক্ষাখাত, কানাডায় ফিরছেন খ্যাতনামা অধ্যাপকেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৩:৪৬ অপরাহ্ন, ২৯শে আগস্ট ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার ও চাপ বৃদ্ধি করার পটভূমিতে আমেরিকান ক্যাম্পাসগুলো থেকে কয়েক ডজন খ্যাতনামা অধ্যাপক ও গবেষককে নিজেদের দেশে নিয়ে আসছে কানাডা।

গত বৃহস্পতিবার কানাডার শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলি ৬৪ জন বিশ্বমানের শিক্ষাবিদ ও গবেষককে নিজ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন।

আগামী আট বছরে এই গবেষকদের পেছনে ৫০ কোটি কানাডিয়ান ডলারের (প্রায় ৩৫ কোটি মার্কিন ডলার) বেশি অর্থ সহায়তা দেবে কানাডা সরকার। নিয়োগপ্রাপ্ত ৬৪ জন অধ্যাপকের মধ্যে ৪৮ জনই আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড, কর্নেল এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) মতো বিশ্বখ্যাত শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে।

তারা চিকিৎসা বিজ্ঞান, প্রকৌশল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং জলবায়ু বিজ্ঞানের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান খাতগুলোতে গবেষণা চালাবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর দেশটির অভিজাত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর তদারকি ও রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি করেছেন। সরকারের ঘোষিত রাজনৈতিক এজেন্ডার সঙ্গে একাত্ম না হলে এবং নির্দেশিকা মেনে না চললে প্রতিষ্ঠানগুলোর কেন্দ্রীয় সরকারি তহবিল ও গবেষণা অনুদান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি এবং পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণায় রাষ্ট্রীয় অনুদান কারা পাবেন—সে বিষয়ে হোয়াইট হাউসের একক প্রভাব বিস্তারের এই প্রক্রিয়ায় গভীর উদ্বেগ ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে মার্কিন একাডেমিক অঙ্গনে। ফলে অনেক গবেষকই যুক্তরাষ্ট্রে তাদের গবেষণার ভবিষ্যৎ ও স্বাধীন পরিবেশ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে উঠেছেন।

ভ্যাঙ্কুভারের ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় (ইউবিসি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কানাডার শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলি মার্কিন প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থানের সরাসরি সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘যখন কিছু দেশ গবেষণার বাজেট ছাঁটাই করছে এবং শিক্ষাবিষয়ক স্বাধীনতার নীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, তখন আমরা বিজ্ঞানের ওপর আমাদের আস্থা দ্বিগুণ করছি এবং গবেষণায় দ্বিগুণ বিনিয়োগ করছি।’

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন কানাডার এই পদক্ষেপকে বাণিজ্য যুদ্ধ বা রাজনৈতিক সংঘাতের অংশ হিসেবে দেখবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে জোলি স্পষ্ট করেন, কানাডা নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিজেই নিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘মার্কিন প্রশাসন তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, আর আমরা নিচ্ছি আমাদের সিদ্ধান্ত। এই অসাধারণ অধ্যাপক ও বিজ্ঞানীরা যে কানাডায় আসছেন, তাতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।’

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গবেষকদের এই বিশাল দলটিকে কানাডায় নিয়ে আসার অর্থায়ন হচ্ছে দেশটির ‘গ্লোবাল ইম্প্যাক্ট+ রিসার্চ ট্যালেন্ট ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায়। বিশ্বমানের গবেষকদের কানাডার প্রতি আকৃষ্ট করতে ১৭০ কোটি কানাডিয়ান ডলারের (প্রায় ১২০ কোটি মার্কিন ডলার) বিশেষ তহবিল গঠন করেছে কানাডা সরকার।

কানাডার শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। নতুন এই প্রক্রিয়ায় ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়া (ইউবিসি) ৯ জন এবং টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় ৬ জন মার্কিন গবেষককে তাদের অনুষদে যুক্ত করেছে।

ইউবিসির প্রেসিডেন্ট ও ভাইস চ্যান্সেলর ড. বেনোয়া-আঁতোয়ান বেকন বলেন, ‘এই নয়জন ব্যতিক্রমী গবেষককে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা শিহরিত, যাদের গবেষণা মানবজাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।’

টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট মেলানি উডিন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও একাডেমিক অঙ্গনে যখন চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে, তখন কানাডা সরকারের এই কৌশলগত সহায়তা আমাদের দেশে একটি সুদৃঢ় গবেষণা পরিবেশ তৈরিতে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখবে।’

যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে কানাডায় পাড়ি জমানো অধ্যাপকদের অনেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ ও একাডেমিক স্বাধীনতার ওপর আঘাতকে তাদের দেশত্যাগের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান আরএনএ বায়োলজি গবেষক ফিলিপ জামোর এনপিআরের সহযোগী সংস্থা ডব্লিউবিইউআর-কে জানান, গবেষণা প্রতিষ্ঠানে নতুন মেধাবীদের যুক্ত করার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

অধ্যাপক জামোর বলেন, ‘আমেরিকার বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আমি আমার সেরা গবেষণাটি চালিয়ে যেতে পারছি না। কাজের জন্য বিশ্বসেরা তরুণ গবেষকদের যে আমি দলে টানব, সেই সুযোগ নেই; এমনকি তারা এখানে নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারবে—সেই প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ক্ষমতাও আমার নেই।’

অন্যদিকে ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয় আমহার্স্ট ছেড়ে কানাডার ঐতিহ্যবাহী ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেওয়া ডিজিটাল মিডিয়া বিশেষজ্ঞ ইথান জাকারম্যান এক বিবৃতিতে জানান, বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র ও মুক্ত চিন্তার ওপর তৈরি হওয়া হুমকি মোকাবিলায় এটি একটি দারুণ সুযোগ।

ইথান জাকারম্যান বলেন, ‘এমন এক সময়ে বিশ্বজুড়ে যখন কর্তৃত্ববাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, ঠিক তখন যেসব গবেষণা বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক হুমকিকে চ্যালেঞ্জ করে—কানাডা সরকার সেগুলোকে অকুণ্ঠচিত্তে সমর্থন দিচ্ছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে এই ধরনের গবেষণা সহায়তার গুরুত্ব অপরিসীম।’

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রশাসনের নীতিগত কড়াকড়ির কারণে মেধাপাচারের (ব্রেইন ড্রেইন) যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, কানাডা তার ‘গ্লোবাল ইম্প্যাক্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে কৌশলগতভাবে সেটির পূর্ণ সুযোগ নিচ্ছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে উচ্চতর গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে আগামী দিনগুলোতে কানাডার অবস্থান আরও মজবুত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250