বুধবার, ৪ঠা মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৯শে ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ইরানের মাশহাদ শহরে দাফন করা হবে খামেনিকে *** ড. ইউনূস কি রাষ্ট্রপতি হওয়ার অপেক্ষায়? *** ‘পুলিশ হত্যাকাণ্ড কোনো অবস্থাতেই দায়মুক্তি পেতে পারে না’ *** হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি স্থানে ৪ বাংলাদেশি জাহাজ *** দুদিনের সফরে ঢাকায় মার্কিন সহকারী মন্ত্রী পল কাপুর *** আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব *** ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না আরব আমিরাত *** ‘ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতে বাংলাদেশ আঘাতপ্রাপ্ত হবে’ *** যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে ‘পুনর্গঠন-বাণিজ্য’ করবে চীন, কিনবে সস্তায় তেল *** ঢাকার আইসিইউতে ৭ শতাংশ রোগীর শরীরে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক

সৌরজগতের বামন গ্রহে মিলেছে প্রাণের ইঙ্গিত, দাবি নাসার

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৪:০৫ অপরাহ্ন, ২৩শে আগস্ট ২০২৫

#

মিশনের সময় সেরেসের পৃষ্ঠে উজ্জ্বল, প্রতিফলিত অঞ্চল লক্ষ্য করেন বিজ্ঞানীরা। ছবি: নাসা

বহু দশক ধরে ভিনগ্রহের প্রাণীর খোঁজে মহাকাশের দূর-দূরান্তে পর্যবেক্ষণ করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। অজানা গ্রহ, দূরবর্তী নক্ষত্রপুঞ্জ—সবখানে চলছে প্রাণের সম্ভাবনার সন্ধান। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে, এত দূরে নজর না দিলেও হবে।

নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, সৌরজগতের ভেতরেই বরফাচ্ছাদিত বামন গ্রহ সেরেস একসময় মাইক্রোবিয়াল প্রাণ বা অণুজীব ধারণে সক্ষম ছিল। এই বামন গ্রহ মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝখানে অবস্থিত। ভিনগ্রহের প্রাণীর খোঁজে এটি হতে পারে এক যুগান্তকারী আবিষ্কার।

বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত নন যে, সেরেসে কখনো সত্যিই প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কি না। তবে তারা এখন বিশ্বাস করেন, একসময় সেখানে প্রাণের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ছিল।

‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’-এ প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে জানানো হয়েছে, এই বরফাচ্ছাদিত বামন গ্রহ এখন জমাটবদ্ধ, লবণাক্ত মরুভূমির মতো। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, একসময় এতে দীর্ঘস্থায়ী অভ্যন্তরীণ তাপ এবং প্রাণ টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক ‘জ্বালানি’ ছিল।

অন্য গ্রহ বা চাঁদে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে বহুদিন ধরেই গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে নাসা। তবে সেরেস এত দিন ছিল একপ্রকার অবহেলিত। মহাকাশের ‘কম গুরুত্বপূর্ণ’ বস্তু হিসেবেই দেখা হতো একে। অথচ সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, হয়তো এই বামন গ্রহে একসময় প্রাণের বিকাশের অনুকূল পরিবেশ ছিল।

২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সেরেসকে প্রদক্ষিণ করেছিল নাসার ডন মিশন। সেই মিশনের তথ্য বিশ্লেষণ করে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য তুলে এনেছেন গবেষকেরা। মিশনের সময় সেরেসের পৃষ্ঠে উজ্জ্বল, প্রতিফলিত অঞ্চল লক্ষ করেন বিজ্ঞানীরা। সেগুলো ছিল লবণাক্ত জলীয় দ্রবণের শুকিয়ে যাওয়া চিহ্ন। একসময় সেখানে একটি মহাসাগর (সাব–সারফেস) ছিল, যা এখন জমাট বেঁধে গেছে। এই মহাসাগরে ছিল জৈব অণু—অর্থাৎ, জীবনের মূল উপাদান।

অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির পিএইচডি গবেষক স্যাম কুরভিলের নেতৃত্বে একদল গবেষক তাপীয় ও রাসায়নিক মডেলিংয়ের মাধ্যমে দেখিয়েছেন, আজ থেকে প্রায় ২৫০ কোটি থেকে ৪০০ কোটি বছর আগে সেরেসের অভ্যন্তরে উপস্থিত ছিল তেজস্ক্রিয় উপাদানের ক্ষয়জনিত তাপ। সেই তাপই উৎপন্ন করেছিল হাইড্রোথার্মাল ফ্লুইড—অর্থাৎ, গরম পানির সঙ্গে মিশে থাকা গ্যাস ও খনিজ পদার্থ।

এ ধরনের হাইড্রোথার্মাল পরিবেশ পৃথিবীতেও দেখা যায় গভীর সমুদ্রে, যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছায় না। তবে শুধু রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি নিয়ে অণুজীব বাঁচতে পারে। এদের বলা হয় কেমোট্রোফিক অণুজীব।

স্যাম কুরভিল বলেন, ‘পৃথিবীতে গভীর ভূগর্ভস্থ গরম পানি যখন মহাসাগরের পানির সঙ্গে মেশে, তখন তা অণুজীবের জন্য একরকম রাসায়নিক শক্তির ভোজের মতো হয়ে দাঁড়ায়। যদি সেরেসের সাব-সারফেস মহাসাগরেও এমন হাইড্রোথার্মাল সক্রিয়তা ঘটে থাকে, তাহলে সেটির তাৎপর্য হবে বিশাল।’

তবে আজকের দিনে সেরেস এক বরফঢাকা, লবণাক্ত মরুভূমি। এর অভ্যন্তরের তেজস্ক্রিয় তাপ অনেক আগেই নিঃশেষ হয়েছে। বর্তমান তাপমাত্রা নেমে আসে প্রায় মাইনাস ৮১ ডিগ্রি ফারেনহাইটে। যতটুকু তরল পানি এখনো অবশিষ্ট, তা ঘন লবণের আস্তরণের নিচে জমাট অবস্থায় রয়েছে।

এখন সেখানে জীবনের অস্তিত্বের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। তবু বিজ্ঞানীদের মতে, এর তাৎপর্য অপরিসীম। কারণ, শুধু সেরেস নয়, সৌরজগতের আরও অনেক ছোট, বরফাচ্ছাদিত উপগ্রহ বা গ্রহাণু—যেমন ইউরোপা বা এনসেলাডাস তাদের ইতিহাসেও এমন সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকতে পারে।

গবেষক দলের ধারণা, সৌরজগতের প্রাথমিক কালে এমন ছোট ছোট বস্তুর সংখ্যাই ছিল বেশি এবং এদের অনেকের মধ্যেই ছিল প্রাণের উপযোগী পরিবেশ।

অর্থাৎ, আমাদের চারপাশে—বহু আলোকবর্ষ দূরে নয়, বরং এই সৌরজগতেই—ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে পারে বহু হারিয়ে যাওয়া জীববৈচিত্র্যের চিহ্ন, যেগুলোর সন্ধানে আগামী প্রজন্মের মহাকাশ অভিযাত্রীদের যেতে হবে খুব দূরে নয়, শুধু একটু কাছ থেকে নজর দিলেই চলবে।

জে. এস/

মহাকাশ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250