বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ১৯ জুলাই রাজধানীর রামপুরায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের ছাদের রডে ঝুলন্ত অবস্থায় এক তরুণকে গুলি করে পুলিশ। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি এবং আরও দুজনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আরেক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং গ্রেপ্তার এক আসামিকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার (২৮ জুন) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় দেন। এই ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ এই মামলার আসামি মোট পাঁচজন। এর মধ্যে পলাতক রয়েছেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। এ মামলায় কারাগারে আছেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকার।
এর মধ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমানকে।
আর রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
কারাগারে থাকা রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রামপুরা হত্যাকাণ্ড মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী এলাকায় মো. নাদিম হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা, একই দিন বনশ্রী এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলি করে গুরুতর আহত করা এবং একই দিন বিকেলে বনশ্রী এলাকায় সাত বছর বয়সী বাসিত খান মুসার মাথা ভেদ করে গুলি ও সেই গুলিতেই দাদি মায়া ইসলামের মৃত্যুসহ তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা গত বছরের ৩১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদন যাচাই–বাছাই করে প্রসিকিউশন গত বছরের ৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে। ট্রাইব্যুনাল একই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয় ২৩ অক্টোবর। আর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয় চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি। এই মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হয় ৩ ফেব্রুয়ারি। তার পর থেকে মামলাটি রায়ের অপেক্ষায় ছিল।
তারপর এই মামলার রায় ৪ মার্চ ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। তবে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই দিন রায় ঘোষণা হয়নি। পরে ১৫ জুন এই মামলার রায় ঘোষণার জন্য নতুন করে দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
খবরটি শেয়ার করুন