ছবি: সংগৃহীত
শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের পথে যুক্তরাজ্য। ব্রিটেন সরকার ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও জনমত যাচাই শুরু করেছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি।
স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার (২০শে জানুয়ারি) ব্রিটিশ পার্লামেন্টে (হাউস অব কমন্স) প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল ঘোষণা করেন, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী তিন মাসব্যাপী দ্রুত জনমত যাচাই প্রক্রিয়া চলবে। এর আওতায় অভিভাবক, তরুণ সমাজ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হবে।
এই প্রকল্পের আওতায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে:
স্কুলে ফোন ব্যবহার বন্ধ: ব্রিটিশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ডিফল্টভাবে ‘ফোন-মুক্ত’ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তদারকি ক্ষমতা: শিক্ষা পরিদর্শক সংস্থা ‘অফস্টেড’-কে ক্ষমতা দেওয়া হবে যাতে তারা স্কুলে ফোন ব্যবহারের নীতিমালা সঠিকভাবে পালিত হচ্ছে কি না তা যাচাই করতে পারে।
অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণ: প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্ল্যাটফর্মের এমন ফিচার বা অ্যালগরিদম সরিয়ে নিতে বাধ্য করা হতে পারে, যা শিশুদের আসক্তি বাড়িয়ে দেয়।
এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে জোরালো দাবি তুলেছেন সম্প্রতি আত্মহত্যা করা কিশোরী ব্রায়ানা ঘের মা এস্থার ঘের। তিনি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে লেখা এক চিঠিতে জানান, সোশ্যাল মিডিয়া শিশুদের বাস্তব জগতের সামাজিক যোগাযোগ কমিয়ে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘ব্রায়ানার ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়া তাকে বাস্তব জগতের বন্ধু থাকা সত্ত্বেও অনলাইনে বন্দী করে ফেলেছিল। আমি মনে করি শিশুদের এই ডিজিটাল গোলকধাঁধা থেকে বের করে আনা জরুরি।’
উল্লেখ্য, ১৬ বছর বয়সী রূপান্তরকামী কিশোরী ব্রায়ানা ঘে ২০২৩ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি খুন হয়। দীর্ঘ পরিকল্পনা করে দুই কিশোর-কিশোরী তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।
সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ন্যাশনাল এডুকেশন ইউনিয়ন (এনইইউ) এবং বেশ কয়েকজন লেবার এমপি। তবে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক এই প্রক্রিয়াকে ‘সময়ক্ষেপণ’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, অনেক বিশেষজ্ঞ ও শিশু অধিকার সংস্থা এই নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যামি ওরবেন বিবিসিকে জানান, বয়সের ভিত্তিতে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করা কতটা ফলপ্রসূ হবে তার জোরালো প্রমাণ এখনো নেই। এনএসপিসিসি (এনএসপিসিসি)-সহ ৪২টি সংস্থা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, এই ধরনের পাইকারি নিষেধাজ্ঞা শিশুদের নিরাপত্তার চেয়ে বরং এক ধরনের ‘ছদ্ম নিরাপত্তা’ তৈরি করবে, যা শিশুদের ইন্টারনেটের আরও অন্ধকার ও অনিরাপদ কোণগুলোতে ঠেলে দিতে পারে।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে শিশু-কিশোরদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার আইন কার্যকর করে। দেশটিতে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার নতুন আইন কার্যকরের প্রথম কয়েক দিনে মেটা প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার অ্যাকাউন্ট ব্লক বা বন্ধ করে দিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার সেই পথ অনুসরণ করেই এখন যুক্তরাজ্য এবং আরও বেশ কিছু দেশ একই ধরনের কঠোর আইন প্রণয়নের কথা ভাবছে।
খবরটি শেয়ার করুন