ছবি: সংগৃহীত
খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, সাম্প্রতিক কালে সব দলের অংশগ্রহণে যেসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভোট প্রায় সমান। বিএনপি ও তাদের সমমনা বা আওয়ামী লীগ ও তাদের সমমনা দলগুলো নির্বাচনে অংশ না নিলে তাদের সমর্থকদের ভোট দিতে যাওয়ার কথা নয়। কোনো খেলার মাঠে জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা না হলে দর্শক-সমর্থকেরা দেখতে যায় না; ঠিক তেমনি নিরপেক্ষ ভোটারদেরও ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। এ ক্ষেত্রে নির্বাচনটা হয়ে যেতে পারে একতরফা।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভোট প্রায় সমান। এক-তৃতীয়াংশ হারে। অবশিষ্ট এক-তৃতীয়াংশ নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকে। ভোটের সময় তারা কোনো না কোনো দল বা জোটের দিকে ঝুঁকে পড়ে। মূলত তাদের সমর্থনই নির্বাচনের ফলাফলের প্রধান নিয়ামক। দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচনগুলোয় বরাবরই বিরোধী দলের বর্জন কিংবা এ ধরনের কারণে ভোটারের উপস্থিতি নগণ্য হয়, এমনটাই লক্ষণীয় হয়েছে।
তিনি বলেন, জনগণের অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল না। যেমনটা ১৯৭৯ ও ১৯৮৫ সালের গণভোট এবং ১৯৮৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্রে গেছেন নগণ্য ভোটার। কিন্তু ‘প্রদত্ত ভোট’ দেখানো হয় লাখ লাখ। অবশ্য সংবিধান ও জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশে কতসংখ্যক ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে, এর কোনো ন্যূনতম সীমারেখা টানা হয়নি।
২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ প্রস্তুতি দেখেননি সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। তবে তারা নির্বাচনের আগে কিংবা ভোটের দিন যথাযথ প্রচার চালাতে সক্ষম হয়নি। এমনকি প্রায় সব ভোটকেন্দ্রে ছিল না তাদের কোনো এজেন্ট। তাদের কর্মী-সমর্থকেরা হয়েছিলেন কারারুদ্ধ কিংবা এলাকাছাড়া। অন্যদিকে, বিরোধী দলের মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে জড়তা লক্ষ করা গেছে। তাদের প্রার্থীদের কেউ কেউ নির্বাচনে এলাকামুখী হননি। তবে যেকোনোভাবে গোটা দশেক আসন বিরোধী দল পেয়ে যায়।
দৈনিক প্রথম আলোতে লেখা এক উপসম্পাদকীয়তে আলী ইমাম মজুমদার এসব কথা বলেন। তার লেখাটি 'নির্বাচনের পথ যে কারণে এবড়োখেবড়ো' শিরোনামে ২০২৩ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর পত্রিকাটির ছাপা সংস্করণে প্রকাশিত হয়। পুরনো এ লেখা আজ সোমবার (৫ই জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর নতুন করে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসে। লেখাটির বিভিন্ন অংশ কপি করে ও ফটোকার্ড বানিয়ে শেয়ার করাসহ নানামুখী আলোচনা করছেন রাজনীতিমনস্ক নেটিজেনেরা।
এদিকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭০ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে যাচ্ছেন বলে এক জরিপ প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে। আর জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে এই জনমত ১৯ শতাংশ। বেসরকারি সংস্থা এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি) এই জনমত জরিপ চালায়। আজ বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের সামনে জরিপের ফল তুলে ধরেন ইএএসডির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হায়দার তালুকদার।
ধারণা করা হচ্ছে, ইএএসডির ওই জরিপের ফলাফলের পরিপ্রেক্ষিতে অনলাইনে আলোচনা-সমালোচনা, পর্যালোচনার জন্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারের পুরনো আলোচনাকে সামনে আনা হয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক কালে সব দলের অংশগ্রহণে যেসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভোট প্রায় সমান। অবশ্য কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে একাধিকবার স্পষ্ট করা হয়েছে।
আলী ইমাম মজুমদার নিজের লেখা উপসম্পাদকীয়তে বলেন, সাম্প্রতিক কালে সব দলের অংশগ্রহণে যেসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভোট প্রায় সমান। এক-তৃতীয়াংশ হারে। অবশিষ্ট এক-তৃতীয়াংশ নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকে। ভোটের সময় তারা কোনো না কোনো দল বা জোটের দিকে ঝুঁকে পড়ে। মূলত তাদের সমর্থনই নির্বাচনের ফলাফলের প্রধান নিয়ামক।
তিনি বলেন, বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো নির্বাচনে অংশ না নিলে তাদের সমর্থকদের ভোট দিতে যাওয়ার কথা নয়। কোনো খেলার মাঠে জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা না হলে দর্শক-সমর্থকেরা দেখতে যায় না; ঠিক তেমনি নিরপেক্ষ ভোটারদেরও ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। এমনকি সরকারি দলের সমর্থকেরাও কেন্দ্রে যেতে ততটা উৎসাহী হন না।...এ ক্ষেত্রে নির্বাচনটা হয়ে যেতে পারে একতরফা। উপস্থিতির হার যা-ই হোক, যারা পরিচালনা করবেন, তারা অতীতের ধারাবাহিকতায় প্রদত্ত ভোট ও ফলাফল নির্ধারণ করে দেবেন।
তিনি লেখেন, যেমনটা ১৯৭৯ ও ১৯৮৫ সালের গণভোট এবং ১৯৮৮ সালের সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্রে গেছেন নগণ্য ভোটার। কিন্তু ‘প্রদত্ত ভোট’ দেখানো হয় লাখ লাখ। অবশ্য সংবিধান ও জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশে কতসংখ্যক ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে, এর কোনো ন্যূনতম সীমারেখা টানা হয়নি। এমনই পরিস্থিতিতে ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো বর্জন করলে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হয়ে যান সরকারি দল ও জোটের প্রার্থীরা।
তিনি বলেন, দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচনগুলোয় বরাবরই বিরোধী দলের বর্জন কিংবা এ ধরনের কারণে ভোটারের উপস্থিতি নগণ্য হয়, এমনটাই লক্ষণীয় হয়েছে। বলতে হয়, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও এর পেছনে অবদান রাখে। তারা আন্তরিক হলে এমনটি ঘটার কথা ছিল না।
আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে গণভোট নিয়ে সারাদেশে প্রচারণার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করা ভোটের গাড়ির কুমিল্লা জেলায় কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলী ইমাম মজুমদার বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচন দেখতে পাইনি। বিশেষ করে বর্তমানে যাদের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছর, তাদের অনেকেই আজও ভোট দিতে পারেননি। তবে সেই পরিস্থিতির অবসান ঘটতে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট দেখতে চায়।
তার একসময়ের দাবি 'আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভোট প্রায় সমান'। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে ছাড়া যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, সেখানে আওয়ামী লীগের ভোটারেরা ভোটকেন্দ্রে যাবেন কিনা, বর্তমানে যাদের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছর, তারা সবাই ভোটকেন্দ্রে যাবেন কিনা (তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সমর্থক থাকতেই পারে), আওয়ামী লীগের ভোটারদের বাদ রেখে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক কীভাবে হবে, এ বিষয়ে আলী ইমাম মজুমদার কিছু বলেননি।
খবরটি শেয়ার করুন