ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধ বন্ধে মোটামুটি দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। এই অগ্রগতির পেছনে অনেকটা পথ পাড়ি দেওয়াতে সহায়তা করেছে ইরানের প্রতিবেশী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’ আসিম মুনিরের দেশ পাকিস্তান।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দূতিয়ালি করেছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে, এখন জানা যাচ্ছে শিগগির যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হবে এবং এর ভেন্যু হবে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে। ওই ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, ‘পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে ইরান ও আমেরিকার শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরায়েলি ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘পাকিস্তানে হতে যাওয়া ওই সম্মেলনের আলোচনার অংশ হিসেবে একটি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যেখানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স আমেরিকার জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েল জানত যে—ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইসরায়েল বেশ অবাক হয়েছে; ট্রাম্প জানিয়েছেন যে এই যোগাযোগগুলো বেশ এগিয়েছে এবং সম্ভবত ১৫টি পয়েন্টে উভয় পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছেছে।’
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, গত শনিবার ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। এর মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালি না খুলে দিলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি ও পানি শোধনাগার অবকাঠামোর ওপর প্রতিশোধের হুমকি দিলে উত্তেজনা নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়।
হরমুজ সংকট বর্তমানে এমন এক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ট্রাম্পকে যুদ্ধে সমাপ্তি ঘটাতে বাধা দিচ্ছে। হুমকি পাল্টা হুমকি সংকট আরও তীব্র করেছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের ফিউচার—যা সকালেই নিচে নামছিল—ট্রাম্পের পোস্টের পর হঠাৎ বৃদ্ধি পায় এবং তেলের দাম কমে যায়।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন