রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২২শে ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর *** ইইউর ৬১ বাণিজ্য বাধার ৪৮টিরই সমাধান করা হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী *** সাংস্কৃতিক ঐক্যই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি: সংস্কৃতিমন্ত্রী *** নিখোঁজ শিশুদের জন্য পুলিশের বিশেষ সেল গঠনের দাবি স্বজনদের *** রোহিঙ্গা ইস্যু যেন অন্য কোনো সংকটে চাপা না পড়ে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার জন্মভূমি ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল, বিকেলে নাগরিক সংবর্ধনা *** শেষকৃত্য সম্পন্ন করার ১৫ দিন পর কারাগার থেকে ফোনকল—‘আপনার ছেলে জীবিত’ *** ফের সোনার দামে পতন, ভরিতে কত *** মিসরে মাদক মামলায় টিভি উপস্থাপকসহ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড *** গোপালগঞ্জে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ৩০

শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা: কী ভাবছে ভারত, গণমাধ্যম ও থিংক ট্যাংক?

বিশেষ প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, ১১ই জুলাই ২০২৬

#

ফাইল ছবি

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত থেকে আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। রয়টার্সকে দেওয়া প্রায় এক ঘণ্টার টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি এবং আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে চান। একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি হত্যার ঝুঁকিও রয়েছে।

এই ঘোষণার পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক আলোচনা যেমন তীব্র হয়েছে, তেমনি ভারতের কূটনৈতিক মহল, গণমাধ্যম এবং নীতিনির্ধারণী বিশ্লেষকদের মধ্যেও বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলে সুখবর ডটকমকে জানিয়েছে দুই দেশের কূটনৈতিক সূত্র। তবে এখন পর্যন্ত ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। নয়াদিল্লির এই নীরবতা আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের ঘোষণার পর ভারত কী অবস্থান নেয়, সেটি শুধু তার ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ নয়, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ গত এক দশকের বেশি সময় ধরে ভারত ও আওয়ামী লীগের সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আলোচিত কূটনৈতিক বাস্তবতা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, যা সাধারণভাবে "সাউথ ব্লক" নামে পরিচিত, শেখ হাসিনার ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। নয়াদিল্লির নীরবতাকে কূটনৈতিক মহলে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখা হচ্ছে না। এর কয়েকটি কারণ বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন। প্রথমত, শেখ হাসিনা নিজেই রয়টার্সকে বলেছেন, দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে তিনি কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেননি। অর্থাৎ তার এ সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, ভারত শুরু থেকেই শেখ হাসিনার অবস্থানকে মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করে এসেছে। অতীতেও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর বলেছিলেন, শেখ হাসিনার ভারতে থাকা বিশেষ পরিস্থিতির কারণে এবং ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত তার নিজের বিষয়।

তৃতীয়ত, তারেক রহমান সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে ভারত প্রকাশ্যে এমন কোনো মন্তব্য করতে চাইছে না, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।

তবে এ নীরবতার পেছনে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার এবং পরে বর্তমান সরকার তার প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের কাছে কূটনৈতিক অনুরোধ জানালেও নয়াদিল্লি তাতে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। ভারতের অবস্থান ছিল, বিষয়টি তাদের আইন ও কূটনৈতিক বিবেচনার আওতায় রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দুই দেশের সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরেই একটি সংবেদনশীল ইস্যু। এ কারণে তিনি দেশে ফেরার নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা করার পর ভারতের প্রতিক্রিয়া কী হয়, সেটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশের সরকার, কূটনৈতিক মহল এবং দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকেরা।

ভারতের মূলধারার গণমাধ্যমগুলো শেখ হাসিনার ঘোষণাকে "উচ্চ ঝুঁকির রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত" হিসেবে তুলে ধরেছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া শিরোনামে গুরুত্ব দিয়েছে শেখ হাসিনার বক্তব্যকে—তিনি গ্রেপ্তার বা নিহত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন। পত্রিকাটি বিষয়টিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সম্ভাব্য নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখেছে।

ইন্ডিয়া টুডে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, শেখ হাসিনা মৃত্যুঝুঁকির কথাও বলেছেন, তবু আদালতে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছেন না। সংবাদমাধ্যমটি এ ঘোষণাকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছে। হিন্দুস্তান টাইমস একইভাবে তার "নিজের মাটিতেই মৃত্যুবরণ করতে চাই" মন্তব্যকে প্রতিবেদনের কেন্দ্রীয় বিষয় করেছে এবং লিখেছে, এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি রাষ্ট্রের আচরণের একটি বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

দ্য ইকোনমিক টাইমস রয়টার্সের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে লিখেছে, শেখ হাসিনা আদালতের মাধ্যমে নিজের বিরুদ্ধে চলা বিচারপ্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চান এবং আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারেরও প্রত্যাশা করছেন। লক্ষ করার মতো বিষয় হলো, ভারতীয় মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোর বেশিরভাগই নিজস্ব বিশ্লেষণের বদলে রয়টার্সের সাক্ষাৎকার এবং সেখানকার বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেছে।

ভারতীয় কৌশলগত বিশ্লেষকদের দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণে আরেকটি বিষয়ও উঠে আসে। তাদের মতে, গত দেড় দশকে শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে নয়াদিল্লির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিচ্ছিন্নতাবাদ দমন, সংযোগ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নজিরবিহীন সমন্বয় গড়ে ওঠে।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার, নির্বাচন ও গণতন্ত্র নিয়ে নানা আন্তর্জাতিক সমালোচনা থাকলেও ভারত প্রকাশ্যে সরকারের পাশে অবস্থান নেয়—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধী দল ও বিভিন্ন সমালোচকের পক্ষ থেকে উঠে এসেছে। ভারত অবশ্য বরাবরই বলেছে, তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না এবং একটি স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশই তাদের অগ্রাধিকার।

এমন প্রেক্ষাপটে কয়েক বাংলাদেশি ও ভারতীয় পর্যবেক্ষকের ধারণা, আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও নয়াদিল্লি নেপথ্যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছে। যদিও এ বিষয়ে ভারত সরকার কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি এবং এ ধরনের উদ্যোগের স্বাধীন প্রমাণও প্রকাশ্যে আসেনি।

একইভাবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রক্রিয়ায় ভারতের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা থাকতে পারে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগের অবস্থান ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রেও নয়াদিল্লি সক্রিয় হতে পারে। তবে এ ধরনের মূল্যায়ন এখনো বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ ও সম্ভাবনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ; এ বিষয়ে ভারত সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান প্রকাশ পায়নি।

পর্যবেক্ষকদের আরেকটি দৃষ্টি আকর্ষণকারী বিষয় হলো, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে মর্যাদার সঙ্গেই অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নয়, লোকসভায় বিরোধী দল কংগ্রেসসহ ভারতের বিভিন্ন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের নেতারাও অতীতে বিভিন্ন সময়ে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের প্রতি ইতিবাচক অবস্থান প্রকাশ করেছেন। ফলে তার দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়াও বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পরপরই ভারতের বড় নীতিনির্ধারণী গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়নি। তবে ভারতীয় কৌশলগত বিশ্লেষকদের দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ থেকে কয়েকটি প্রবণতা স্পষ্ট। প্রথমত, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দুই দেশের সম্পর্কে একটি সংবেদনশীল বিষয় হয়ে রয়েছে। তিনি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে গেলে ভারতের ওপর থাকা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ কিছুটা কমতে পারে।

দ্বিতীয়ত, তার প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে আদালতের বিচার, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায় আসবে।

তৃতীয়ত, ভারতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা বজায় থাকা। যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য, সংযোগ ও আঞ্চলিক সহযোগিতা নয়াদিল্লির প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়।

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা ভারতের জন্যও একটি কূটনৈতিক পরীক্ষার বিষয়। যদি তিনি স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন, তাহলে ভারতে তার অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের একটি স্বাভাবিক সমাপ্তি ঘটতে পারে। অন্যদিকে, দেশে ফেরার পর যদি নতুন রাজনৈতিক সংকট বা সহিংসতা সৃষ্টি হয়, তাহলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আবারও চাপের মুখে পড়তে পারে।

রয়টার্সও তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে, তবে একই সঙ্গে ভারতে তাকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিদ্যমান কূটনৈতিক অস্বস্তিও কমতে পারে।

সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ভারত সরকারের প্রকাশ্য অবস্থান অত্যন্ত সংযত। সাউথ ব্লক কোনো মন্তব্য করেনি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা রয়টার্সের সাক্ষাৎকারকেই প্রধান উৎস হিসেবে ব্যবহার করেছে। আর দেশটির নীতিনির্ধারণী মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও এখনো বড় কোনো থিংক ট্যাংকের আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন প্রকাশিত হয়নি।

ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সূত্রের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মূল্যায়ন হলো—নয়াদিল্লি আপাতত ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’-এর নীতি অনুসরণ করছে। শেখ হাসিনার ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা এগোয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং দেশে ফেরার পর পরিস্থিতি কীভাবে বিকশিত হয়—এসবের ওপরই ভারতের পরবর্তী কূটনৈতিক অবস্থান অনেকাংশে নির্ভর করবে।

আশির দশকে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে ভারত থেকে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলেন শেখ হাসিনা। সেই অভিজ্ঞতার কারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে তার সাম্প্রতিক দেশে ফেরার ঘোষণাকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে অতীতের সঙ্গে তুলনা টানা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিচ্ছেন, দুই সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা এক নয়।

কয়েকটি কূটনৈতিক সূত্রের মতে, শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। তাদের ভাষ্য, অতীতে নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে তিনি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে পুনর্গঠিত করেছিলেন। এবারও তিনি দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আস্থা তৈরির চেষ্টা করছেন বলে কেউ কেউ মনে করছেন।

তবে এসব সূত্র সতর্ক করে বলছে, আশির দশকের বাংলাদেশ এবং বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। তখন দেশে ফেরার ক্ষেত্রে বর্তমানের মতো বিচারিক প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কিংবা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত জটিলতা ছিল না। ফলে অতীতের অভিজ্ঞতা বর্তমান পরিস্থিতিতে হুবহু পুনরাবৃত্তি হবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশের মতে, শেখ হাসিনার ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আদালতের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অবস্থানের ওপর। তাই অতীতের সঙ্গে তুলনা করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিকে স্বতন্ত্র বাস্তবতা হিসেবেই মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

শেখ হাসিনা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

🕒 প্রকাশ: ০৪:৫৪ অপরাহ্ন, ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইইউর ৬১ বাণিজ্য বাধার ৪৮টিরই সমাধান করা হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

🕒 প্রকাশ: ০৪:৪৯ অপরাহ্ন, ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাংস্কৃতিক ঐক্যই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি: সংস্কৃতিমন্ত্রী

🕒 প্রকাশ: ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিখোঁজ শিশুদের জন্য পুলিশের বিশেষ সেল গঠনের দাবি স্বজনদের

🕒 প্রকাশ: ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

রোহিঙ্গা ইস্যু যেন অন্য কোনো সংকটে চাপা না পড়ে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

🕒 প্রকাশ: ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250