মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২১শে আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** রওনা দিয়েছেন ইমরান খানের সমর্থকেরা—লক্ষ্য ইসলামাবাদ *** জাতীয় দিবসে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর *** এশিয়ায় শক্তিশালী অংশীদারত্ব গড়তে চায় ডেনমার্ক: রাষ্ট্রদূত *** রমজানের আগেই তিন ধাপের ইউপি নির্বাচন *** ৭ নভেম্বর ছুটি ঘোষণা, বাড়ল পূজার ছুটিও *** আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ রাত *** মেসির শেষ ম্যাচে থাকতে পারছেন না দিবালাসহ যে বিশ্বকাপজয়ীরা *** বিচার ছাড়া আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো সমঝোতা নয়: ডেপুটি স্পিকার *** দুর্গাপূজায় রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে শপিংমল-দোকান *** বাংলাদেশকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখতে চায় কানাডা

‘সুপরিচিত সাংবাদিক’ প্রসঙ্গ সামনে এনে কি বার্তা দিতে চায় প্রথম আলো–ডেইলি স্টার?

জেবিন শান্তনু

🕒 প্রকাশ: ০৬:৪৮ অপরাহ্ন, ৮ই মে ২০২৬

#

ফাইল ছবি

রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে আয়োজিত সাংবাদিকতা–বিষয়ক সম্মেলনের মঞ্চ থেকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যে মন্তব্য করেছেন, তা শুধু সাংবাদিক মহলেই নয়, রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

তার বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সাংবাদিক সংগঠনগুলোর ভেতরেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই মন্তব্য দেশের গণমাধ্যম–রাজনীতির সম্পর্ককে নতুনভাবে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

আবার কেউ কেউ এটিকে সাংবাদিক সমাজের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশের একটি ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন। তার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল—গত বছর প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কিছু “সুপরিচিত সাংবাদিক” উসকানিদাতার ভূমিকায় ছিলেন। এই অভিযোগের রাজনৈতিক ও পেশাগত তাৎপর্য নিয়ে এখন নানামুখী বিশ্লেষণ চলছে।

আজ শুক্রবার রাজধানীর র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে এমআরডিআই আয়োজিত ‘বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স ২০২৬’–এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া এই বক্তব্যকে ঘিরে সাংবাদিক সমাজে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সম্মেলনের পরিবেশ ছিল মূলত অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা–কেন্দ্রিক।

কিন্তু ইফতেখারুজ্জামানের বক্তব্যের পর পুরো আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে ‘সুপরিচিত সাংবাদিক’ প্রসঙ্গটি। বিশেষ করে প্রশ্ন হচ্ছে—এতদিন পর কেন প্রথমবারের মতো এ ধরনের অভিযোগ সামনে আনা হলো? এবং কেন এমন একটি অভিযোগ সরাসরি সাংবাদিক সমাজের একটি অংশের দিকে ইঙ্গিত করে উত্থাপন করা হলো?

পত্রিকা দুটির কর্তৃপক্ষের আসল উদ্দেশ্য কি? অনেকে মনে করছেন, বক্তব্যটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন মন্তব্য নয়, বরং এর মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

গত বছরের বহুল আলোচিত ওই হামলার ঘটনায় মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায় বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর সদস্যরা, যাদের বড় অংশকে তখনকার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

হামলার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনাপূর্ণ পোস্ট, লাইভ সম্প্রচার এবং নানা ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল। ঘটনাটির সময় দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ছিল চরমে।

সরকারবিরোধী নানা প্রচারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনা এবং “বিদেশি প্রভাব”–বিষয়ক বিতর্কও তখন তুঙ্গে ছিল। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেই অস্থির পরিবেশেই হামলার মতো ঘটনা ঘটেছিল।

তবে হামলার পর দীর্ঘ সময় ধরে প্রথম আলো বা ডেইলি স্টারের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে খুব জোরালোভাবে বিচার দাবি তোলা হয়নি—এমন অভিযোগ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের। অনেকের মতে, ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনায় আরও বড় ধরনের সাংবাদিক আন্দোলন গড়ে উঠতে পারত।

বরং তখনকার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে পত্রিকা দুটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ছিল প্রবল। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা দীর্ঘদিন প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের নীতিগত অবস্থানের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন বলেও সমালোচকেরা দাবি করেন।

সমালোচকদের ভাষ্য, এই ঘনিষ্ঠতার কারণেই হামলার ঘটনায় প্রকাশ্য অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে পত্রিকা দুটি সতর্ক ছিল। আবার অন্য একটি অংশের দাবি, উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তখন তারা সংযত অবস্থান নিয়েছিল।

রাজনৈতিক পালাবদলের পর এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। দেশের ক্ষমতার কেন্দ্র পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গণমাধ্যম–রাজনীতির সম্পর্কও নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার আবারও ওই হামলার বিচার ও তদন্তের দাবি সামনে আনছে। এ অবস্থায় সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলছেন—এই দাবির পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী?

বিএনপির সরকারকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবে বিষয়টি সমালোচিত হচ্ছে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের অবস্থান পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেও পত্রিকা দুটি এই ইস্যুকে সামনে আনছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশের গণমাধ্যমে প্রায়ই রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে বয়ান ও অবস্থানের পরিবর্তন দেখা যায়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক গোলাম রহমান মনে করেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অস্পষ্ট অভিযোগ তোলা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। তিনি বলেন, “যদি কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য–প্রমাণ থাকে, তাহলে তা প্রকাশ করতে হবে। কিন্তু নাম উল্লেখ না করে ‘সুপরিচিত সাংবাদিক’ বলে একটি সামষ্টিক সন্দেহ তৈরি করলে পুরো সাংবাদিক সমাজের মধ্যেই বিভ্রান্তি ও অবিশ্বাস বাড়তে পারে।”

তার মতে, এ ধরনের বক্তব্য সাংবাদিকদের পারস্পরিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক তরুণ সাংবাদিকও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, প্রমাণ ছাড়া এমন অভিযোগ পেশাগত নিরাপত্তা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে একটি নতুন বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হচ্ছে। আগে যেখানে হামলার জন্য রাজনৈতিক উগ্রতা ও সরকারসমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করা হচ্ছিল, এখন সেখানে সাংবাদিক সমাজের ভেতরের কিছু ব্যক্তিকে দায়ী করার প্রসঙ্গ সামনে আনা হচ্ছে। এর ফলে হামলার রাজনৈতিক দায় আড়াল করার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন কেউ কেউ।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, কোনো ঘটনার দায় যখন বহুমাত্রিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, তখন মূল দায়ীদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার অন্য একটি পক্ষ বলছে, হামলার পেছনে বহুমুখী স্বার্থগোষ্ঠী কাজ করে থাকতে পারে এবং সেই কারণেই বিষয়টি নতুনভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, “সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্ত হোক, বিচার হোক। কিন্তু কোনো ঘটনার বিচার চাইতে গিয়ে পুরো সাংবাদিক সমাজকে সন্দেহের মধ্যে ফেলা বিপজ্জনক। এতে পেশাগত ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু সেটিকে সংঘাত বা ষড়যন্ত্রের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া উচিত নয়। তার মতে, বর্তমানে দেশের গণমাধ্যম খাত এমনিতেই নানা চাপের মধ্যে রয়েছে, সেখানে নতুন বিভাজন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

ইফতেখারুজ্জামান তার বক্তব্যে বলেন, হামলার পেছনে শুধু বাইরের শক্তিই নয়, ‘অভ্যন্তরীণ শত্রু’রাও কাজ করেছে। তার দাবি, দালিলিক প্রমাণ রয়েছে এবং কিছু মহল ওই হামলায় উল্লাসও প্রকাশ করেছিল। কিন্তু তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি কিংবা প্রমাণও প্রকাশ করেননি।

ফলে বক্তব্যটি আরও বেশি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, যদি সত্যিই প্রমাণ থেকে থাকে, তাহলে তা জনসম্মুখে প্রকাশ না করার কারণ কী। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, প্রমাণ প্রকাশের আগ পর্যন্ত এমন বক্তব্য শুধুই সন্দেহ ও বিভ্রান্তি বাড়াবে।

অনেক সাংবাদিকের প্রশ্ন, যদি সত্যিই দালিলিক প্রমাণ থাকে, তাহলে এতদিন তা প্রকাশ করা হয়নি কেন? কেন হামলার সময় বা পরবর্তী মাসগুলোতে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি? আবার কেন এখন, রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের পর, বিষয়টি নতুনভাবে সামনে আনা হচ্ছে? অনেকে মনে করছেন, সময় নির্বাচনই এই বিতর্ককে আরও গভীর করেছে।

কারণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পুরোনো নানা ইস্যু নতুনভাবে সামনে আসছে এবং সেগুলোর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। সাংবাদিক সমাজের ভেতরেও এ নিয়ে দ্বিধা ও সংশয় তৈরি হয়েছে।

সাংবাদিক নেতাদের একটি অংশের অভিযোগ, এর মাধ্যমে সাংবাদিক সমাজে বিভাজন তৈরির চেষ্টা চলছে। তাদের মতে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার প্রশ্নে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি।

একজন জ্যেষ্ঠ সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুখবর ডটকমকে বলেন, “আজ যারা ‘সুপরিচিত সাংবাদিক’ বলে ইঙ্গিত করছেন, কাল তারা হয়তো নির্দিষ্ট মতের সাংবাদিকদের টার্গেট করবেন। এতে পুরো পেশার জন্য ঝুঁকি তৈরি হবে।” তার মতে, সাংবাদিকদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভক্ত করার চেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

অন্যদিকে এমআরডিআইয়ের সম্মেলনে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার গুরুত্ব নিয়েও কথা বলা হয়। বক্তারা বলেন, তথ্যভিত্তিক ও প্রমাণসমৃদ্ধ সাংবাদিকতার বিকল্প নেই। এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান বলেন, দেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সক্ষমতা বাড়ছে। তিনি জানান, ৬০টি ফেলোশিপের বিপরীতে ১৮৮টি পিচ জমা পড়েছে।

তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন মূলধারার সংবাদমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তুলনামূলক কম দেখা যায়। তার মতে, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য সময়, দক্ষতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন প্রয়োজন, যা অনেক গণমাধ্যমে এখনো সীমিত।

তিনি ‘বুলেটপ্রুফ’ রিপোর্টিং নিশ্চিত করতে নিউজরুমে স্ব–নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেন। তার বক্তব্যকে অনেকে সাংবাদিকতার পেশাগত মান উন্নয়নের আহ্বান হিসেবে দেখলেও, একই মঞ্চে সাংবাদিকদের একটি অংশের বিরুদ্ধে ইঙ্গিতপূর্ণ অভিযোগ ওঠায় সম্মেলনের বার্তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

কেউ কেউ মনে করছেন, একদিকে পেশাগত মান উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে একই পরিসরে অস্পষ্ট অভিযোগ তুলে সাংবাদিক সমাজে সন্দেহের আবহ তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে সম্মেলনের ইতিবাচক আলোচনাগুলো আড়ালে পড়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেছেন কয়েকজন অংশগ্রহণকারী।

সম্মেলনে নিকোলাস উইকস, গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্কের নির্বাহী পরিচালক এমিলিয়া দিয়াজ–স্ট্রাকসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা, তথ্য যাচাই এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা করেন।

দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ৫৫০ জন সাংবাদিক অংশ নিচ্ছেন। অংশগ্রহণকারীদের অনেকে মনে করছেন, এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে পুরো সম্মেলনের আলোচনাকে ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে—‘সুপরিচিত সাংবাদিক’ প্রসঙ্গ সামনে এনে আসলে কী বার্তা দেওয়া হলো? এটি কি সত্য অনুসন্ধানের অংশ, নাকি রাজনৈতিক বাস্তবতার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন চাপ তৈরির কৌশল? সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক, সাংবাদিক নেতা এবং সাধারণ পাঠকদের মধ্যেও এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে।

কেউ এটিকে সাহসী বক্তব্য হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন এটি অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি করেছে। ফলে বিষয়টি আগামী দিনগুলোতেও গণমাধ্যম ও রাজনীতির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

প্রথম আলো–ডেইলি স্টার

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250