ফাইল ছবি
ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা—দলের একাধিক নেতার এমন দাবিকে ঘিরে আবারও সরগরম হয়ে উঠেছে দেশের রাজনীতি। আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের শেষ দিকে অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে ভারত থেকে স্থলপথে দেশে প্রবেশের পরিকল্পনা করছেন। সম্ভাব্য প্রবেশপথ হিসেবে তারা ভারতের পেট্রাপোল ও বাংলাদেশের বেনাপোল স্থলবন্দরের কথা বলছেন।
তবে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান যে কঠোর থাকবে, তা ইতিমধ্যে একাধিকবার স্পষ্ট করেছে সরকার। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং তার বিরুদ্ধে আদালতের দেওয়া রায় আইন অনুযায়ী কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ফলে আওয়ামী লীগ নেতারা যে রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের কথা বলছেন, সরকারের দৃষ্টিতে বিষয়টি মূলত একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির দেশে প্রবেশ এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার প্রশ্ন।
সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শেখ হাসিনা শেষ পর্যন্ত ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন—এমন সম্ভাবনাকে তারা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। বরং সরকারের ভেতরে অনেকে মনে করছেন, তিনি ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশে ফেরার চেষ্টা করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তার প্রবেশের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গ্রেপ্তার, আদালতের রায় কার্যকরের প্রক্রিয়া এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের প্রতিক্রিয়া—সবকিছু অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সামলাতে হবে।
সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি থাকবে বাংলাদেশের পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর। বিশেষ করে তাকে কীভাবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, তার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আচরণ কেমন হচ্ছে, তাকে আইনি অধিকার দেওয়া হচ্ছে কি না এবং আদালতের রায় কীভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে—এসব বিষয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বিভিন্ন দেশের পর্যবেক্ষকদের নজর থাকবে বলে মনে করছে সরকার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ গত জুলাইয়ে স্পষ্ট করে বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে ফেরার পর আত্মসমর্পণের আলাদা কোনো সুযোগ নেই; আদালতের রায় আইন অনুযায়ী কার্যকর করা হবে। সরকার যে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেও তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, সেটিও তিনি জানিয়েছেন।
সংসদেও সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আদালতের দেওয়া রায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় কার্যকর করা হবে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথাও সরকার জানিয়েছে।
আইনমন্ত্রীও বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। তার বক্তব্য ছিল, তিনি দেশে ফিরলে কীভাবে ফিরবেন, সেটি তার বিষয়; কিন্তু বাংলাদেশের এখতিয়ারে প্রবেশ করার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেখ হাসিনা এর আগে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তিনি ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরতে চান এবং আদালতের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতিও তার রয়েছে। তিনি এমন আশঙ্কার কথাও বলেছিলেন যে দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি তার জীবনও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। রয়টার্সের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ কয়েক নেতা দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।
আগস্টের শুরুতে নয়াদিল্লিতে দেওয়া বক্তব্যেও শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও তখন তার ঘোষণাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করে। আল জাজিরা জানায়, মৃত্যুদণ্ডের মুখেও শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার কথা বলেছেন।
এপি-র প্রতিবেদনও একই তথ্য সামনে আনে। ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এপি-র প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ভারত চলে যাওয়া শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডের সাজা মাথায় নিয়েও ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলোও শেখ হাসিনার ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন করছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ডিসেম্বরকে প্রথমবারের মতো নিজের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের নির্দিষ্ট মাস হিসেবে উল্লেখ করেছেন শেখ হাসিনা। সংবাদমাধ্যমটির বিশ্লেষণে বলা হয়, তার প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
আনন্দবাজার পত্রিকা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরেই দেশে ফিরতে চান এবং এ বিষয়ে তিনি তার অবস্থান অপরিবর্তিত রেখেছেন। ভারতের হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি নিজের সিদ্ধান্তেই বাংলাদেশে ফিরতে চান এবং তার প্রত্যাবর্তনকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ-আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করারও বিরোধিতা করেছেন। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার ভারতে অবস্থান ইতিমধ্যেই ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিরোধের বিষয় হয়ে উঠেছে।
এরই মধ্যে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাব্য পথ নিয়েও আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা দাবি করেছেন, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের শেষে অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তার প্রবেশের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই পরিকল্পনার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।
আওয়ামী লীগের ইউরোপীয় শাখার নেতা আব্বাস চৌধুরী ঢাকার একটি গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, অক্টোবরের মাঝামাঝি নয়াদিল্লিতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সামনে শেখ হাসিনা তার দেশে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করতে পারেন। তার দাবি অনুযায়ী, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটি হবে শেখ হাসিনার প্রথম সরাসরি প্রকাশ্য উপস্থিতি। তবে এ ধরনের ঘোষণার সময় ও স্থান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
দলের নেতারা আরও দাবি করছেন, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের একটি অংশ দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশে থাকা প্রায় ৬০ জন নেতা ইতিমধ্যে কলকাতায় অবস্থান করছেন। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা সাংগঠনিক যোগাযোগ বজায় রাখছেন। ডিসেম্বরের আগে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে থাকা আওয়ামী লীগের কিছু নেতাও কলকাতায় যোগ দিতে পারেন বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
লন্ডনে থাকা সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলছেন, প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়া গেলে বিদেশে থাকা নেতা-কর্মীদের নিয়ে চার্টার্ড বিমানের ব্যবস্থা করে দেশে ফেরার চেষ্টা করা হবে। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াও বলেছেন, নেতা-কর্মীদের দেশে ফেরার কোনো বিকল্প নেই এবং দলের নেত্রীর নির্দেশই তাদের কাছে চূড়ান্ত।
তবে সরকারের দৃষ্টিতে এসব রাজনৈতিক পরিকল্পনার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শেখ হাসিনা দেশে প্রবেশ করার পর আইনের প্রয়োগ। সরকারের বক্তব্যে এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা বা বিশেষ ছাড়ের ইঙ্গিত নেই। বরং সরকারের নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, শেখ হাসিনা নিজে যদি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তাকে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, আদালতের রায়ে দণ্ডিত ব্যক্তি হিসেবে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।
অনেকের মতে, এখানেই ডিসেম্বরের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। কারণ শেখ হাসিনা শুধু দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নন; তিনি দীর্ঘ সময় দেশের সরকারপ্রধান ছিলেন এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি। তার গ্রেপ্তার ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ তাই সাধারণ কোনো আসামির ক্ষেত্রে নেওয়া পদক্ষেপের মতো আন্তর্জাতিকভাবে দেখা হবে না। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, মানবাধিকার সংগঠন এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের নজর থাকবে পুরো প্রক্রিয়ার দিকে—এমনটাই মনে করছে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল।
সরকারের জন্য আরেকটি বড় প্রশ্ন হবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ। শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা বাস্তবায়ন হলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের একটি অংশ তাকে স্বাগত জানাতে সীমান্ত বা ঢাকায় জড়ো হওয়ার চেষ্টা করতে পারে। একই সময়ে তার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ রাজনৈতিক ও সামাজিক পক্ষগুলোর প্রতিক্রিয়াও তৈরি হতে পারে। ফলে কোনো ধরনের সংঘাত বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি না করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করাই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
ভারতের ভূমিকা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করেছে। ভারত বিষয়টি পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ঢাকার অনুরোধের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ; একই সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আলোচনা চললেও শেখ হাসিনার উপস্থিতি সেই সম্পর্কের অন্যতম জটিল বিষয় হয়ে আছে।
ফলে শেখ হাসিনা যদি সত্যিই নিজ উদ্যোগে সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশের চেষ্টা করেন, তখন ভারতীয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী হবে—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। আর যদি ভারত তাকে বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ দেয়, তাহলে তার দেশে প্রবেশের পর বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কীভাবে তাকে হেফাজতে নেয় এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হয়, সেটিই হবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের মূল বিষয়।
শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা আরও দাবি করছেন, দেশে প্রবেশের আগে তিনি নয়াদিল্লি থেকে কলকাতায় যাবেন এবং তার আগে দিল্লির নিজামুদ্দিন আউলিয়ার মাজার ও আজমিরে খাজা মঈনুদ্দিন চিশতির দরগাহ জিয়ারত করতে পারেন। তার সঙ্গে তার বোন শেখ রেহানা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল থাকার সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে। এসব পরিকল্পনাও অবশ্য দলীয় সূত্রের দাবি; আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব কে দেবেন, সেটিও দলের ভেতরে আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা নিজেই এ বিষয়ে কথা বলেছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসেছে। দ্য ওয়াল-এর সঙ্গে তার কথোপকথন নিয়ে জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেলে শেখ ফজলুল করিম সেলিম দলের সভাপতির দায়িত্ব নেবেন বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের কয়েক নেতা দাবি করেছেন, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতিমণ্ডলীর জ্যেষ্ঠ সদস্য ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের হিসাবে সাজেদা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরী ও ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন। কাজী জাফরউল্লাহ, আবদুর রাজ্জাক, ফারুক খান ও শাহজাহান খান কারাগারে রয়েছেন। শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান ও খায়রুজ্জামান চৌধুরী লিটন দেশের বাইরে রয়েছেন। ফলে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর গ্রেপ্তার হলে দলের সাংগঠনিক নেতৃত্ব কীভাবে পরিচালিত হবে, সেটিও নতুন করে সামনে আসবে।
সব মিলিয়ে ডিসেম্বর এখন শুধু শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরার সময় নয়, দেশের রাজনীতির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হয়ে উঠছে। আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি অনুযায়ী, শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে প্রস্তুত। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনেও তার ডিসেম্বরের প্রত্যাবর্তনের ইচ্ছার কথা উঠে এসেছে। অন্যদিকে সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট—তিনি দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আদালতের রায় আইন অনুযায়ী কার্যকর করার প্রক্রিয়া চলবে।
তাই শেখ হাসিনা সত্যিই ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বা তার কাছাকাছি সময়ে দেশে ফিরলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হবে তার ফেরার পর কী ঘটবে। রাজনৈতিকভাবে এটি আওয়ামী লীগের জন্য নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে; সরকারের জন্য হতে পারে আইনের শাসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানোর বড় পরীক্ষা। আর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে একটি বিষয়—রাষ্ট্র একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সঙ্গে কীভাবে আইন অনুযায়ী আচরণ করে। সরকারের নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের চোখ থাকবে ঠিক সেখানেই।
খবরটি শেয়ার করুন