বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৪শে ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে শেখ সেলিমের দেওয়া সেই জবানবন্দি আবার আলোচনায়

আদিত্য কবির

🕒 প্রকাশ: ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, ৯ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

#

ফাইল ছবি

শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে শেখ ফজলুল করিম সেলিম দায়িত্ব পালন করবেন—সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের পর প্রায় দুই দশক আগের একটি চাঁদাবাজির মামলা এবং সেই মামলায় শেখ সেলিমের দেওয়া জবানবন্দি আবার আলোচনায় এসেছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, দলের বর্তমান সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে শেখ সেলিম জ্যেষ্ঠতম এবং তার অনুপস্থিতিতে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা তার বোন শেখ রেহানা সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত নন বলেও জানান।

এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে শেখ সেলিমের অতীত ভূমিকা, বিশেষ করে ২০০৭ সালের জরুরি অবস্থার সময় তার বিরুদ্ধে হওয়া চাঁদাবাজির মামলা এবং ওই মামলায় তার দেওয়া জবানবন্দি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শেখ সেলিমের ওই বক্তব্যকে সাধারণ অর্থে ‘সাক্ষ্য’ বলা হলেও সমসাময়িক সংবাদ প্রতিবেদনে সেটি ছিল একজন আসামির ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি। সেই জবানবন্দির সবিস্তার বক্তব্য তখন প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

দ্য ডেইলি স্টারের ২০০৭ সালের ২২ জুনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, শেখ সেলিম ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকার করেছিলেন যে একজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আদায় করা ২ কোটি ৯৯ লাখ টাকার বেশি অর্থ তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে ভাগ করেছিলেন। একই প্রতিবেদনে তার আইনজীবী জবানবন্দিটি আইনসম্মতভাবে নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন।

ঘটনাটির সূত্রপাত ২০০৭ সালের জুনে। ইস্ট কোস্ট ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজম জে চৌধুরী গুলশান থানায় শেখ হাসিনা ও শেখ ফজলুল করিম সেলিমের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগ ছিল, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে তার কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছিল। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযোগে বলা হয়েছিল, ২০০০ সালে ওই অর্থ নেওয়ার জন্য শেখ সেলিম চাপ সৃষ্টি করেছিলেন এবং তাকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড থেকে বিল তোলার ক্ষেত্রেও সমস্যায় ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত দুই শতাংশ কমিশন হিসেবে প্রায় ৫ দশমিক ৮ লাখ মার্কিন ডলার বা তখনকার হিসাবে ২ কোটি ৯৯ লাখ টাকার কিছু বেশি দেওয়ার মৌখিক সমঝোতা হয়। অর্থটি কয়েকটি চেকের মাধ্যমে ২০০০ সালের অক্টোবর থেকে ২০০১ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেওয়া হয়েছিল বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মামলা হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তখন শেখ হাসিনা ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। শেখ সেলিম ছিলেন দলটির প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য। ২০০৭ সালের ২১ জুন শেখ সেলিমকে ঢাকার একজন মহানগর হাকিমের কাছে হাজির করে তার জবানবন্দি নেওয়া হয়। ডেইলি স্টার পরদিন জানায়, ওই জবানবন্দিতে শেখ সেলিম ২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অর্থ শেখ হাসিনার সঙ্গে ভাগ করার কথা স্বীকার করেছেন।

তবে সংবাদপত্রটি একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছিল যে জবানবন্দির বিস্তারিত বক্তব্য তারা জানতে পারেনি। ফলে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যে যে ধরনের বিস্তারিত দাবি করা হয়েছে, তার সবকিছুকে সরাসরি জবানবন্দির হুবহু বক্তব্য হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

অবশ্য জবানবন্দি নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও তখন প্রশ্ন উঠেছিল। শেখ সেলিমের আইনজীবী কামরুল ইসলাম ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করে দাবি করেছিলেন, তার মক্কেলকে জবানবন্দি দেওয়ার আগে আইন অনুযায়ী পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি। আইনজীবী জবানবন্দিটি আইনসম্মতভাবে রেকর্ড করা হয়নি বলেও আপত্তি জানান। অর্থাৎ, একদিকে তদন্তকারীদের কাছে এটি ছিল মামলার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, অন্যদিকে আসামিপক্ষ শুরু থেকেই জবানবন্দির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।

এরপর তদন্তের ভিত্তিতে মামলায় শেখ হাসিনার সঙ্গে তার বোন শেখ রেহানার নামও যুক্ত হয়। ২০০৭ সালের ২৪ জুলাই পুলিশ শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। ডেইলি স্টারের ২৫ জুলাইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছিল যে ২১ জুন শেখ সেলিম ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকার করেছিলেন, শেখ হাসিনার নির্দেশে তিনি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন এবং ওই অর্থের এক কোটি টাকা শেখ রেহানাকে দিয়েছিলেন। অভিযোগপত্রে ২৪ জনকে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে অভিযোগকারী এবং জবানবন্দি রেকর্ড করা ম্যাজিস্ট্রেটও ছিলেন।

এই মামলাকে কেন্দ্র করে ২০০৭ সালের জুলাইয়ে শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মামলাটি ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তরিত হয়। নভেম্বরে সরকার নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত বিশেষ আদালতে মামলাটির বিচার করার সিদ্ধান্ত নেয়। ডেইলি স্টার জানিয়েছিল, মামলাটির বিচার দ্রুত শেষ করার জন্য বিশেষ আদালতে নেওয়া হয়েছিল এবং শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও শেখ সেলিম—তিনজনই মামলার আসামি ছিলেন।

২০০৮ সালের শুরুতে মামলাটির বিচারিক অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। শেখ হাসিনার আইনজীবীরা মামলাটি জরুরি ক্ষমতা বিধিমালার অধীনে নেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন। ২০০৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট জরুরি ক্ষমতা বিধিমালার আওতায় মামলাটি নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকে বেআইনি ঘোষণা করে মামলার কার্যক্রম বাতিল করে দেন। আদালতের যুক্তি ছিল, যে অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে তা জরুরি ক্ষমতা বিধিমালা জারির আগের সময়ের ঘটনা; ফলে সেটিকে ওই বিধিমালার আওতায় নেওয়ার অনুমোদন আইনসম্মত ছিল না।

তবে সেখানেই মামলার আইনি পথ শেষ হয়নি। সরকার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। ডেইলি স্টারের ২০০৮ সালের মার্চের প্রতিবেদনে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্ট সরকারকে আপিলের অনুমতি দেয় এবং মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখে। পরে ৮ মে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে বিচার চালিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করে। এরপর জুনে মামলাটি আবার বিশেষ আদালতে পাঠানো হয়। অর্থাৎ, ২০০৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে মামলাটি পুনরায় বিচারিক প্রক্রিয়ায় ফেরে।

মামলার বিচার চলাকালে অভিযোগকারী আজম জে চৌধুরীর বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের জন্য প্রস্তুত একটি আইনবিষয়ক নথিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে বিচার শুরুর সময় অভিযোগকারী আদালতে শেখ হাসিনার সরাসরি সংশ্লিষ্টতার কথা বলতে অস্বীকার করেছিলেন। তিনি বরং বলেছিলেন, শেখ সেলিম তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় তিনি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজটি পাইয়ে দিতে পারবেন। ওই নথিতে আরও বলা হয়, অভিযোগকারী শেখ হাসিনাকে অর্থ দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছিলেন।

এখানেই মামলার শুরু এবং পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য দেখা যায়। মামলার অভিযোগপত্রে তদন্তকারীরা শেখ সেলিমের জবানবন্দির ভিত্তিতে শেখ হাসিনাকে মামলায় যুক্ত করেছিলেন। কিন্তু বিচারপর্বে অভিযোগকারী নিজে শেখ হাসিনাকে টাকা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন বলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ওই নথিতে উল্লেখ করা হয়। ফলে শেখ সেলিমের জবানবন্দি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত আলোচিত হলেও মামলার শেষ পরিণতি বোঝার সময় শুধু ওই জবানবন্দির ওপর নির্ভর করা যায় না; আদালতে অভিযোগকারীর বক্তব্য, মামলার আইনি বৈধতা এবং পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্তও বিবেচনায় নিতে হয়।

২০০৮ সালের আগস্টেও বিশেষ আদালতে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছিল। ডেইলি স্টার জানায়, অভিযোগকারী আজম জে চৌধুরীর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আদালত সময় নির্ধারণ করেছিলেন এবং শেখ সেলিমকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে শেখ সেলিম জামিনে মুক্তি পান। মুক্তির পর তিনি নিজেকে সব অভিযোগ থেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং শেখ হাসিনার স্থায়ী মুক্তির দাবি জানান।

শেষ পর্যন্ত ২০০৯ সালে মামলাটির পরিণতি হয় সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে। ২০০৯ সালের ১৬ মে প্রকাশিত ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যবসায়ী আজম জে চৌধুরীর করা ২ কোটি ৯৯ লাখ টাকার চাঁদাবাজির মামলা প্রত্যাহার করা হয়। বিশেষ আদালত মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও শেখ ফজলুল করিম সেলিম—তিন আসামিকেই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আদালতের আদেশে বলা হয়, আজম জে চৌধুরী ২০০৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানের কাছে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলেন। ওই আবেদনে তিনি দাবি করেছিলেন যে, তিনি বাধ্য হয়ে মামলাটি করেছিলেন এবং আর মামলাটি চালিয়ে যেতে চান না।

মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়ায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। ২০০৯ সালের ২৮ জানুয়ারি সরকার মহানগর সরকারি কৌঁসুলিকে মামলাটি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিতে চিঠি দিয়েছিল। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের কারণে প্রথমে সেই প্রক্রিয়া এগোয়নি। পরে হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ তুলে নিলে বিশেষ আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে মামলাটি প্রত্যাহারের অনুমতি দেয়। ফলে শেষ পর্যন্ত এই মামলায় শেখ হাসিনা বা শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে কোনো দণ্ড কার্যকর হয়নি; বরং মামলা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে তিন আসামিই অব্যাহতি পান।

শেখ সেলিম সত্যিই ওই মামলায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছিলেন—সমসাময়িক সংবাদ প্রতিবেদনে এর প্রমাণ রয়েছে। সেই জবানবন্দিতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগের কথা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল, সেটি শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়ে শেখ হাসিনার সাজায় পরিণত হয়নি। বরং মামলাটি ২০০৯ সালে প্রত্যাহার করা হয় এবং শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও শেখ সেলিম অব্যাহতি পান। একই সঙ্গে জবানবন্দির আইনগত গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও সে সময় আসামিপক্ষ আপত্তি জানিয়েছিল।

বর্তমানে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে শেখ সেলিমের নাম সামনে আসার কারণে পুরোনো ঘটনাটি নতুন রাজনৈতিক তাৎপর্য পেয়েছে। দ্য ওয়ালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা নিজেই বলেছেন, তার অনুপস্থিতিতে শেখ সেলিম সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে দ্য ওয়ালের উদ্ধৃতি দিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে—শেখ সেলিম বর্তমানে দলের জ্যেষ্ঠতম সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং তার অনুপস্থিতিতে তিনিই সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ নেতার আপত্তির কথাও তুলে ধরা হয়েছে; তাদের একজন শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠার প্রসঙ্গ স্মরণ করিয়েছেন। তবে এগুলো রাজনৈতিক অভিযোগ, ২০০৭ সালের চাঁদাবাজির মামলায় তার বিরুদ্ধে কোনো দণ্ডের প্রমাণ নয়।

২০০৭ সালে শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী আজম জে চৌধুরীর অভিযোগে মামলা হয়েছিল, তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছিলেন এবং সেই জবানবন্দিকে ভিত্তি করে শেখ হাসিনাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, হাইকোর্ট এক পর্যায়ে মামলার কার্যক্রম বাতিল করেন, পরে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে বিচার আবার এগোয় এবং শেষ পর্যন্ত ২০০৯ সালে অভিযোগকারী নিজেই মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে। ফলে অভিযোগগুলো নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক থাকলেও ওই মামলায় শেখ হাসিনা বা শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত দণ্ড হয়নি।

অনেকের মতে, শেখ সেলিমের ২০০৭ সালের জবানবন্দি ছিল তৎকালীন চাঁদাবাজির মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত-উপাদান এবং সেটি শেখ হাসিনাকে মামলায় যুক্ত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিল বলে সমসাময়িক প্রতিবেদনে এসেছে। কিন্তু সেই মামলা শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার হওয়ায় ওই অভিযোগ আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণ হয়নি। অন্যদিকে, মামলাটি প্রত্যাহার হয়ে যাওয়াও জবানবন্দির ঐতিহাসিক অস্তিত্বকে মুছে দেয় না। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় শেখ হাসিনা যখন নিজের অনুপস্থিতিতে শেখ সেলিমকে দলের সভাপতির দায়িত্ব পালনের জন্য মনোনীত করার কথা জানাচ্ছেন, তখন প্রায় দুই দশক আগের সেই জবানবন্দি নিয়ে প্রশ্ন ওঠা মূলত তার সম্ভাব্য নেতৃত্বকে ঘিরে অতীতের বিতর্ক পুনরায় সামনে আসারই প্রতিফলন।

শেখ ফজলুল করিম সেলিম

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250