শনিবার, ১৪ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** নিষেধাজ্ঞা কাটাতে আন্তর্জাতিক তৎপরতা, নির্বাচনী রাজনীতিতে শক্তিশালী হয়ে ফিরতে চায় আওয়ামী লীগ *** রাত থেকে গণপরিবহনে তেল নেওয়ার সীমা থাকছে না: সড়কমন্ত্রী *** তিন মাস পর জামিনে মুক্ত সাংবাদিক আনিস আলমগীর *** হয়তো এখনই নয়, তবে ইরান সরকারের পতন হবেই: ট্রাম্প *** ‘পদত্যাগ ও মেয়াদ পূর্ণ করার কথা—সাহাবুদ্দিন দুটিই বলেন প্রধানমন্ত্রীর ইঙ্গিতে’ *** সাধারণ মানুষের প্রশংসায় ‘সাধাসিধা’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান *** ‘প্রধানমন্ত্রীর সামনে যে সুযোগ রয়েছে, তা আগের কোনো দলীয় নেতার ছিল না’ *** অপারেশন থিয়েটারে মির্জা আব্বাস, মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার *** মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী *** বিতর্কিত শোক প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মাসুদ কামাল

‘বঙ্গবন্ধু’ বিশেষণ নয়, এটি বিশেষ্য পদ

উপ-সম্পাদকীয়

🕒 প্রকাশ: ০৯:২৯ অপরাহ্ন, ৪ঠা নভেম্বর ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

মাহবুব কামাল

টেলিভিশনে আমার অতিঘনিষ্ঠ এবং অতিপ্রিয়ও বটে, আহসান কবিরের কথাগুলো শুনছিলাম। তিনি বলছেন, এ দেশে সবচেয়ে ভারতবিরোধীর নাম শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি দু'টি জোরালো যুক্তি দিয়েছেন।

১. ২৫শে মার্চ রাতে অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতার মতো তিনিও ভারতে আশ্রয় নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি মৃত্যুর আশঙ্কাকে সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানের কারাগারকেই বেছে নিয়েছিলেন।

২. স্বাধীনতার পর দেশে ফেরার পথে তিনি দিল্লিতেই ইন্দিরা গান্ধীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি তার সেনাবাহিনীকে কবে ফেরত নিচ্ছেন। এটাই ছিল তার প্রথম কনসার্ন। এবং ঠিকই ১৭ই মার্চ তার জন্মদিনের আগেই ভারতীয় সেনাবাহিনী চলে গিয়েছিল।

ধন্যবাদ কবির। তবে আপনি আরেকটি বড় যুক্তি তুলে ধরেননি। ইন্দিরা গান্ধী কী মনে করবেন ভাবেননি, তিনি ইসলামী দেশগুলোর সংগঠন ওআইসি'র সদস্যপদ নিয়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধু এক বিদেশি সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলার সময় বলেছিলেন, আমি শক্তি-পরাশক্তি বুঝি না, আমি বুঝি পৃথিবী দুই ভাগে বিভক্ত, শোষক ও শোষিত, আমি শোষিতের পক্ষে। তাতে যদি আমার অবস্থা চিলির আলেন্দের মতো হয়, অসুবিধা নেই।

১৯৭৩ সালে  চিলিতে সামরিক অভ্যুত্থানের সময় আলেন্দের কী পরিণতি হয়েছিল, আমরা জানি। বঙ্গবন্ধু শোষিতের পক্ষে থাকতে চেয়েছিলেন বলেই বোধকরি, তিনি কমিউনিজমের আদলে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটা ছিল একটা মস্ত ভুল। এই গুরুতর ভুলের কারণ হলো, পৃথিবীর সব জাতীয়তাবাদী নেতাই, নেপোলিয়ন থেকে শুরু করে সবাই মনে করেন, তিনি ক্ষমতা থেকে চলে গেলে দেশের বারোটা বাজবে। বঙ্গবন্ধু এই চিন্তাতেই স্বৈরশাসক হয়ে উঠেছিলেন।

অনেককে দেখি, 'বঙ্গবন্ধু' বলেন না, বলেন 'শেখ মুজিব', কেউ আবার একটু ভদ্রতা করে বলেন 'শেখ সাহেব'। আসলে 'বঙ্গবন্ধু কোনো বিশেষণ নয়, এটা এখন বিশেষ্য পদে পরিণত হয়েছে। এটা তার নামেরই একটি অংশ।

দুই.

ঐকমত্য কমিশন এত বেশি সংস্কার প্রস্তাব জট ডাউন করেছিল যে, তা সাত খণ্ডের রামায়ণ হয়ে গিয়েছিল। যা হোক, জুলাই সনদে প্রস্তাব কমে এসে তিন-চার খণ্ড হয়েছে। তো আমি দু'-একটি টেলিভিশনে বলেছিলাম, দুই-একটি ওষুধে যে রোগ সারে না, দুই মুঠভর্তি ওষুধে তা সারবে না। কথাটা একটু বাড়াই।

ইংরেজি holistic মানে সামগ্রিক। চিকিৎসায় holistic medicine ব্যবহৃত হয়। এই ওষুধ শুধু শরীরের লক্ষণগুলোই আমলে নেয় না, পুরো মানুষটিকে বুঝতে চায়। আমাদের অসুখ সারাতে হলে হলিস্টিক ওষুধ লাগবে। অর্থাৎ পুরো রাষ্ট্রটিকে বুঝতে হবে। দু'-একটি নির্বাচনে অসুখ সারবে না। কথা ক্লিয়ার?

লেখক: জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, কলামিস্ট ও টকশো তারকা

মাহবুব কামাল

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250