শুক্রবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৮ই ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** একুশে ফেব্রুয়ারি ঘিরে নিরাপত্তার শঙ্কা নেই: ডিএমপি কমিশনার *** ‘খুলনা, বরিশাল, রাজশাহীকে আওয়ামী লীগের সরকার বিদেশের মতো বানিয়েছে’ *** প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন *** বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়ন ও প্রতিরক্ষা চুক্তি করার আহ্বান জানালেন ট্রাম্প *** মৌলবাদ সামাল দিতে আওয়ামী লীগকে ছাড় দেবে বিএনপি: বদিউর রহমান *** রমজানের প্রথম দিনেই ২০ টাকা হালি লেবুর দাম বেড়ে ১২০ *** বাসসের এমডি মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন *** এইচএসসি পরীক্ষার ফি বাড়ল ২১০ টাকা *** শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে যা জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী *** সড়কে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নেওয়া চাঁদা নয়, বাধ্য করা হলে চাঁদা: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী

তারা ছিলেন, তারা আছেন, তারা থাকবেন আপন সৃষ্টিতে

বিনোদন প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৯:৩২ অপরাহ্ন, ২৭শে ডিসেম্বর ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

শোবিজ অঙ্গনের অনেককেই আমরা হারিয়েছি ২০২৫ সালে। কিন্তু, তারা বেঁচে থাকবেন আপন সৃষ্টিতে। এ বছর আমরা হারিয়েছি কণ্ঠশিল্পী ফরিদা পারভীন, অভিনেত্রী অঞ্জনা, অভিনেতা প্রবীর মিত্র, ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সন্‌জীদা খাতুন, কণ্ঠশিল্পী জীনাত রেহানা, এ কে রাতুল, জেনস সুমন, সেলিম হায়দারকে।

চলতি বছরের ৪ঠা জানুয়ারি মারা যান তিন শতাধিক চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী অঞ্জনা রহমান। নৃত্যশিল্পী থেকে নায়িকা হয়ে সর্বাধিক যৌথ প্রযোজনা ও বিদেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।

বাংলাদেশ ছাড়াও তিনি অভিনয় করেছেন ৯টি দেশের ১৩টি ভাষার সিনেমায়। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে 'মাটির মায়া', 'অশিক্ষিত', 'চোখের মণি', 'সুখের সংসার', 'জিঞ্জির', 'অংশীদার', 'আনারকলি', 'বিচারপতি', 'অভিযান', 'মহান', 'ফুলেশ্বরী', 'রাম রহিম জন', 'পরিণীতা', 'দস্যু বনহুর' ইত্যাদি।

চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান অভিনেতা প্রবীর মিত্র গত ৫ই জানুয়ারি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। তার ধর্মান্তরিত নাম মো. হাসান ইমাম। ৬ই জানুয়ারি এফডিসি ও চ্যানেল আইতে জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

প্রবীর মিত্র অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হলো 'তিতাস একটি নদীর নাম', 'জীবন তৃষ্ণা', 'সেয়ানা', 'জালিয়াত', 'ফরিয়াদ', 'রক্ত শপথ', 'চরিত্রহীন', 'জয় পরাজয়', 'অঙ্গার', 'মিন্টু আমার নাম', 'ফকির মজনু শাহ', 'মধুমিতা', 'অশান্ত ঢেউ', 'অলংকার', 'অনুরাগ', 'প্রতিজ্ঞা' ইত্যাদি।

বরেণ্য লোকসংগীত শিল্পী ফরিদা পারভীন গত ১৩ই সেপ্টেম্বর মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। ১৯৫৪ সালে ৩১শে ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়া থানায় ফরিদা পারভীনের জন্ম হয়। ১৪ বছর বয়সে ১৯৬৮ সালে তার পেশাদার সংগীত-জীবন শুরু হয়।

নজরুলগীতি, দেশাত্মবোধক নানা ধরনের গান করলেও শিল্পী-জীবনে পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা পেয়েছেন মূলত লালন সাঁইয়ের গান গেয়ে। ১৯৮৭ সালে তিনি একুশে পদক এবং ১৯৯৩ সালে সেরা প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এ ছাড়া, ২০০৮ সালে জাপান সরকারের 'ফুকুওয়াকা এশিয়ান কালচার' পুরস্কার পান।

ছায়ানটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, রবীন্দ্রগবেষক ও সংগীতজ্ঞ সন্‌জীদা খাতুন মারা যান ২৫শে মার্চ। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা ও জাতীয় অধ্যাপক কাজী মোতাহার হোসেনের মেয়ে সন্‌জীদা খাতুনের জন্ম ১৯৩৩ সালের ৪ঠা এপ্রিল।

তিনি কামরুন্নেসা স্কুল, ইডেন কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং শান্তি নিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করে ১৯৭৮ সালে সেখান থেকেই পিএইচডি করেন। দীর্ঘদিন অধ্যাপনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে তিনি অবসর নেন।

'সাগরের তীর থেকে' কালজয়ী গানের কণ্ঠশিল্পী জীনাত রেহানা ২রা জুলাই মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৬৮ সালে তার কণ্ঠে 'সাগরের তীর থেকে' গানটি বেতারে জনপ্রিয়তা পায়। গানটির গীতিকার ছিলেন জেবুন নেসা জামাল, গানটির সুরকার ছিলেন করীম সাহাবুদ্দীন।

১৯৬৫ সাল থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশনেরও নিয়মিত শিল্পী ছিলেন তিনি। তবে পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকায় গান থেকে খানিকটা দূরে চলে যান।

তার গাওয়া দর্শকপ্রিয় গানের তালিকায় রয়েছে—একটি ফুল আর একটি পাখি বলতো কী নামে তোমায় ডাকি, আমি কাঁকন দিয়ে ডেকেছিলাম মুখে লজ্জা ছিল বলে, কপালে তো টিকলি পরব না, আমি যার কথা ভাবছি মনে আনমনে, আমায় যদি ডাকো কাছে, কণ্ঠবীণা, মনে রেখো স্মৃতি থেকে। তিনি ছিলেন প্রয়াত টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব মোস্তফা কামাল সৈয়দের সহধর্মিণী।

প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী, সুরকার, সংগ্রাহক, গবেষক ও লেখক মুস্তাফা জামান আব্বাসী ১০ই মে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা যান। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত সংগীত পরিবারের সন্তান। বাবা আব্বাসউদ্দীন আহমদ পল্লিগীতির কিংবদন্তি শিল্পী। চাচা আব্দুল করিম ছিলেন পল্লিগীতি, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালির শিল্পী।

বড় ভাই মোস্তফা কামাল আইনবিশারদ। মোস্তফা কামালের মেয়ে নাশিদ কামালও একজন কণ্ঠশিল্পী। বোন ফেরদৌসী রহমান দেশের প্রথিতযশা সংগীতজ্ঞ। মুস্তাফা জামান আব্বাসী ভারতের কোচবিহার জেলার বলরামপুর গ্রামে ১৯৩৬ সালের ৮ই ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার শৈশব ও কৈশোরকাল কলকাতায় কাটে।

তিনি ১৯৫৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ অনার্স এবং ১৯৬০ সালে এমএ পাস করেন। তিনি বেতার ও টেলিভিশনে সংগীতবিষয়ক বেশকিছু অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছেন। তিনি কলাম লেখক হিসেবেও সুপরিচিত ছিলেন।

ব্যান্ড 'ওন্ড'-এর ভোকালিস্ট ও বেজিস্ট, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার এ কে রাতুল মারা যান ২৭শে জুলাই। উত্তরার একটি জিমে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। পরে তাকে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে লুবানা হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর ঘণ্টাখানেক পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। তিনি প্রয়াত চিত্রনায়ক জসীমের পুত্র। 

কণ্ঠশিল্পী জেনস সুমন ২৮শে নভেম্বর রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে মারা যান। ২০০২ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের একটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে 'একটা চাদর হবে' গানটি গেয়ে আলোচিত হয়েছিলেন। প্রায় ৩০০ গান গেয়েছেন তিনি।

এই কণ্ঠশিল্পীর আসল নাম গা‌লিব আহসান মে‌হে‌দি। জেনস সুমনের প্রথম একক অ্যালবাম 'আশীর্বাদ' প্রকাশিত হয় ১৯৯৭ সালে। 'আকাশ কেঁদে‌ছে', 'অতিথি', 'আশাবাদী', 'একটা চাদর হবে', 'আয় তোরা আয়', 'চেরী' তার শ্রোতাপ্রিয় গান।

ফিডব্যাক ব্যান্ডের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য গিটারিস্ট সেলিম হায়দার ২৭শে নভেম্বর  মারা যান। ফিডব্যাক গঠনের আগে সেলিম হায়দারের প্রথম ব্যান্ড ছিল 'সন্ন্যাসী'। প্রয়াত গায়ক শেখ ইশতিয়াক ছিলেন এই ব্যান্ডের ভোকাল। পরবর্তীতে 'ফিডব্যাক', 'মাকসুদ ও ঢাকা' ব্যান্ডে গিটার বাজান।

সবশেষ 'উল্লাস' এবং 'সেলিম হায়দার ও ফ্রেন্ডস' ব্যান্ডে বাজাতেন তিনি। তার সুর করা ফিডব্যাকের দুটি জনপ্রিয় গান হল 'এইদিন চিরদিন রবে' ও 'ঐ দুর থেকে দুরে'।

তিনি মূলত লিড গিটারিস্ট হলেও বেজ, রিদম ও কি-বোর্ড বাজানোতেও সমান পারদর্শী ছিলেন।

সালতামামি

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250