ছবি: বাফুফে
জাতীয় দলের ক্যাম্পে নতুন মুখ শুকি ইতোফুসা। জাপানে বেড়ে ওঠা ২২ বছর বয়সী এই তরুণের বাংলা ভাষাটা শেখা হয়নি। ইংরেজিতেও স্বচ্ছন্দ নন। অথচ একই দলের খেলোয়াড় হিসেবে হামজা চৌধুরী, জামাল ভূঁইয়াদের সঙ্গে তাকে মাঠে ও মাঠের বাইরে তাল মেলাতে হচ্ছে। কীভাবে চলছে সেই যোগাযোগ?
শুকির কাছে অবশ্য বিষয়টি এখন আর খুব একটা কঠিন মনে হচ্ছে না। সতীর্থরা কথা বলেন সহজ ইংরেজিতে, সঙ্গে থাকে ইশারা-ইঙ্গিত। সেটুকুতেই কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাপানি এই ফুটবলার। বরং নতুন সতীর্থদের কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতাই স্বস্তি দিচ্ছে তাকে।
বাফুফের পাঠানো ভিডিও বার্তায় শুকি বলেন, ‘জানি তারা (সতীর্থরা) জাপানিজ বলতে পারে না। তবে তারা ইংরেজি বা সহজ কিছু ইশারা-ইঙ্গিত ব্যবহার করে, যা আমি বুঝতে পারি। এ ছাড়া, কিছু সতীর্থ সব সময় আমার খেয়াল রাখে এবং আমার সঙ্গে কথা বলে। তাই এখন আমি মোটামুটি একটা পর্যায় পর্যন্ত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি। সময়টা খুব উপভোগও করছি, কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’
বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া বাবা আতাউর রহমান ও জাপানি মা শিজু ইতোফুসার সন্তান শুকির বেড়ে ওঠা জাপানেই। মা-বাবা দুজনেই এখন থাকেন জাপানে। তাই বাংলাদেশের ভাষা-সংস্কৃতির সঙ্গে তার পরিচয় মূলত জাতীয় দলের ক্যাম্প আর ফুটবলকে ঘিরেই বাড়ছে। নতুন দেশে এসে নতুন দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সেই প্রক্রিয়ায় ভাষার দেয়ালটা শুরুতে বড় মনে হলেও সতীর্থদের সহায়তায় সেটি ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসছে।
ফিফা আসিয়ান কাপে গতকাল মালয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছে শুকির। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ফাহামিদুল ইসলামের বদলি হয়ে মাঠে নামেন তিনি। বাংলাদেশের আক্রমণে কিছুটা গতি ফেরাতে পেরেছিলেন শুকি ও আরেক অভিষিক্ত জিদান ইউসুফ। বাংলাদেশ ৩-০ গোলে হারলেও অভিষেকের রোমাঞ্চটা পেয়েছেন ঠিকই।
শুকি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই জাতীয় দলের জার্সি পরা এবং সেই জার্সিতে মাঠে খেলা আমার স্বপ্ন ছিল। স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।’
প্রথম ম্যাচেই জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন—এমনটা অবশ্য ভাবেননি শুকি, ‘আমি আসলে কখনো এভাবে ভাবিনি যে, গতকাল অভিষেক হয়ে যাবে; তবে আমি প্রস্তুত ছিলাম দেশের জন্য লড়তে।’
বাংলাদেশের পরের ম্যাচ আগামী সোমবার, সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। সেখানে হামজা-জামালদের সঙ্গে শুকির বোঝাপড়ার পরীক্ষা হবে মাঠের বাইরের ভাষা ছাড়াই—পাস, দৌড় আর ইশারার ফুটবলে।
খবরটি শেয়ার করুন