রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১২ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ড. ইউনূস আমলে গ্রেপ্তার, জামিনের একমাস পর মৃত্যু সাংবাদিকের, কিছু প্রশ্ন *** বাংলাদেশের কিসের এত দুশ্চিন্তা *** এমবাপ্পের চোট কতটা গুরুতর *** জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন সোমবার *** জাসদ কার্যালয় থেকে আটক ২৭ জন কারাগারে *** দফায় দফায় হামলা, ধ্বংসস্তূপ থেকে যেভাবে বেঁচে ফিরলেন মোজতবা খামেনি *** জাসদ কার্যালয়ে হামলা, মব সৃষ্টি ও আটকের ঘটনায় আসকের নিন্দা *** ঢাকায় তিন দিনে চার স্থানে হামলা-ভাঙচুর-লুট, প্রশ্নের মুখে আইনশৃঙ্খলা *** দখল-চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা সরকারের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি *** পাকিস্তান থেকে আফগানিস্তানে প্রবেশ করা ২৮ সশস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যার দাবি তালেবানের

নতুন করে ১০ জেলায় বন্যার শঙ্কা

জেবিন শান্তনু

🕒 প্রকাশ: ০৬:৪৩ অপরাহ্ন, ১২ই জুলাই ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

অবিরাম ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নদ-নদীর পানি আবারও দ্রুত বাড়ছে। এরই মধ্যে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের অন্তত ১০টি জেলা আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। একই সঙ্গে বন্যাকবলিত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষা, দ্রুত ত্রাণ, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা এবং মাঠপর্যায়ে সর্বোচ্চ সমন্বয়ের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রোববার প্রকাশিত এফএফডব্লিউসির বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ছয় জেলার প্রধান পাঁচটি নদীর সাতটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে ফেনী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, সিলেট, নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার নদীতীরবর্তী নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

তবে একই সময়ে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানের চলমান বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি। যদিও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় এই উন্নতি প্রত্যাশিত সময়ের তুলনায় কিছুটা ধীর হতে পারে।

এফএফডব্লিউসির নির্বাহী প্রকৌশলী সর্দার উদয় রায়হান বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজারের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ধীরগতির হতে পারে। তবে এরপর পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে দেশের আরও ১০টি জেলায় নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। তবে তিন দিন পর সেসব এলাকার অবস্থারও উন্নতি হতে পারে।

শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবানে সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ১৯০ সেন্টিমিটার এবং দোহাজারীতে ৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। লামায় মাতামুহুরী নদী বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদী বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার এবং মৌলভীবাজারে মনু নদী ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নেত্রকোনার কমলাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। আগামী তিন দিনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় ৩০০ থেকে ৪৫০ মিলিমিটার এবং উত্তর সীমান্তবর্তী এলাকায় ২৫০ থেকে ৩৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই অতিবৃষ্টির প্রভাবেই নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এফএফডব্লিউসি জানিয়েছে, কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিচু এলাকার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। একই সঙ্গে সুরমা নদীতেও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী ও ভোগাই-কংস নদীর পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নিচু এলাকাগুলো নতুন করে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে কিছু এলাকায় ইতিবাচক লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করায় মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।

চট্টগ্রাম বিভাগে মুহুরী, ফেনী ও সেলুনিয়া নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী দুই দিন এই নদীগুলোর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু এলাকায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

উত্তরাঞ্চলেও সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। তিস্তা, দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানি আগামী তিন দিন বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নিচু এলাকায় ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এদিকে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি জোরদার করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্যাকবলিত জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষা, দ্রুত উদ্ধার, পর্যাপ্ত ত্রাণ, বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদার করার পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় প্রশাসনের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি নিশ্চিত করার কথাও জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও বন্যাকবলিত এলাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাবার স্যালাইন এবং পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক দিনই পরিস্থিতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। উজানের বৃষ্টিপাত এবং দেশের অভ্যন্তরে ভারী বর্ষণ একসঙ্গে অব্যাহত থাকলে কয়েকটি অঞ্চলে পানি দ্রুত বাড়তে পারে। তাই নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকা, স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বন্যার শঙ্কা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250