ছবি: সংগৃহীত
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চলমান মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন এবং আইনি প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। সভায় অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের নেতৃত্বে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল, অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেলবৃন্দ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আশরাফুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় চলমান মামলাসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তি, প্রশাসনিক জটিলতা দূরীকরণ এবং আইনি কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বিভিন্ন তালিকা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়ে অতীতে কিছু অনিয়ম ও জটিলতা তৈরি হয়েছে, যা এখন সমন্বিতভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে। আমাদের লক্ষ্য হলো একটি স্বচ্ছ, নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের মামলাজট কমিয়ে আনা। এ জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুরক্ষা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আমরা প্রয়োজনীয় আইনগত সংস্কারের দিকেও অগ্রসর হচ্ছি। আশা করি যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে।”
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “বর্তমানে বিভিন্ন দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে যে পরিমাণ মামলা বিচারাধীন রয়েছে, তা বিচার ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রেও কিছু জটিল আইনি ইস্যু দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে, যা দ্রুত নিষ্পত্তি প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “একই ধরনের মামলাগুলোকে একত্রিত করে নিষ্পত্তি, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিকল্প আইনি পথ অনুসন্ধান এবং নীতিগত নির্দেশনা পর্যালোচনার মাধ্যমে এই মামলাজট অনেকাংশে কমানো সম্ভব। আমরা রাষ্ট্রের স্বার্থে এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।”
সভায় উভয় পক্ষ মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত সমন্বয় সভা আয়োজনের বিষয়ে একমত হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত উদ্যোগ ও কার্যকর আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন জটিলতা নিরসন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে আরও গতি আনা সম্ভব হবে।
খবরটি শেয়ার করুন