শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২১শে ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে *** ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগ নিলে গণ-আন্দোলনের হুঁশিয়ারি *** লংমার্চ করে গ্যাস-বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে না, সরকারকে সময় দিতে হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক *** বিদুরের ১৫টির মধ্যে ৫টি পানির উৎসে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া, বাড়ছে রোগের ঝুঁকি *** ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কী কী করা যাবে না, জানাল ঢাকার মার্কিন দূতাবাস *** বিরোধীদের লংমার্চের কারণে জ্বালানি সংকট আরও বাড়ছে: রাশেদ খাঁন *** বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি করছে: শফিকুর রহমান *** বিরোধী জোটের লংমার্চ শুরু, অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের ঘোষণা *** তালাবদ্ধ ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ, ভেতরে মিলল নবজাতকসহ ৩ জনের লাশ *** ব্রিকসে তারেক রহমান বা তার প্রতিনিধি কেউ আসছেন কি না, ভারত জানে না

শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার নিয়ে আলোচিত কে এই কৃষ্ণা দাস?

প্রণব সাহা

🕒 প্রকাশ: ০৫:১১ অপরাহ্ন, ১৬ই জুলাই ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ২০২৪ সালে ভারতে যাওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরাকে ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সামাজিক মাধ্যমে বারবার দাবি করে আসছিলেন, তিনি শিগগিরই বাংলাদেশে ফিরবেন। পরে ভারতের টেলিভিশন চ্যানেল এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানান, তিনি দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে চান। তবে কবে ফিরবেন, সে বিষয়ে তখন তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময় উল্লেখ করেননি।

এরপর আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে প্রথমবারের মতো শেখ হাসিনা জানান, তিনি আগামী ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারাও তার সঙ্গে দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন। রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই বক্তব্য প্রকাশের পর তা বাংলাদেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনটি পরে বিশ্বের বহু প্রভাবশালী গণমাধ্যম পুনঃপ্রকাশ করে।

এই সাক্ষাৎকারের পর আরেকটি নামও আলোচনায় উঠে আসে—রয়টার্সের ভারতীয় সাংবাদিক ও সম্পাদক কৃষ্ণা এন. দাস। গত দুই বছরের মধ্যে শেখ হাসিনার এটিই ছিল প্রথম পূর্ণাঙ্গ টেলিফোন সাক্ষাৎকার। ফলে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী হিসেবে কৃষ্ণা এন. দাসকে নিয়েও বাংলাদেশে আগ্রহ তৈরি হয়।

গত ৯ জুলাই গভীর রাত থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী টেলিফোনে এই সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। রয়টার্সে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের হাসিনা ডিসেম্বর মাসে দলীয় নেতাদের সঙ্গে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে কৃষ্ণা এন. দাসের নাম প্রতিবেদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে তার পরিচয় ও পেশাগত পটভূমি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

রয়টার্সের আনুষ্ঠানিক পরিচিতি অনুযায়ী, কৃষ্ণা এন. দাস বর্তমানে ভারতে রাজনীতি ও সাধারণ সংবাদ বিভাগের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাংবাদিকতা জীবনে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি, কূটনীতি, নির্বাচন, অর্থনীতি, মানবাধিকার, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছেন। ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও মালয়েশিয়াসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাও তিনি কভার করেছেন।

কৃষ্ণা এন. দাস ২০১৯ ও ২০২০ সালে রয়টার্সের মালয়েশিয়া ব্যুরোপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ভারতে ফিরে সম্পাদকীয় দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদক এবং সম্পাদক—দুই ভূমিকাতেই তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য যাচাই এবং জটিল রাজনৈতিক ঘটনাকে সহজ ও নির্ভুলভাবে উপস্থাপনের দক্ষতার জন্য তিনি সহকর্মীদের কাছেও পরিচিত।

আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতায় তার অবদানের স্বীকৃতিও রয়েছে। তিনি এমন কয়েকটি প্রতিবেদক দলের সদস্য ছিলেন, যারা এশিয়ার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সোসাইটি অব পাবলিশার্স ইন এশিয়া (সোপা) পুরস্কার অর্জন করে। ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে বিষাক্ত কাশির সিরাপ–সংক্রান্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য রয়টার্সের দল সোপা পুরস্কার পায়। এর আগে ২০১৮ সালে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের কভারেজ এবং ২০১৭ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদনের জন্যও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক দল একই স্বীকৃতি অর্জন করে। এসব অর্জন আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতায় তার সম্পৃক্ততা ও পেশাগত মানের পরিচায়ক হিসেবে বিবেচিত হয়।

দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি নিয়ে কৃষ্ণা এন. দাসের কাজ বিশেষভাবে পরিচিত। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, চীন-ভারত প্রতিযোগিতা, সীমান্ত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক কূটনীতি, মিয়ানমারের সংকট এবং দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্য নিয়ে তার একাধিক প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পেয়েছে। জটিল কূটনৈতিক বিষয়কে তথ্যনির্ভর ও পাঠকবান্ধব ভাষায় উপস্থাপনের দক্ষতার জন্যও তিনি পরিচিত।

বাংলাদেশ–সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবেদনে তিনি রাজনৈতিক পরিবর্তন, নির্বাচন, অর্থনীতি, সংখ্যালঘু পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারত, চীন এবং পশ্চিমা দেশগুলোর কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে তার একাধিক প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

তবে তার কিছু প্রতিবেদন নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। কয়েকজন বিশ্লেষক ও সমালোচকের মতে, বাংলাদেশ–সংক্রান্ত কিছু প্রতিবেদনে ভারতের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আঞ্চলিক কৌশলগত প্রতিযোগিতা এবং সংখ্যালঘু ইস্যু নিয়ে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে এ ধরনের আলোচনা দেখা গেছে। তবে এ ধরনের মূল্যায়ন বিশ্লেষকদের মতামত; এ বিষয়ে সর্বজনস্বীকৃত কোনো সিদ্ধান্ত নেই।

শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় শেখ হাসিনা বিতর্কিত একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলার বিচার ও রায়, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং সহিংস দমন-পীড়নের অভিযোগ নিয়ে দেশ-বিদেশে আলোচনা রয়েছে। ফলে তার মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সাক্ষাৎকার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সেটি স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে।

রয়টার্সের এই সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ সাক্ষাৎকারের প্রশ্ন, উপস্থাপন এবং বিভিন্ন দিক নিয়ে সমালোচনা করেছেন। আবার অনেকেই মনে করেন, আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা হিসেবে রয়টার্স সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য তুলে ধরার পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক পটভূমিও প্রতিবেদনে সংযুক্ত করেছে। ফলে সাক্ষাৎকারটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলিল হিসেবেই আলোচিত হয়েছে।

কৃষ্ণা এন. দাসকে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতায় একজন অভিজ্ঞ, তথ্যনির্ভর এবং পরিশ্রমী সম্পাদক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে দক্ষিণ এশিয়ার জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতা, আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক সংকট নিয়ে কাজ করার কারণে তিনি এই অঞ্চলের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে গভীর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। সংবেদনশীল বিষয়ে বহু পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে তার পেশাগত দক্ষতার কথাও সহকর্মীরা উল্লেখ করে থাকেন। সম্পাদক হিসেবে তিনি শুধু সংবাদ সম্পাদনাই করেন না, বরং অনুসন্ধানী ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন প্রতিবেদনের পরিকল্পনা ও সমন্বয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে তার নাম নতুন করে আলোচনায় এলেও আন্তর্জাতিক সংবাদজগতে কৃষ্ণা এন. দাস বহু বছর ধরেই পরিচিত একটি নাম। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি, কূটনীতি ও নিরাপত্তা বিষয়ে ধারাবাহিক কাজ, আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিবেদক দলের সদস্য হিসেবে সাফল্য এবং রয়টার্সের মতো বিশ্বখ্যাত সংবাদ সংস্থায় নেতৃত্বপূর্ণ সম্পাদকীয় দায়িত্ব—সব মিলিয়ে তিনি এই অঞ্চলের অন্যতম অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের একজন হিসেবে বিবেচিত হন। শেখ হাসিনার আলোচিত সাক্ষাৎকার সেই দীর্ঘ পেশাগত যাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং বাংলাদেশেও তাকে নিয়ে সাধারণ পাঠকের আগ্রহ বাড়িয়ে তুলেছে।

শেখ হাসিনা কৃষ্ণা এন. দাস

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে

🕒 প্রকাশ: ০৩:৪৭ অপরাহ্ন, ৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগ নিলে গণ-আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

🕒 প্রকাশ: ০৩:৪৩ অপরাহ্ন, ৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

লংমার্চ করে গ্যাস-বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে না, সরকারকে সময় দিতে হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক

🕒 প্রকাশ: ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, ৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদুরের ১৫টির মধ্যে ৫টি পানির উৎসে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া, বাড়ছে রোগের ঝুঁকি

🕒 প্রকাশ: ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, ৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

যশোরে অ্যাম্বুলেন্সে সন্তানের জন্ম দিলেন নারী হাজতি

🕒 প্রকাশ: ০৩:২৫ অপরাহ্ন, ৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250