ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর এখনো ভারত সফর করেননি। তার প্রথম ভারত সফর কবে হবে, সেটিও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত নয়। ভারতের পক্ষ থেকে তাকে দুই ধরনের আমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছিল—একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য, অন্যটি বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজনে অংশ নেওয়ার জন্য। শেষ পর্যন্ত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে যাননি তারেক রহমান। এর কয়েক দিন পরই ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি আজ মঙ্গলবারের (১৫ সেপ্টেম্বর) এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে প্রশ্ন তুলেছে, কেন দিল্লির ব্রিকস সম্মেলন এড়িয়ে জাতিসংঘের অধিবেশনকে বেছে নিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত তারেক রহমানকে প্রথমে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য এবং পরে বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে ব্রিকসের আয়োজনে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো তার ভারত সফরের বিষয়ে নয়াদিল্লিকে কোনো নিশ্চিত বার্তা দেয়নি।
এর পেছনে বাংলাদেশের সরকারি ব্যাখ্যা অবশ্য বেশ স্পষ্ট। পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য অনুযায়ী, ঢাকা ভারতের সঙ্গে একটি নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। আর সেই সম্পর্কের সূচনা বহুপক্ষীয় কোনো সম্মেলনের ফাঁকে নয়, সরাসরি দ্বিপক্ষীয় সফরের মাধ্যমে করতে চায়। এনডিটিভির গতকাল ১৪ সেপ্টেম্বরের আরেক প্রতিবেদনে এই অবস্থানকে বাংলাদেশের ভারত-সম্পর্ক ‘পুনর্বিন্যাসের’ প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরা হয়।
হুমায়ুন কবিরের যুক্তি হলো, তারেক রহমানকে যদি ভারতের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের সূচনা করতেই হয়, তাহলে সেটি আলাদা দ্বিপক্ষীয় সফরের মাধ্যমে হওয়া বেশি অর্থবহ। দিল্লিতে অন্য দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে একই আয়োজনে যোগ দিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করার চেয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় সফরে দুই দেশের সম্পর্কের জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার সুযোগ বেশি থাকবে। তার ভাষায়, বাংলাদেশের লক্ষ্য ভারতের সঙ্গে ‘ভালো কার্যকর সম্পর্ক’ তৈরি করা এবং সেই সম্পর্কের ভিত্তি হবে পারস্পরিক স্বার্থ।
এই ব্যাখ্যার মধ্যে কূটনৈতিক বার্তাটিও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ বলতে চাইছে, ভারত তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হলেও নতুন সরকার দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ককে আগের কাঠামোয় ফিরিয়ে নিতে চায় না। এনডিটিভির ১৪ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ঢাকা আগের সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে একটি নতুন সম্পর্কের দিকে যেতে চায়। তার বক্তব্যে শেখ হাসিনা সরকারের সময়ের সম্পর্ককে অস্বস্তিকর হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং ভারতের সঙ্গে যোগাযোগকে বহুপক্ষীয় মঞ্চের বদলে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় নিয়ে আসার কথা বলা হয়েছে।
তবে কেবল আমন্ত্রণের ধরন দিয়ে তারেক রহমানের দিল্লি না যাওয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যা করা যায় কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ ভারতের বক্তব্য ছিল, তারেক রহমানকে ব্রিকসের আয়োজনে বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা বলেছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এই প্রোটোকলগত পার্থক্যটি শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এবং ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসও বিষয়টিকে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন টানাপোড়েনের অংশ হিসেবে বিশ্লেষণ করেছে।
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে আসছে। ভারত বলেছে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ-অনুরোধ নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা করা হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনার সময় ঢাকা শেখ হাসিনাসহ অন্য ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের জবাবের অপেক্ষায় ছিল।
ফলে তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে কূটনৈতিক হিসাবের কেন্দ্রে শেখ হাসিনার বিষয়টি থাকা অস্বাভাবিক নয়। গত আগস্টে দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্যের পর ঢাকার অসন্তোষ আরও প্রকাশ্য হয়। ভারতীয় দ্য ট্রিবিউন তখন জানিয়েছিল, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে অগ্রগতি না হলে তারেক রহমানের ভারত সফর আটকে থাকতে পারে। যদিও এই অবস্থানকে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে সরাসরি ‘শর্ত’ হিসেবে সব সময় উপস্থাপন করেনি, দুই দেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক বক্তব্যে বিষয়টি বারবার ফিরে এসেছে।
ভারতীয় কূটনীতিক ও বাংলাদেশে সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী অবশ্য মনে করেন, তারেক রহমানের ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ার পেছনে শুধু আমন্ত্রণের ধরন কাজ করেনি। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে দেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করায় বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার মতে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতবিরোধী অবস্থান নেওয়া মহল তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে যেতে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাবশালী হয়ে থাকতে পারে।
তবে চক্রবর্তীর বক্তব্যকে ভারতীয় কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবেই দেখা উচিত। কারণ তার বিশ্লেষণে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত সম্পর্কের অপরিহার্যতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ চাইলেও ভারতকে অন্য কোনো দেশের মাধ্যমে সহজে প্রতিস্থাপন করতে পারবে না। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ সীমান্ত, বাণিজ্য, যোগাযোগ, চিকিৎসা ও জনগণের পারস্পরিক যাতায়াত—সব মিলিয়ে সম্পর্কটি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া অধ্যয়নের অধ্যাপক সঞ্জয় কে ভরদ্বাজ টাইমস অব ইন্ডিয়া-তে লিখেছেন, ব্রিকসের আমন্ত্রণ বাংলাদেশের জন্য বড় কূটনৈতিক সুযোগ ছিল। তার মতে, বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে তারেক রহমানের উপস্থিতি শুধু ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নয়, বৃহত্তর বৈশ্বিক পরিসরেও বাংলাদেশের ভূমিকা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করতে পারত। ফলে ব্রিকস এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে তাৎক্ষণিকভাবে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার একটি সুযোগ যেমন কমেছে, তেমনি বহুপক্ষীয় কূটনীতির একটি মঞ্চও হাতছাড়া হয়েছে।
তবে এর বিপরীত যুক্তিও আছে। ব্রিকসের মতো সম্মেলনে যোগ দিলে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফরটি স্বাভাবিকভাবেই ভারতের আয়োজিত একটি বহুপক্ষীয় অনুষ্ঠানের অংশ হয়ে যেত। এতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আলোচনায় ঢাকার নিজস্ব অগ্রাধিকারগুলো তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পেতে পারত। বর্তমান সরকার হয়তো সেই পরিস্থিতি এড়াতে চেয়েছে। তার বদলে একটি পৃথক সফরে গিয়ে সীমান্ত, পানি, বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ, নিরাপত্তা, প্রত্যর্পণ এবং রাজনৈতিক আস্থার মতো বিষয় একসঙ্গে আলোচনায় আনতে চায়।
এখানে ওয়াশিংটনের বিষয়টিও উপেক্ষা করার মতো নয়। ব্রিকসের বর্তমান রাজনৈতিক চরিত্র আগের তুলনায় অনেক বেশি ভূরাজনৈতিক। দিল্লির সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ফলে তারেক রহমান সেখানে গেলে সেটি বাংলাদেশের বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেত। কিন্তু ঢাকার বর্তমান সরকারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশীদার—বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, রপ্তানি ও কূটনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে।
এ কারণে কূটনৈতিক মহলের কেউ কেউ মনে করছেন, তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে না গিয়ে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যাওয়ায় ওয়াশিংটন স্বস্তি পেতে পারে। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নটি ঢাকার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, একই সময়ে চীন ও রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন বহুপক্ষীয় পরিসরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভিন্ন ধরনের বার্তা দিতে পারত। তাই ব্রিকস এড়িয়ে জাতিসংঘকে বেছে নেওয়া ঢাকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি পরোক্ষ কূটনৈতিক সংকেত হিসেবেও কেউ কেউ দেখছেন। তবে ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি; ফলে এটিকে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নয়, বরং কূটনৈতিক বিশ্লেষণ হিসেবেই দেখা উচিত।
বিশেষ করে তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের সময়সূচি এই বিশ্লেষণকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে। ২১ সেপ্টেম্বর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন এবং ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে থাকার কথা। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের নতুন সরকারের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকের সুযোগ থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। হুমায়ুন কবির বলেছেন, বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে এ ধরনের বৈঠক অনেক সময় শেষ মুহূর্তে নির্ধারিত হয়।
নিউইয়র্ক সফরে রোহিঙ্গা সংকটও বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হতে পারে। বাংলাদেশ একটি উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-আয়োজনের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে চায়। ফলে জাতিসংঘের মঞ্চটি ঢাকার জন্য একসঙ্গে কয়েকটি উদ্দেশ্য পূরণের সুযোগ তৈরি করছে—বিশ্বনেতাদের সামনে নতুন সরকারের অবস্থান তুলে ধরা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়ানো এবং একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ করা।
এ দিক থেকে দেখলে ব্রিকস এড়িয়ে জাতিসংঘে যাওয়াকে কেবল ‘ভারতকে এড়িয়ে যাওয়া’ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়ে না। বরং এটি হতে পারে অগ্রাধিকার ঠিক করার একটি কৌশল। দিল্লিতে গেলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কই সফরের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠত। নিউইয়র্কে গেলে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, জাতিসংঘ এবং বিশ্বের অন্যান্য শক্তির সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থাকছে। নতুন সরকারের জন্য এটি একটি বিস্তৃত কূটনৈতিক পরিসর তৈরি করে।
তবে ঝুঁকিও রয়েছে। ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ এবং নিরাপত্তার মতো বাস্তব স্বার্থ জড়িত। গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদও চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। তিস্তা চুক্তি বহু বছর ধরে ঝুলে আছে। ভারতীয় বিশেষজ্ঞ পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী মনে করেন, এসব বিষয়ে সামনে কঠিন আলোচনা অপেক্ষা করছে।
সুতরাং তারেক রহমানের ব্রিকস না যাওয়ার সিদ্ধান্তকে একদিকে ভারতের প্রতি রাজনৈতিক বার্তা, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক বৃহত্তর কূটনৈতিক ভারসাম্যের অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের স্বার্থ নির্ভর করবে ঢাকা একই সঙ্গে দিল্লি, ওয়াশিংটন, বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে কতটা ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে তার ওপর।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্রিকসের চেয়ার খালি রাখার সিদ্ধান্তটি স্থায়ী ভারতবিরোধী অবস্থানের ঘোষণা কি না, নাকি প্রথম ভারত সফরকে একটি আলাদা দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগে পরিণত করার কৌশল—তার উত্তর এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য অনুযায়ী, ঢাকা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চায় না; বরং সম্পর্কটি নতুন ভিত্তিতে সাজাতে চায়। আর সেই কারণেই সম্ভবত তারেক রহমান দিল্লির ব্রিকস সম্মেলনের বদলে নিউইয়র্কের জাতিসংঘের মঞ্চকে বেছে নিয়েছেন।
শেষ পর্যন্ত এই কৌশলের সাফল্য নির্ভর করবে একটি প্রশ্নের ওপর—বাংলাদেশ কি একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক পুনর্গঠন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আস্থা বৃদ্ধি এবং চীন-রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত যোগাযোগ বজায় রাখতে পারবে? ব্রিকস এড়িয়ে জাতিসংঘে যাওয়া সেই ভারসাম্য রক্ষার প্রথম বড় পরীক্ষা বলেই মনে হচ্ছে।
খবরটি শেয়ার করুন