মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৭ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী *** ইসলামি বইমেলায় জঙ্গি নেতাদের বই কীভাবে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে, প্রশাসন কী করছে *** ব্যারিস্টার রাজ্জাকের বইকে কেন্দ্র করে জামায়াতের ক্ষমাপ্রার্থনা কেন আলোচনায় *** হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরে পেতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সিএনএন, পলিটিকোর মামলা *** তারেক রহমানের উপহার দেওয়া ইসরায়েলি লেখকের বই কেন ফেরত নিল ধর্ম মন্ত্রণালয় *** বিশ্ববাজারে কমলেও দেশে কেন জ্বালানি তেলের দাম বাড়াচ্ছে সরকার, বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী ছিল *** জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় জনজীবন আরও দুর্বিষহ হবে: জামায়াত *** জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর বাস ভাড়া বাড়ানোর দাবি পরিবহন মালিকদের *** জ্বালানি পাচার রোধে মূল্য সমন্বয় করেছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী *** বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে ১০১ ডলার

সুখবর এক্সপ্লেইনার

ইজারা শেষ হওয়ার আগেই বিলটি যেভাবে চলে গেল বিএনপি নেতাদের দখলে

আদিত্য কবির

🕒 প্রকাশ: ০৫:৪৬ অপরাহ্ন, ১১ই জুলাই ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী নান্দিয়ার বিলকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরকারি ইজারা কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগেই স্থানীয় বিএনপির কয়েক নেতার উদ্যোগে সেখানে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, বিলটির সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রণ ও অংশীদারত্ব নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ও সমঝোতার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে প্রশাসনের দুই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার বক্তব্যে মিল না থাকায় পুরো বিষয়টি আরও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

ডেইলি স্টারের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২৮৯ একর আয়তনের নান্দিয়ার বিলের ইজারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়নি। জেলা প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিলটি এখনো টেন্ডারে যায়নি এবং ইজারা চূড়ান্ত করার কোনো সিদ্ধান্তও হয়নি। অথচ স্থানীয় বিএনপির নেতাদের উপস্থিতিতে বিলে কয়েক শ মণ মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় সরকারি রাজস্ব আদায়, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং বিলনির্ভর মানুষের জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

নান্দিয়ার বিল শুধু একটি জলাশয় নয়; এটি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নান্দিয়া, হাড়ুলিয়া, চাঁনপুর, মাছপাড়া, ঝাউদিয়া, গোয়ালবাড়ি ও সিঁদুরঘাটসহ সাত-আটটি গ্রামের হাজারো মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই বিলের ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয়দের হিসাবে, অন্তত ৫০ হাজার মানুষের জীবনে বিলটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আগের ইজারাব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ে। এর পর প্রায় দুই বছর বিলটি উন্মুক্ত অবস্থায় ছিল। সেই সময়ে স্থানীয় জেলে পরিবার, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ প্রয়োজনমতো মাছ ধরার সুযোগ পান। দীর্ঘদিন পর অনেকেই পুরোনো জাল মেরামত করে আবার মাছ ধরা শুরু করেন। স্থানীয় বাজারেও দেশীয় ছোট মাছের সরবরাহ বাড়ায় দাম তুলনামূলকভাবে কমে আসে। ফলে বিলটি শুধু জীবিকার উৎস নয়, সাধারণ মানুষের খাদ্যনিরাপত্তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে ওঠে।

কিন্তু সেই পরিস্থিতি বদলে যেতে শুরু করে গত জুন মাসের শেষ সপ্তাহে। ২৬ জুন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিহাদুজ্জামান জিকু নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট শেয়ার করেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, সরকারি ইজারা পাওয়ার পর নান্দিয়ার বিলে মাছ অবমুক্ত করা শুরু হয়েছে। পোস্টে আরও বলা হয়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের সরকারি ইজারা পাওয়ার পর এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মাছ অবমুক্ত করার সময় জিকুর পাশাপাশি ঝাউদিয়া ও পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির কয়েকজন নেতাকেও উপস্থিত দেখা যায়।

কিন্তু ডেইলি স্টারের অনুসন্ধানে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসন ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তখন পর্যন্ত বিলটির ইজারা কার্যক্রম চূড়ান্ত হয়নি। বরং প্রশাসন বিকল্পভাবে খাস কালেকশনের মাধ্যমে সরকার কীভাবে রাজস্ব আদায় করতে পারে, সে বিষয়টি পর্যালোচনা করছিল।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে প্রশাসনের দুই কর্মকর্তার বক্তব্যে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হারুন অর রশিদ প্রথমে জানান, বিলটি ইজারা দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, কয়েক বছর বিলটি কার্যত অব্যবহৃত থাকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কয়েকটি মৎস্যজীবী গ্রুপকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। পরে দরপ্রস্তাবের ভিত্তিতে একটি গ্রুপকে ইজারা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, গত দুই-তিন বছর বিলটি ফাঁকা পড়ে ছিল। তাই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কয়েকটি মৎস্যজীবী সমিতিকে অংশ নিতে বলা হয় এবং তাদের মধ্য থেকে একটি দল সর্বোচ্চ দর দেওয়ায় ইজারা পায়।

তবে জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেন। তার বক্তব্য, নান্দিয়ার বিল এখনো ইজারা দেওয়া হয়নি। মাছ অবমুক্ত করার অভিযোগ তদন্ত করতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জানান, আগের টেন্ডার প্রক্রিয়া সফল হয়নি। এখন রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে খাস কালেকশনের মতো কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করা যায় কি না, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার ভাষ্য, বিলটি এখনো টেন্ডারে যায়নি এবং ইজারা কার্যক্রমও শেষ হয়নি।

প্রশাসনের এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পুরো ঘটনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। কারণ, যদি ইজারা না-ই হয়ে থাকে, তাহলে কীভাবে সরকারি জলাশয়ে বাণিজ্যিকভাবে মাছ অবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হলো—এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।

ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযোগ রয়েছে যে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে মৌখিক যোগাযোগের ভিত্তিতেই স্থানীয় বিএনপির নেতারা বিলে মাছ ছাড়ার কাজ শুরু করেন। যদিও এ বিষয়ে কোনো লিখিত অনুমোদনের তথ্য পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রশাসকের তথ্য অনুযায়ী, নান্দিয়ার বিল থেকে প্রতিবছর প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা সরকারি রাজস্ব আদায় হতো। কিন্তু গত দুই বছর সেই আয় বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেছেন, অন্তত ১৫ লাখ টাকা রাজস্ব নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ঘোষণা দিয়েছেন, দেশের সব উন্মুক্ত জলাশয় প্রকৃত মৎস্যজীবীদের জন্য উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এমন নীতিগত অবস্থানের মধ্যেও নান্দিয়ার বিলে দ্রুত ইজারার উদ্যোগ কেন নেওয়া হচ্ছে—এ প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, এ ধরনের কোনো লিখিত নির্দেশনা এখনো তাদের কাছে পৌঁছেনি। লিখিত নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে বিলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে মিল পাওয়া যায়নি। কারা প্রকৃত ইজারাদার, কারা অংশীদার এবং কারা পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করবেন—এসব প্রশ্নে একেকজন একেক ধরনের তথ্য দিয়েছেন। সেই ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যই নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ডেইলি স্টারের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নান্দিয়ার বিলের ইজারা আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন না হলেও স্থানীয় পর্যায়ে এর অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা অনেকটাই এগিয়ে গেছে। বিলটি কারা পরিচালনা করবেন, কারা কত অংশ পাবেন এবং এর বিপরীতে কত অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে—এসব বিষয় নিয়েও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেছে।

ইজারা পাওয়ার আগেই বিলে বিপুল পরিমাণ মাছ অবমুক্ত করার তথ্যও নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিহাদুজ্জামান জিকুর নেতৃত্বে ইতোমধ্যে ৩০০ থেকে ৪০০ মণ মাছের পোনা বিলে ছাড়া হয়েছে।

এই কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন নান্দিয়ার বাসিন্দা দিদার আলী। তিনি জানান, জিকুর ব্যবসায়িক অংশীদার ও ব্যবস্থাপকের নির্দেশে চুয়াডাঙ্গা থেকে মাছ এনে নান্দিয়ার বিলে ছাড়া হচ্ছে। তার দাবি, ইতোমধ্যে ৩০০ থেকে ৪০০ মণ মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে।

দিদার আলী আরও বলেন, প্রায় দেড় দশক ধরে তিনি এই বিলের সঙ্গে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত। প্রতি মৌসুমে এখানে মাছ সরবরাহ করার পাশাপাশি মৌসুম শেষে বিল থেকে মাছ কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করেন। তার ভাষায়, নান্দিয়ার বিলের মাছের বাজারমূল্য ভালো হওয়ায় এটি দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলাশয় হিসেবে পরিচিত।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশের আশঙ্কা, বিলটি আবার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে সাধারণ মানুষের জন্য মাছ ধরার সুযোগ আগের মতো থাকবে না।

মাছপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মুনিব মণ্ডল বলেন, তিনি নিজে মাছ ধরেন না। কিন্তু গ্রামের বহু মানুষ দিনভর কাজ করার পর সন্ধ্যায় বিলে গিয়ে দু-একটি মাছ ধরে পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করতেন। এখন ইজারা নেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষকে বিলে নামতে নিষেধ করা হচ্ছে। তার দাবি, এর প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে মাছের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে।

স্থানীয়দের উদ্বেগ শুধু জীবিকায় সীমাবদ্ধ নয়; তারা পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও চিন্তিত। তাদের মতে, নান্দিয়ার বিল এই অঞ্চলের দেশীয় মাছের প্রজননের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। সারা বছর পানি থাকায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এখানে ডিম ছাড়ে। পরে বর্ষার পানির সঙ্গে সেই মাছ আশপাশের ছোট খাল-বিল ও জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ে।

বামন গ্রামের বাসিন্দা শাহজালাল বলেন, ইজারাদাররা সাধারণত বাঁশ ও কাঠ দিয়ে এমনভাবে পথ বন্ধ করে দেন যে মাছ আর পাশের জলাশয়গুলোতে যেতে পারে না। এতে শুধু নান্দিয়ার বিল নয়, আশপাশের জলজ পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, একসময় চাঁপাইগাছি বিলেও প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু নান্দিয়ার বিল ইজারার আওতায় যাওয়ার পর সেখানে মাছের চলাচল কমে যায় এবং আগের মতো মাছও পাওয়া যায় না।

শাহজালালের মতে, উন্মুক্ত অবস্থায় বিলটি গ্রামীণ জীবনের একটি স্বাভাবিক অংশে পরিণত হয়েছিল। দিনের কাজ শেষে গ্রামের মানুষ জাল, পলো, থর্কুসসহ দেশীয় মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে বিলে যেতেন। অনেকে সারা রাত মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আবার বিলটি যদি ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তাহলে সেই পরিচিত চিত্র আর দেখা যাবে না।

এদিকে মাছ অবমুক্ত করার বিষয়ে জিহাদুজ্জামান জিকুর বক্তব্য অন্যদের বক্তব্যের সঙ্গে মেলেনি। ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, তিনি স্থানীয় সন্তান হিসেবে মাছ ছাড়ার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন মাত্র। তার দাবি, ঝাউদিয়া ও পাটিকাবাড়ি এলাকার একটি মৎস্যজীবী সমিতি বিলটির ইজারা নিয়েছে।

কিন্তু ঝাউদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডা. সাদ আহমেদ সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য দেন। তার দাবি, বিলটির মূল ইজারাদার জিহাদুজ্জামান জিকুই। তিনি ঝাউদিয়া ও পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপিকে ২৫ শতাংশ করে মোট ৫০ শতাংশ অংশীদারত্ব দিয়েছেন।

অন্যদিকে পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম রেজাও অংশীদারত্বের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, এটি দুই থেকে তিন কোটি টাকার একটি বড় উদ্যোগ। শুধু অংশীদার হলেই হবে না, সেই অনুপাতে অর্থও বিনিয়োগ করতে হবে। তার হিসাবে, ২৫ শতাংশ অংশ নিতে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে।

সেলিম রেজা আরও বলেন, বিলটির সার্বিক ব্যবস্থাপনা করবেন জিহাদুজ্জামান জিকু। পাশাপাশি তাদের দলের নেতাকর্মীরাও এই উদ্যোগে কিছু অংশ পাবেন।

ডেইলি স্টারের অনুসন্ধান থেকে যে চিত্র উঠে এসেছে, তাতে নান্দিয়ার বিলকে ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। প্রথমত, জেলা প্রশাসন যখন বলছে ইজারা এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তখন কীভাবে সেখানে শত শত মণ মাছ অবমুক্ত হলো। দ্বিতীয়ত, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের বক্তব্যে এত বড় অসঙ্গতির কারণ কী। তৃতীয়ত, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে অংশীদারত্বের আলোচনা ও দাবি যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে সেটির আইনি ভিত্তি কী।

এর পাশাপাশি আরও একটি বড় প্রশ্ন হলো, সরকারের রাজস্ব আদায়, উন্মুক্ত জলাশয় ব্যবস্থাপনা এবং প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অধিকার—এই তিনটি বিষয়ের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রক্ষা করা হবে। কারণ নান্দিয়ার বিল শুধু একটি অর্থনৈতিক সম্পদ নয়; এটি হাজারো মানুষের জীবিকা, স্থানীয় খাদ্যব্যবস্থা এবং প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।

এখন প্রশাসনের তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং শেষ পর্যন্ত বিলটির ব্যবস্থাপনা কোন প্রক্রিয়ায় হবে, সেটিই দেখার বিষয়। তবে ইজারা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই মাছ অবমুক্ত করা, রাজনৈতিক নেতাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং প্রশাসনের ভিন্ন অবস্থান—এসব কারণে নান্দিয়ার বিলের ঘটনাটি ইতোমধ্যেই স্থানীয় প্রশাসন, রাজনীতি ও জনস্বার্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

নান্দিয়ার বিল

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

দীপিকা-রণবীরের ঘরে এলো দ্বিতীয় সন্তান

🕒 প্রকাশ: ০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, ২২শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

পীরগঞ্জে প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

🕒 প্রকাশ: ০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, ২২শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী

🕒 প্রকাশ: ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, ২২শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসলামি বইমেলায় জঙ্গি নেতাদের বই কীভাবে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে, প্রশাসন কী করছে

🕒 প্রকাশ: ১২:১০ পূর্বাহ্ন, ২২শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্যারিস্টার রাজ্জাকের বইকে কেন্দ্র করে জামায়াতের ক্ষমাপ্রার্থনা কেন আলোচনায়

🕒 প্রকাশ: ১১:২৯ অপরাহ্ন, ২১শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250