বুধবার, ৪ঠা মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৯শে ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ইরানের মাশহাদ শহরে দাফন করা হবে খামেনিকে *** ড. ইউনূস কি রাষ্ট্রপতি হওয়ার অপেক্ষায়? *** ‘পুলিশ হত্যাকাণ্ড কোনো অবস্থাতেই দায়মুক্তি পেতে পারে না’ *** হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি স্থানে ৪ বাংলাদেশি জাহাজ *** দুদিনের সফরে ঢাকায় মার্কিন সহকারী মন্ত্রী পল কাপুর *** আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব *** ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না আরব আমিরাত *** ‘ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতে বাংলাদেশ আঘাতপ্রাপ্ত হবে’ *** যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে ‘পুনর্গঠন-বাণিজ্য’ করবে চীন, কিনবে সস্তায় তেল *** ঢাকার আইসিইউতে ৭ শতাংশ রোগীর শরীরে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক

১২ বছরেও দাফন হয়নি ব্রিটিশ ধনকুবেরের মরদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, ১৮ই আগস্ট ২০২৫

#

হ্যারি রয় ভিভার্স। ছবি: সংগৃহীত

গত সপ্তাহেই কেনিয়ার আদালতের এক ম্যাজিস্ট্রেট আশা প্রকাশ করেছেন, ব্রিটিশ সম্পদশালী ব্যবসায়ী হ্যারি রয় ভিভার্সের আত্মা এবার হয়তো শান্তি পাবে। কিন্তু মৃত্যুর ১২ বছর পরও তার মরদেহ কোথায় শায়িত হবে, সে প্রশ্ন এখনো অনির্ধারিতই রয়ে গেছে।

২০১৩ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইনস ডেতে কেনিয়ার মোম্বাসার নিজ বাড়িতে মারা যান ৬৪ বছর বয়সী ভিভার্স। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, পারিবারিক দ্বন্দ্ব আর হত্যার অভিযোগের জটিলতায় তার মরদেহ এক যুগের বেশি সময় মর্গে রয়েছে। খবর বিবিসির।

গতকাল রোববার (১৭ই আগস্ট) বিবিসি জানিয়েছে, ভিভার্সের মৃত্যুর পরই চার সন্তানের মধ্যে বিভাজন শুরু হয়। প্রথম স্ত্রীর দুই ছেলে রিচার্ড ও ফিলিপ একদিকে, আর দ্বিতীয় স্ত্রী আজরা পারভিন দিন ও তাদের দুই মেয়ে হেলেন ও আলেক্সান্দ্রা অন্যদিকে অবস্থান নেন। ছেলেদের অভিযোগ, তাদের বাবাকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে। তবে মেয়েরা ও তাদের মা এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন।

কেনিয়ার আদালতে শুনানির সময় পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয় যে কখনো কখনো দুই পক্ষের মধ্যে চিৎকার-চেঁচামেচিও ঘটে। একপর্যায়ে দুই বোনকে আদালতকক্ষে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে সতর্কও করা হয়।

জানা যায়, কেনিয়ায় স্বামীর মৃত্যুর পর আজরা পারভিন দ্রুত ইসলামি নিয়মে ভিভার্সকে দাফন করেন। কিন্তু ব্রিটেনে থাকা ভিভার্সের প্রথম স্ত্রীর দুই ছেলে এতে আপত্তি তোলেন। তাদের দাবি, বাবা খ্রিষ্টান ছিলেন, মুসলিম নন। এমনকি ভিভার্সকে ভিন্ন নামে সমাহিত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি ছেলেদের সন্দেহকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

ছেলেদের বক্তব্য, বাবার দেহে লালচে দাগ ও ঠোঁটে অস্বাভাবিক বেগুনি রং দেখা যাচ্ছিল। তাই তারা ময়নাতদন্ত চেয়েছিলেন। কিন্তু পারভিন দিন তা করতে দেননি এবং মৃত্যুর খবর পুলিশকেও জানাননি। আদালত পরে মন্তব্য করেন, এ সিদ্ধান্তই পরবর্তী সন্দেহ ও পারিবারিক সংঘাতের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ছেলেদের আবেদনের ভিত্তিতে ২০১৩ সালের এপ্রিলে মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ দেওয়া হলেও আসলে তা সম্পন্ন হয় ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে। ততদিনে দেহ প্রায় পচে যায়। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞেরা ভিন্ন ভিন্ন মত দেন। কেউ কেউ দেহ ও কবরস্থ মাটিতে বিষাক্ত রাসায়নিক ‘সাইহ্যালোথ্রিন’ খুঁজে পান, আবার অন্যরা কোনো প্রমাণ পাননি। এই অসামঞ্জস্য আদালতের সিদ্ধান্তকে আরও জটিল করে তোলে।

অবশেষে মোম্বাসার আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ডেভিড ওধিয়াম্বো রায়ে জানান, মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণ সম্ভব নয়। পচন ধরার কারণে দেহ থেকে স্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি। তাই কাউকে দায়ী করার সুযোগও নেই।

রায়ের পর আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, মরদেহ পরিবারকে ফেরত দেওয়া হবে এবং তারা যেখানে চাইবে, সেখানে পুনরায় দাফন করতে পারবে। কিন্তু এখানেই নতুন জটিলতা দেখা দিয়েছে। ছেলেদের দাবি, তাদের বাবা ব্রিটিশ। তাই তাকে ব্রিটেনে দাফন করা উচিত। অন্যদিকে দ্বিতীয় স্ত্রী ও মেয়েরা চান, কেনিয়ার মোম্বাসাতেই তার সমাধি হোক।

যেহেতু ভিভার্স কোনো উইল রেখে যাননি এবং নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা সামাজিক রীতিও স্পষ্টভাবে মানতেন না, তাই আদালত সরাসরি সিদ্ধান্ত না দিয়ে পক্ষগুলোকে অন্য আইনি প্রক্রিয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

পুরো ঘটনায় একটি বিষয় স্পষ্ট—ভিভার্সের মৃত্যু পরিবারকে আরও কাছাকাছি না এনে উল্টো গভীরভাবে বিভক্ত করেছে। বিষয়টি স্বীকার করেছেন বিচারকও। তাই আদালত পরিবারকে সিদ্ধান্ত নিতে বললেও ভিভার্সের মরদেহ আর কত দিন হিমঘরে থাকবে, তা অজানাই রয়ে গেল।

ধনকুবের

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250