শুক্রবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৮ই ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** একুশে ফেব্রুয়ারি ঘিরে নিরাপত্তার শঙ্কা নেই: ডিএমপি কমিশনার *** ‘খুলনা, বরিশাল, রাজশাহীকে আওয়ামী লীগের সরকার বিদেশের মতো বানিয়েছে’ *** প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন *** বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়ন ও প্রতিরক্ষা চুক্তি করার আহ্বান জানালেন ট্রাম্প *** মৌলবাদ সামাল দিতে আওয়ামী লীগকে ছাড় দেবে বিএনপি: বদিউর রহমান *** রমজানের প্রথম দিনেই ২০ টাকা হালি লেবুর দাম বেড়ে ১২০ *** বাসসের এমডি মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন *** এইচএসসি পরীক্ষার ফি বাড়ল ২১০ টাকা *** শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে যা জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী *** সড়কে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নেওয়া চাঁদা নয়, বাধ্য করা হলে চাঁদা: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী

সালতামামি

২০২৫ সালে হলিউডে যেসব গল্পের সিনেমা সফল হয়েছে

বিনোদন প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৫:৫২ অপরাহ্ন, ২৮শে ডিসেম্বর ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

হলিউডের জন্য ২০২৫ সাল একটি তাৎপর্যপূর্ণ বছর। কোভিড-পরবর্তী সময়ে সিনেমার ঘুরে দাঁড়ানো, স্ট্রিমিং প্লাটফর্মের প্রভাব এবং দর্শক রুচির পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে হলিউড এ বছর আবারো প্রমাণ করেছে শুধু বড় বাজেট বা তারকাখ্যাতিই সাফল্যের একমাত্র চাবিকাঠি নয়। বরং শক্তিশালী গল্প ও সঠিক প্রচারণা কৌশলই বক্স অফিসে ভাগ্য নির্ধারণ হয়েছে। 

সব কিছু মিলিয়ে এ বছর হলিউডের সিনেমার ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য দেখা গেছে। বড় বাজেটের সিনেমা মার খেয়েছে, স্বল্প বাজেটের সিনেমা সে তুলনায় ভালো ব্যবসা করেছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ও নস্টালজিয়ার কারণে কিছু সিনেমা ভালো আয় করেছে।

২০২৫ সালের সর্বোচ্চ ব্যবসাসফল সিনেমাগুলোর দিকে তাকালে স্পষ্ট হয় যে পুরনো ও পরীক্ষিত ফ্র্যাঞ্চাইজিই সফল হয়েছে। ডিজনির ‘জুটোপিয়া টু’ বিশ্বব্যাপী প্রায় ১১৪ কোটি ডলার আয় করে বছরের অন্যতম বড় হিটে পরিণত হয়েছে। অ্যানিমেশন, সামাজিক বার্তা ও পারিবারিক বিনোদনের মিশ্রণ ডিজনির শক্ত অবস্থান আরো মজবুত করেছে।

একই স্টুডিওর ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ’ (লাইভ-অ্যাকশন রিমেক) প্রায় ১০৪ কোটি ডলার আয় করে প্রমাণ করেছে যে নস্টালজিয়া এখনো বাজারে কার্যকর।

ভিডিও গেম অ্যাডাপ্টেশনের দিক থেকেও ২০২৫ স্মরণীয়। ‘আ মাইনক্র্যাফট মুভি’ প্রায় ৯৫ কোটি ডলার আয় করে ইউনিভার্সাল ও ওয়ার্নার ব্রাদার্সের জন্য বড় সাফল্য এনে দিয়েছে। এটি দেখিয়ে দেয়, তরুণ দর্শকনির্ভর কনটেন্ট আন্তর্জাতিক বাজারে কতটা শক্তিশালী হতে পারে। অন্যদিকে ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড: রিবার্থ’ প্রায় ৮৭ কোটি ডলার আয় করে প্রমাণ করেছে যে ডাইনোসর ফ্র্যাঞ্চাইজির আকর্ষণ এখনো শেষ হয়ে যায়নি।

সফল সিনেমার ক্ষেত্রে তারকাদের ভূমিকা তুলনামূলক কম ছিল এ বছর। বরং ব্র্যান্ড ও কনটেন্টই মুখ্য বলে দেখা দিয়েছে। তবে ‘মাইনক্র্যাফট’-এ জেসন মোমোয়া ও জ্যাক ব্ল্যাকের উপস্থিতি তরুণ দর্শকের আকর্ষণ বাড়িয়েছে। অ্যানিমেশন ও ফ্যামিলি ঘরানায় পরিচালক ও স্টুডিওর সম্মিলিত পরিকল্পনাই মূল সাফল্যের কারণ।

অন্যদিকে বড় তারকাবহুল কিছু সিনেমা প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। মার্গো রবি ও কলিন ফ্যারেল অভিনীত ‘আ বিগ বোল্ড বিউটিফুল জার্নি’ প্রায় সাড়ে ৪ কোটি ডলারে নির্মাণ হলেও আয় করেছে মাত্র ২ কোটি ডলার।

একইভাবে বব ওডেনকার্ক অভিনীত ‘নোবডি টু’ প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ ডলার আয় করলেও বিপণন ও প্রত্যাশার চাপে এটিকে বাণিজ্যিকভাবে দুর্বল হিসেবেই ধরা হচ্ছে।

পরিচালক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য ব্যর্থতার উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বং জুন-হোর ‘মাইকি সেভেনটিন’-এর কথা। সমালোচকদের প্রশংসা পেলেও প্রায় ১৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার আয় উচ্চ বাজেটের তুলনায় অপর্যাপ্ত ছিল। এর মধ্য দিয়ে ‘ক্রিটিক্যাল সাকসেস, কমার্শিয়াল রিস্ক’ প্রবণতাকে আবার সামনে এনেছে।

স্টুডিওগুলোর দিকে তাকালেও একটা স্পষ্ট অসামঞ্জস্য দেখা যায়। ২০২৫ সালে ডিজনি স্পষ্টভাবে এগিয়ে আছে অন্যদের তুলনায়। অ্যানিমেশন ও পারিবারিক বিনোদনে তাদের আধিপত্য বজায় রয়েছে। বিপরীতে সুপারহিরো ঘরানার কিছু প্রজেক্ট প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল দিতে পারেনি, যা মার্ভেল ও ডিসি উভয়ের জন্যই সতর্কবার্তা।

ডিসির সুপারম্যান ভালো আয় করলেও জেমস গান যেভাবে প্রত্যাবর্তন করবেন বলে মনে হয়েছিল, তেমনটা হয়নি। অন্যদিকে মার্ভেল এ বছরও ফ্লপ। ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড’ ৪১ কোটি, ‘থান্ডারবোল্টস’ ৩৮ কোটি ও ‘ফ্যান্টাস্টিক ফোর: ফার্স্ট স্টেপস’ ৫২ কোটি ডলার আয় করেছে। তিনটি সিনেমার কাছেই দর্শক, বক্স অফিস ও স্টুডিওর প্রত্যাশা ছিল আরো বেশি।

তবে কোনো কোনো তারকা গল্পনির্ভর সিনেমায় অভিনয় করে সাফল্য পেয়েছেন। যেমন ব্র্যাড পিটের প্রত্যাবর্তন হয়েছে ‘এফ ওয়ান’ দিয়ে। সিনেমাটি ৫০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছে। ৩৫ কোটি ডলারে নির্মিত ‘মিশন: ইম্পসিবল: ফাইনাল রেকনিং’ আয় করেছে প্রায় ৬০ কোটি ডলার।

 বছরের শেষে ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ ভালো পারফর্ম করছে। এর মধ্যে বক্স অফিসের আলাপ বাদ দিলে রায়ান কুগলারের ‘সিনার্স’ ও পল থমাস অ্যান্ডারসনের ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ অস্কারে এগিয়ে থাকছে।

এসব মিলিয়ে বলা যায়, ২০২৫ সালের হলিউড একদিকে যেমন ফ্র্যাঞ্চাইজি ও নস্টালজিয়ার ওপর নির্ভরশীল, অন্যদিকে তেমনই পরিবর্তনের চাপে রয়েছে। বড় নাম থাকা সত্ত্বেও দুর্বল কনটেন্ট ব্যর্থ হয়েছে, আবার পরিচিত গল্প ও সঠিক উপস্থাপনায় সাফল্য এসেছে। এ প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভবিষ্যতের হলিউডে কেবল তারকা নয়, দর্শক বোঝার ক্ষমতাই হবে সবচেয়ে বড় শক্তি।

জে.এস/

সালতামামি

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250