রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১২ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ড. ইউনূস আমলে গ্রেপ্তার, জামিনের একমাস পর মৃত্যু সাংবাদিকের, কিছু প্রশ্ন *** বাংলাদেশের কিসের এত দুশ্চিন্তা *** এমবাপ্পের চোট কতটা গুরুতর *** জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন সোমবার *** জাসদ কার্যালয় থেকে আটক ২৭ জন কারাগারে *** দফায় দফায় হামলা, ধ্বংসস্তূপ থেকে যেভাবে বেঁচে ফিরলেন মোজতবা খামেনি *** জাসদ কার্যালয়ে হামলা, মব সৃষ্টি ও আটকের ঘটনায় আসকের নিন্দা *** ঢাকায় তিন দিনে চার স্থানে হামলা-ভাঙচুর-লুট, প্রশ্নের মুখে আইনশৃঙ্খলা *** দখল-চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা সরকারের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি *** পাকিস্তান থেকে আফগানিস্তানে প্রবেশ করা ২৮ সশস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যার দাবি তালেবানের

‘মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা পোড়ানো আমার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়েছিল’

জেবিন শান্তনু

🕒 প্রকাশ: ০৮:১৯ অপরাহ্ন, ১০ই জুলাই ২০২৬

#

ফাইল ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, মার্কিন গণতন্ত্রের বিকাশ ও অবক্ষয়, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, সামরিক হস্তক্ষেপ এবং গাজা যুদ্ধ—বিস্তৃত নানা বিষয় নিয়ে কলাম লিখেছেন ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম। তিনি বলেছেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রসহ কোনো দেশের পতাকা পোড়ানো তার কাছে কখনোই গ্রহণযোগ্য ছিল না।

তবে রাজনৈতিক প্রতিবাদের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা পোড়ানোর ঘটনাকে দেশটির সংবিধান যেভাবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আওতায় সুরক্ষা দিয়েছে, সেটিই তাকে সবচেয়ে বেশি বিস্মিত ও মুগ্ধ করেছিল। এই প্রসঙ্গটিকেই সামনে এনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শ ও বর্তমান বাস্তবতার মধ্যে দূরত্বের প্রশ্ন তুলেছেন।

আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) ডেইলি স্টারের ছাপা সংস্করণে ‘টু হান্ড্রেড ফিফটি ইয়ার্স অব ইউএস ইন্ডিপেনডেন্স: ডু আমেরিকান্স নো অর কেয়ার অ্যাবাউট দেয়ার ফাউন্ডিং প্রিন্সিপলস’ শিরোনামে মাহফুজ আনামের কলামটি প্রকাশিত হয়েছে। একই দিনে পত্রিকাটির বাংলা ওয়েবসাইটে এটি ‘স্বাধীনতার ২৫০ বছর: আমেরিকানরা কি তাদের প্রতিষ্ঠাকালীন নীতিমালা সম্পর্কে জানেন’ শিরোনামে প্রকাশ করা হয়।

কলামের শুরুতেই মাহফুজ আনাম তার ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি ক্যাম্পাস ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রেও যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবাদকারীরা মার্কিন পতাকায় আগুন দিতেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কারণে পতাকার প্রতি তার গভীর আবেগ ছিল। সে কারণে তিনি মনে করতেন, কোনো দেশের জাতীয় পতাকা পোড়ানো গ্রহণযোগ্য নয়। তবে তিনি লক্ষ করেন, যুক্তরাষ্ট্রে এমন প্রতিবাদও সংবিধানসম্মত স্বাধীন মতপ্রকাশের অংশ হিসেবে সহ্য করা হয়েছে।

এই অভিজ্ঞতার সূত্র ধরে তিনি ১৯৮৯ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার কথা তুলে ধরেন। ইউনেস্কোতে কর্মরত অবস্থায় বাংলাদেশে ফিরে একটি ইংরেজি দৈনিক প্রকাশের পরিকল্পনা করছিলেন তিনি। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক টেক্সাস বনাম জনসন মামলার রায় তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সেই রায়ে রাজনৈতিক প্রতিবাদের অংশ হিসেবে জাতীয় পতাকা পোড়ানোকে সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পরে কংগ্রেস ফ্ল্যাগ প্রটেকশন অ্যাক্ট ১৯৮৯ পাস করলেও যুক্তরাষ্ট্র বনাম আইখম্যান মামলায় সুপ্রিম কোর্ট সেটিও বাতিল করে দেয়।

মাহফুজ আনাম লিখেছেন, এসব রায়ের পর তিনি মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর প্রবল অনুরাগী হয়ে ওঠেন। কারণ, এই সংশোধনী ধর্মীয় স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারকে সাংবিধানিক সুরক্ষা দিয়েছে। একজন সম্ভাব্য প্রকাশকের কাছে এটি ছিল এক স্বপ্নের মতো।

কলামে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নেতা টমাস জেফারসনের বহুল উদ্ধৃত বক্তব্যও উল্লেখ করেন। জেফারসনের ভাষায়, যদি তাকে সরকারবিহীন সংবাদপত্র এবং সংবাদপত্রবিহীন সরকারের মধ্যে একটি বেছে নিতে বলা হয়, তবে তিনি বিনা দ্বিধায় প্রথমটিকেই বেছে নেবেন। মাহফুজ আনামের মতে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে ইতিহাসে এত শক্তিশালী বক্তব্য খুব কমই রয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নানা সমালোচনা থাকলেও দেশটির সংবিধানের প্রথম সংশোধনী এবং স্বাধীন মতপ্রকাশের আদর্শের প্রতি তার শ্রদ্ধা কখনো কমেনি। কিন্তু এখন সেই দেশেই সাংবাদিকদের ‘সবচেয়ে খারাপ’ মানুষ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে এবং প্রমাণ ছাড়াই তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হচ্ছে। যে রাষ্ট্র সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অন্যতম বৈশ্বিক প্রতীক ছিল, সেখানে এমন প্রবণতা বিশ্ববাসীর জন্য উদ্বেগের বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মাহফুজ আনামের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল চিন্তার স্বাধীনতা। অথচ বর্তমানে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে পড়ছে। হার্ভার্ড, কলাম্বিয়াসহ শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতিগ্রস্ত ও ইহুদিবিদ্বেষী হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা তিনি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।

কলামে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল ভবনে হামলার ঘটনাও উঠে এসেছে। তার মতে, সেই হামলার পর সহিংস অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের ক্ষমা বা মুক্তি দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রে আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন করেছে। একই সঙ্গে তিনি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) সংস্থার কার্যক্রমের সমালোচনা করে বলেন, নাগরিকদের বিরুদ্ধেও এই সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী তাদের হেফাজতে একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তার মতে, এতে সংবিধানে বর্ণিত জীবন ও স্বাধীনতার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বহুসাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়েও মন্তব্য করেছেন মাহফুজ আনাম। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা দেশটি একসময় ‘মেল্টিং পট’ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ ও বর্ণবাদী প্রবণতা সেই ঐতিহ্যকে দুর্বল করছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রক্ষমতার বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে ‘চেক অ্যান্ড ব্যালান্স’-এর অবক্ষয় এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বায়ত্তশাসন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র নিজেই নিজের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বলে তার অভিমত।

কলামে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্‌যাপনের মতো আদৌ কতটা অর্জন রয়েছে। তার মতে, অনেক মার্কিন নাগরিকই নয়, এমনকি কংগ্রেস সদস্য, সিনেটর ও প্রশাসনের অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তিও হয়তো ১৭৭৬ সালের স্বাধীনতার ঘোষণা কিংবা ১৭৮৯ সালের সংবিধানের মূল নীতিমালা সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত নন।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জেমস ম্যাডিসন, বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন, আলেকজান্ডার হ্যামিলটন ও জর্জ ওয়াশিংটনের মতো নেতারা এমন একটি সংবিধান রচনা করেছিলেন, যা আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করে। পরে ১৭৯১ সালে গৃহীত ‘বিল অব রাইটস’ বা প্রথম ১০টি সংশোধনীকে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ী সাংবিধানিক দলিলগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন।

মাহফুজ আনাম লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বোঝার জন্য সে সময়ের বিশ্ব বাস্তবতা মনে রাখা প্রয়োজন। তখন পৃথিবীর বড় অংশ ছিল রাজতন্ত্র, সাম্রাজ্যবাদ ও ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে। প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার ছিল অত্যন্ত বিরল। সেই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান গণতন্ত্র, জবাবদিহি ও জনগণের প্রতিনিধিত্বের নতুন ধারণা সামনে নিয়ে আসে এবং পরবর্তী সময়ে ফরাসি বিপ্লব, লাতিন আমেরিকার স্বাধীনতা আন্দোলন ও বিশ্বের বিভিন্ন উপনিবেশবিরোধী সংগ্রামকে প্রভাবিত করে। এমনকি বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণাতেও সেই ঐতিহাসিক প্রভাবের প্রতিফলন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তবে প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শের মধ্যেই বড় ধরনের বৈপরীত্য ছিল বলেও উল্লেখ করেন মাহফুজ আনাম। একদিকে সমতার কথা বলা হলেও অন্যদিকে দাসপ্রথা বহাল ছিল। নেটিভ আমেরিকানদের ভূমি থেকে উৎখাত করা হয়েছে, নারীদের ভোটাধিকার দেওয়া হয়নি এবং আদিবাসীদের মানবিক মর্যাদা অস্বীকার করা হয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৮৬৫ সালে ১৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে দাসপ্রথা বিলুপ্ত হয়, ১৯২০ সালে নারীরা ভোটাধিকার পান এবং ১৯২৪ সালে নেটিভ আমেরিকানরা নাগরিকত্ব লাভ করেন। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শ বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ সময় লেগেছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হলেও শীতল যুদ্ধের সময় গণতন্ত্রের বদলে কমিউনিজমবিরোধী স্বৈরশাসকদের সমর্থন দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে পাকিস্তানে ১৯৫৮ সালে জেনারেল আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া ও সিরিয়ার যুদ্ধও যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করেছে।

কলামে কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য উদ্ধৃত করে মাহফুজ আনাম উল্লেখ করেন, ১৭৯৮ সাল থেকে বিদেশে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী ব্যবহারের শত শত ঘটনার নথি রয়েছে। মেক্সিকো, স্পেন, ফিলিপাইন, গ্রানাডা, পানামা, ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানসহ বহু দেশে সামরিক হস্তক্ষেপের ইতিহাস তিনি তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার অভিযোগ পরবর্তী সময়ে অসত্য প্রমাণিত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মাহফুজ আনাম আরও লিখেছেন, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের শত শত সামরিক স্থাপনা রয়েছে। তার মতে, একসময় যে রাষ্ট্র গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক ছিল, আজ সেটি ক্রমেই সামরিক শক্তি ও বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারের দিকে বেশি মনোযোগী হয়ে উঠেছে। যদিও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে বিশ্ব শিল্প উৎপাদন, ডলারের আধিপত্য, জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক ও ন্যাটো প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছে, তবুও ২০০১ সালের পর থেকে তার বৈশ্বিক প্রভাব তুলনামূলকভাবে কমতে শুরু করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গাজা পরিস্থিতি নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেছেন মাহফুজ আনাম। তিনি লিখেছেন, হামাসের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা অবশ্যই নিন্দনীয়। কিন্তু তার প্রতিক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনিকে হত্যা, আহত এবং খাদ্য, পানি, বিদ্যুৎ ও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সমর্থন দেশটির নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। তার মতে, অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অর্থ দিয়ে এই যুদ্ধকে সমর্থন করার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গ টেনে মাহফুজ আনাম প্রশ্ন রাখেন, এই ধরনের পদক্ষেপ আদৌ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করছে কি না—সেই মূল্যায়ন এখন মার্কিন জনগণেরই করা উচিত।

কলামের শেষাংশে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যাগত বৈচিত্র্যের বিষয়টি তুলে ধরেন। শ্বেতাঙ্গ, হিস্পানিক, আফ্রিকান-আমেরিকান, এশীয়, নেটিভ আমেরিকানসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর পাশাপাশি জার্মান, আইরিশ, ইংরেজ, মেক্সিকান, ইতালীয়, ভারতীয়, চীনা, ফিলিপিনো ও ভিয়েতনামিসহ অসংখ্য বংশগত পরিচয়ের মানুষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রকে তিনি বিশ্বের অনন্য বৈচিত্র্যময় সমাজ হিসেবে বর্ণনা করেন।

এই প্রেক্ষাপটে মাহফুজ আনাম শেষ প্রশ্নটি রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র কি সেই অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও প্রতিষ্ঠাকালীন নীতিমালাকে আরও শক্তিশালী করে এগিয়ে যাবে, নাকি নিজের ভেতরেই বিভাজন আরও গভীর করবে? তার মতে, স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন।

মাহফুজ আনাম

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250