ছবি: সংগৃহীত
‘বিবাহ’ জীবনচক্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। একজন নারী ও একজন পুরুষের যৌথ জীবনের স্বতঃস্ফূর্ত অঙ্গীকার এটি। যে চুক্তির মাধ্যমে বিপরীত লিঙ্গের দুজন মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন রচিত হয়, তা-ই বিয়ে। এর ফলে দুটি পরিবারের মধ্যে আত্মীয়তা সৃষ্টি করে। তবে নতুন বিবাহিত দম্পতিকে নিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের কিছু অদ্ভুত রীতি রয়েছে।
চলুন তাহলে এমন কিছু অদ্ভুত বিয়ের রীতি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-
১. অস্ট্রেলিয়ায় বর ও কনের দুজনেরই বাড়ি থেকে বিভিন্ন ধরনের পাথর একটা বাটিতে রাখা হয়ে থাকে, মনে করা হয় ভালবাসা ও পাশে থাকতে উপহার হিসেবে এই পাথর দেওয়া হয়।
২. ইতালিতে বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিথিরা ক্যান্ডিস উপহার হিসেবে আনেন, মনে করা হয় এই রীতি মানলে নতুন বিবাহিত দম্পতির শরীর সুস্থ থাকে এবং অর্থের অভাব হয় না।
৩. জার্মানিতে বিয়ের ক্ষেত্রে অদ্ভুত একটি খেলা হয়। এখানে অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা তাদের খাওয়ার পাত্রগুলি ব্যবহার করার পর মাটিতে ফেলে দেয়। বর এবং কনে-কে সেই একগাদা বাসন পরিষ্কার করতে দেওয়া হয়। সেখানকার বিশ্বাস এটি করে যে নব দম্পতির উপর থেকে সমস্ত কুনজর সরিয়ে দেওয়া হয়।
৪. চীনের এক সম্প্রদায়ে কোনো মেয়ের বিয়ে হলে বরের বন্ধুরা কনের কাপড় খুলে নেয়ার চেষ্টা করে আর বর চেষ্টা করে তার বন্ধুদের থেকে স্ত্রীকে বাঁচানোর। সবাই জানে যে এসব সমাজে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয় আর তারাও ঠিক এটাই জানে কিন্তু সেখানকার নারীরা এটা না চাইলেও তাদেরকে তা করতে হয় কারণ এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ না করলে তারা মনে করে তাদের বৈবাহিক জীবন খুব দ্রুতই ধ্বংস হয়ে যাবে।
৫. সুইডেনে বিয়ের সময় কনেরা Myrtle ( মার্টেল গাছ) তাঁদের ক্রাউনে লাগান যা ভালবাসার প্রতীক হিসেবে মনে করা হয়।
৬. বিয়েতে মেয়েদের কান্না নতুন কিছু নয়। তাই বলে এক মাস ধরে কান্না! এমন অদ্ভুত নিয়ম রয়েছে চীনের তুজা গোষ্ঠীর মধ্যে। শুধু কনে নয়, বিয়ের দশ দিন আগে থেকেই কান্না করতে থাকে কনের মা ও অন্যরা।
৭. ইন্দোনেশিয়া ও মালোয়েশিয়ার বর্নোয়ো সম্প্রদায় পালন করে আরো অদ্ভুত এক নিয়ম। এখানে বিয়ের পর তিন দিন তাদের ঘরে আবদ্ধ করে রাখা হয় এবং বাথরুমে যেতে দেওয়া হয় না। তাদের বিশ্বাস, এর ফলে বর কনের সন্তান সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবে।
ওআ/