সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৬ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বাড়ছে হুতিদের হামলা, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মুখে ইরানের হুঁশিয়ারি *** জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী *** সাগরে শক্তিশালী হচ্ছে লঘুচাপ, ৬ অঞ্চলে ৬০ কিমি ঝড়ের আভাস *** আশুলিয়ায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে যেভাবে ছড়াল আগুন *** আশুলিয়ায় কাভার্ড ভ্যান থেকে ৬ লাশ উদ্ধার *** জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রথম স্ত্রীসহ থানায় এমপি নজরুল *** সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বাড়ল ২০ টাকা *** কমলাপুর রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে আগুন *** শিল্পকলা একাডেমির সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, পল্লবীতে বাসে আগুন *** ন্যাম ভবন থেকে সাতক্ষীরার এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

মানব পাচারকারীদের তৎপরতা কঠোর হাতে বন্ধ করতে হবে

সম্পাদকীয়

🕒 প্রকাশ: ০১:১০ অপরাহ্ন, ২২শে জুলাই ২০২৩

#

কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না মানব পাচার বা পাচারকারীদের তৎপরতা। সর্বশেষ জানা যায়, নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার ১৩ যুবক দালালের খপ্পরে পড়ে লিবিয়ায় গিয়ে ১৫ মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তারা প্রত্যেকে স্থানীয় দালালদের ৭ লাখ করে টাকা দিয়ে গত বছরের ২০ মার্চ লিবিয়ায় পাড়ি জমান। এর কিছুদিন পর ভালো বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে ইতালি পাঠানোর কথা বলে ওই যুবকদের অভিভাবকদের কাছ থেকে দ্বিতীয়বার টাকা আদায় করে দালালরা।

এরপর তারা নতুন করে টাকা চাইলে এবং অভিভাবকরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে যুবকদের মারধরের ভিডিও পাঠিয়ে তাদের বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এখন বিদেশে তাদের কোনো খোঁজ মিলছে না। বিষয়টি উদ্বেগজনক। এ নিয়ে নেত্রকোনা মানব পাচার ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়েছে।

প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে অন্তত ১০ লাখ মানুষ বিদেশ যান, যাদের মধ্যে অনেকেই পাচারকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়ে জোরপূর্বক শ্রম, যৌন শোষণ, ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়েসহ আধুনিক দাসত্বের শিকার হচ্ছেন। মূলত দেশের বিভিন্ন এলাকার সহজ-সরল মানুষকে দালাল চক্রগুলো মোটা অঙ্কের বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রলুব্ধ করার পর বিদেশে পাচার করে থাকে। এক্ষেত্রে প্রতারণা, নির্যাতন, অপহরণ ইত্যাদি যেন সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। মানব পাচার রোধে দেশে আইন রয়েছে।

২০১২ সালের ‘মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে’ সংঘবদ্ধভাবে মানব পাচারের জন্য মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও সর্বনিম্ন ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং অন্যূন পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। এ আইনে বিচারের জন্য ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। প্রশ্ন হলো, এরপরও অবৈধ মানব পাচার বন্ধ হচ্ছে না কেন? প্রথমত, কিছু মানুষের লোভ ও নির্বুদ্ধিতা এজন্য দায়ী।

বিদেশ গমনেচ্ছুরা বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির বদলে অবৈধ দালাল চক্রের আশ্রয় নেওয়ায় এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। এ ব্যাপারে সবার সচেতন ও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রতারক দালাল চক্রগুলোর মূলোৎপাটন করতে হবে। দেশের কোনো নাগরিক যাতে পাচারের মতো দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতির শিকার না হন, সেজন্য সরকারসহ সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

আই. কে. জে/ 

মানব পাচারকারী তৎপরতা বন্ধ করতে হবে

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250