শুক্রবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৮ই ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ‘খুলনা, বরিশাল, রাজশাহীকে আওয়ামী লীগের সরকার বিদেশের মতো বানিয়েছে’ *** প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন *** বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়ন ও প্রতিরক্ষা চুক্তি করার আহ্বান জানালেন ট্রাম্প *** মৌলবাদ সামাল দিতে আওয়ামী লীগকে ছাড় দেবে বিএনপি: বদিউর রহমান *** রমজানের প্রথম দিনেই ২০ টাকা হালি লেবুর দাম বেড়ে ১২০ *** বাসসের এমডি মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন *** এইচএসসি পরীক্ষার ফি বাড়ল ২১০ টাকা *** শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে যা জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী *** সড়কে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নেওয়া চাঁদা নয়, বাধ্য করা হলে চাঁদা: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী *** ‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারতে পারবেন স্বামী, আফগানিস্তানে নতুন আইন

সুখ-শান্তিময় জীবন কাটানোর আমল ও দোয়া

ধর্ম ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০১:১০ অপরাহ্ন, ১৭ই মে ২০২৩

#

প্রতীকী ছবি

সব মানুষই সুখময় শান্তিপূর্ণ জীবন কাটাতে চায়। যেখানে কোনো হতাশা কিংবা দুশ্চিন্তা থাকবে না। অনেকেই জানে না যে, হাত বাড়ালেই সুখ-শান্তিময় জীবন মেলে না। আর টাকা কিংবা ক্ষমতা দিয়েও তা অর্জন করা সম্ভব নয়। হতাশা ও দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন পাওয়া আল্লাহর একান্ত রহমত। কেননা সব শান্তি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। কোরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা, আমল ও দোয়ায় দূর হবে মানুষের কষ্ট, হতাশা ও অহেতুক দুশ্চিন্তা। কী সেইসব নির্দেশনা, আমল ও দোয়া?

বিপদের কথা স্মরণ করা

জীবনের যেকোনো অশান্তি ও কষ্টের সময় রোগ-ব্যাধির বিপদের কথা স্মরণ করা। দুনিয়ার কষ্টকে নিতান্তই কম বলে মনে করা। তবেই মিলবে সুখ-শান্তিময় জীবন। হাদিসে পাকে এসেছে-

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যদি কোনো মুমিন কোনো রোগ বা ব্যথা জাতীয় বিপদে আপতিত হয় তখন সেই বিপদের বিনিময়ে তার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। এমনকি একটি কাঁটা বিঁধলেও তার বিনিময়ে পাপমোচন হয়।’ (বুখারি ৫৬৪০)

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, এক হাদিসে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘যখন কোনো মুসলমান রোগাক্রান্ত হওয়ায় ঠিকঠাক আমল করতে পারে না তখন আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের বলেন, যতদিন আমার বান্দা অসুস্থ থাকবে ততদিন দিন-রাতে সে (সুস্থ অবস্থায়) যেসব আমল করত (এখন করতে পারছে না) সেসব আমলের সওয়াব তার আমলনামায় লিখতে থাকবে।’ (মুসনাদে আহমদ ৬৮২৫)

বিপদে ধৈর্য ধারণ

বিপদে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ধৈর্যধারণ করা। কেননা আল্লাহ তাআলা ধৈর্যধারণ করা লোকদের সঙ্গী হয়ে থাকেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘হে ইমানদাররা! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের দ্বারা সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা আল-বাকারা: আাত ১৫৩)

এই আয়াতের স্পষ্ট ব্যাখ্যা হলো- আল্লাহ যদি কারও সঙ্গে থাকেন তবে তার তো আর দুশ্চিন্তার কারণ নেই, থাকতেও পারে না। ইসলামি স্কলাররা বলেছেন, খারাপ পরিস্থিতিতে এই ভেবে সান্ত্বনা গ্রহণ করা যে, চলমান বিপদ ও অশান্তির এই পরিস্থিতি অস্থায়ী ও সাময়িক। কেননা এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয় কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি রয়েছে। নিশ্চয় প্রতিকূল পরিস্থিতির পরেই অনুকূল পরিস্থিতি রয়েছে।’ (সুরা আল-ইনশিরাহ: আল্লাহ ৫-৬)

সব সময় আল্লাহকে স্মরণ করা

সুখে-দুঃখে সর্বাবস্থায় আল্লাহর স্মরণে মশগুল থাকাই ইসলামের মূল কথা। মহান আল্লাহর স্মরণ ও আরাধনা মানুষের সব দুশ্চিন্তা, অশান্তি, হতাশা দূর করতে খুবই ফলপ্রসূ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘জেনে রাখো! আল্লাহর স্মরণ দ্বারাই মুমিনের অন্তর প্রশান্তি অনুভব করে।’ (সুরা রাদ: আয়াত ২৮)

আক্ষেপ না করে তাকদিরের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখা

সব সময় তাকদিরের ওপর পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখা। সুখ-শান্তি থেকে বঞ্চিত হলে চিন্তিত কিংবা হতাশা না হওয়া। আল্লাহর কাছে সুখ-শান্তি কামনা করা। আল্লাহর সাহায্য কামনা করা। কোনো বিষয়ে আক্ষেপ না করা। হাদিসে পাকে এসেছে-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তুমি তোমার উপকারী জিনিস কামনা করো। সেক্ষেত্রে আল্লাহর সাহায্য চাও। অসহায় হয়ে পড়ো না। যদি অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতিতে পড়ে যাও তাহলে এ রকম বলো না যে, ‘যদি এ রকম করতাম তাহলে এমনটা হতো (এই বিপদে আর পড়তে হতো না) বরং তুমি তখন বল, আল্লাহ তাকদিরে এমনটাই লিখে রেখেছেন। তিনি যা চেয়েছেন তাই হয়েছে। কেননা এই ‘যদি’ শব্দটি শয়তানি কাজের দরজা খুলে দেয়। অর্থাৎ শয়তানের মাধ্যমে হতাশা সৃষ্টি করে বিপথে নিয়ে যায়।’ (মুসলিম ২৬৬৪)

যারা বিপদ-অশান্তি ও হতাশায় মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে তাদের সুখ-শান্তিময় জীবনের জন্য মহান আল্লাহই যথেষ্ট। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যারা আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে তাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।’ (সুরা আত-তালাক: আয়াত ৩)

তওবা-ইসতেগফার করা

সব সময় তওবা-ইসতেগফার করতে থাকা। তওবা-ইসতেগফারে মানুষের অশান্তি ও হতাশা দূর হয়। মানুষের জীবনে প্রশান্তি নেমে আসে। হাদিসে পাকে এসেছে-

হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইসতেগফার পড়বে আল্লাহ তাআলা তাকে যেকোনো সংকট নিরসনে পথ দেখাবেন। সব দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেবেন। অকল্পনীয় উপায়ে রিজিক দান করবেন।’ (আবু দাউদ ১৫১৮)

জীবনযাপনে পাপ কাজ ছেড়ে দেওয়া

অশান্তি, হতাশা ও দুশ্চিন্তা থেকে বাঁচতে পাপ কাজ ছেড়ে দেওয়ার বিকল্প নেই। পাপমুক্ত জীবন যাপনেই মিলবে প্রশান্তি ও আনন্দ। আল্লাহর অবাধ্যতায় নিমজ্জিত থেকে কিংবা পাপ কাজে লিপ্ত হয়ে হতাশা ও দুশ্চিন্তামুক্ত থাকার আশা করা বোকামি। বস্তুত আল্লাহর নাফরমানি ও অবাধ্যতায় কখনো হতাশা দূর হয় না। দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না। হতাশা ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে হলে জীবন থেকে পাপ কাজ ছেড়ে দিতে হবে। কোরআন-সুন্নার দিকনির্দেশনাগুলো অনুসরণ করতে হবে এবং সে পথেই চলতে হবে। তবেই মিলবে কাঙ্ক্ষিত সুখ ও শান্তিময় জীবন।

আরো পড়ুন:হজের প্রস্তুতি নিন এখনই

দুঃখ ও দুশ্চিন্তামুক্ত থাকার ছোট্ট দোয়া

দুঃখ-দুর্দশা কিংবা কোনো বিষয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে মহান আল্লাহর ওপর আস্থা ও ভরসা রাখার বিকল্প নেই। একত্ববাদের ঘোষণা ও আস্থা বিশ্বাসেই হ্রাস পাবে মানুষের দুঃশ্চিন্তা ও দুঃখবোধ। ইমাম ইবনুল কায়্যিম যাদুল মাদ গ্রন্থে ছোট্ট একটি আমল এভাবে তুলে ধরেছেন-

যে ব্যক্তির দুঃখ এবং দুশ্চিন্তা বৃদ্ধি পেয়েছে সে যেন অবশ্যই পড়ে-

لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ

উচ্চারণ : ‘লা হাউলা ওয়া লা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহি।’

অর্থ : আল্লাহর সাহায্য ছাড়া পাপমুক্তির কোনো পথ নেই, আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া ইবাদতের কোনো শক্তি নেই।’
সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, যখনই চিন্তা, অস্থিরতা, দুঃখ-বেদনায় পড়বে সঙ্গে সঙ্গে ছোট্ট এ আমলটি করবে। তাতেই মিলবে সমাধান ও মুক্তি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুঃখ ও অশান্তির জীবন থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। হতাশা ও দুশ্চিন্তা মুক্ত জীবন গড়ার তাওফিক দান করুন।

আমিন।

এম/

Important Urgent

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250