সুদেব কুমার বিশ্বাস
এককথায় অসাধারণ! একজন সাধারণ দর্শক হিসেবে বলব, এর চেয়ে আরোও ভালো করে বানানো বোধহয় সম্ভব ছিল না। প্রথম দৃশ্য দেখেই আবেগতাড়িত হয়ে পড়লাম। কিছু দৃশ্য বাদে কাঁদতে কাঁদতেই দেখতে হলো পুরো সিনেমাটি। বসে বসে শুধুই ভাবছিলাম, বঙ্গবন্ধুর কন্যা হয়ে শেখ হাসিনা কী করে এই ছবি দেখতে পারলেন? এতোটা মনের জোর তাঁর কী করে হলো?
ব্যক্তি মানুষ তিনি যত বড়ই হোন না কেন, তিনি মূলত একজন পরিবারের মানুষ। আর পুরো সিনেমা জুড়ে বঙ্গবন্ধুকে একজন সন্তান হিসেবে, একজন স্বামী হিসেবে এবং একজন পিতা হিসেবে তাঁর উপস্থিতি ও ভূমিকা চমৎকারভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। স্ত্রী-সন্তানকে বুকে আগলে রাখা একজন সংবেদনশীল পিতাই ধীরে ধীরে হয়ে উঠলেন জাতির পিতা। একজন পারিবারিক মানুষ গোটা দেশকে একটি বৃহত্তর পরিবার মনে করে কর্তার ভূমিকায় এবং গভীর সংকটে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন।
হলে বসেই ভাবছিলাম, একজন এরকম পারিবারিক বন্ধনে জড়িয়ে থাকা মানুষ নিজের স্ত্রী-সন্তানকে ছেড়ে জীবনের অধিকাংশ সময় জেলে বসেই কাটিয়ে দিতে বাধ্য হলেন। কেবল এই ত্যাগ স্বীকার করার জন্যই তো তাঁকে মাথায় তুলে রাখা উচিৎ।
আরেফিন শুভ এবং তিশা তাঁদের অভিনয় প্রতিভার চমৎকার প্রদর্শন করেছেন। তাঁরা দুজনেই বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতাকে ধরতে পেরেছেন। একজন পরীক্ষিত সুদক্ষ নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল-এর হাতে পড়ে সবাই চমৎকার অভিনয় করেছেন। পরিচালক হিসেবে তাঁকে বাছাই করা ছিল সম্ভবত এই ছবি নির্মাণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। একটি লম্বা সময়কে ধারণ করেছে ছবির গল্প এবং প্রত্যেকটি ঘটনাই সেই সময়ের ছবি দারুণভাবে তুলে ধরেছে। সংলাপে আঞ্চলিকতার ব্যবহার ছবিকে করেছে আরও বাস্তব সম্মত।
বঙ্গবন্ধুর উপরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর প্রভাব অত্যন্ত স্পষ্ট এবং বাস্তবসম্মতভাবে ফুটে উঠেছে ছবিতে। 'বাংলাদেশ' শব্দটি রবীন্দ্রনাথ থেকে নেওয়া, 'সোনার বাংলা'-ও তাই। ছবিতে তা উঠে এসেছে দেখে ভালো লাগল। কাজী নজরুল ইসলাম-ও আছেন প্রাসঙ্গিকভাবে। বাংলাদেশ বা সোনার বাংলা- এই শব্দগুলোর উৎস নতুন প্রজন্ম হয়তো জানেই না।
যাদের পড়ার অভ্যাস কম এবং বঙ্গবন্ধুকে জানার বিশেষ সুযোগ হয়নি তাদের অবশ্যই দেখা উচিৎ এই ছবিটি। যারা বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে যথেষ্ট জানেন তাদেরও দেখা উচিৎ আরও ভালো করে একজন পারিবারিক মানুষ হিসেবে বঙ্গবন্ধুকে বোঝার জন্য। যারা বঙ্গবন্ধুকে বা আওয়ামী লীগকে পছন্দ করেন না বা ভিন্নমত পোষণ করেন তাদের আরও বেশি করে দেখা উচিৎ। ব্যক্তি মানুষ কেউই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। তবুও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কিছু বলার আগে একটু তলিয়ে ভাবা দরকার তাঁর অবদানের কথা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচিৎ প্রতিটি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে এই ছবি দেখানোর ব্যবস্থা করা। আর যাদের সুযোগ আছে তারা হলে গিয়ে ছবিটি দেখুন। নতুন করে কিছু ভাবার খোরাক পাবেন নিশ্চয়ই।
দেশের ভালো হোক! জগতের কল্যাণ হোক!
আই.কে.জে/