ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদ ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির উপপরিচালকের চাকরি হারিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ভাই ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলমকে দোষারোপ করছিলেন দলটির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক মুনতাসির মাহমুদ। এরপর তাকে দল থেকেই বাদ দেওয়া হয়েছে।
এবার এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য এক ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন দলটির বহিষ্কৃত নেতা মুনতাসির মাহমুদ। শুক্রবার (১৪ই নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে শেষ হয় আলটিমেটাম।
তবে এ সময়ের মধ্যে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনের পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। পরে এদিন রাত ১০টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দিয়েছেন মুনতাসির মাহমুদ।
ওই পোস্টে তিনি বলেন, ‘আখতার ভাইয়ের জন্য মায়া লাগছে! ফাঁস করব নাকি না? হ্যাঁ হলে লাভ রিঅ্যাক্ট দিন, না হলে কেয়ার দিন। ভোট যেদিকে যাবে, সেটাই করব।’
এর আগে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে মুনতাসির বলেন, ‘এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে ভুল স্বীকার করে আমার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার জন্য শেষ ১ ঘণ্টা সময় দেওয়া হলো। নইলে... অ্যাকশন!’
প্রসঙ্গত, জুলাই অভ্যুত্থানের পর মুনতাসির মাহমুদ রেড ক্রিসেন্টে উপপরিচালক পদে চাকরি পেয়েছিলেন। আর উপদেষ্টা মাহফুজের ভাই মাহবুব আলম রেড ক্রিসেন্টের ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রেড ক্রিসেন্টে মুনতাসির মাহমুদের চাকরিটি ছিল অস্থায়ী। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে কয়েক দিন ধরে রেড ক্রিসেন্টের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে রাজধানীর মগবাজারে প্রতিষ্ঠানটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিক্ষোভ করছিলেন মুনতাসির।
এনসিপির পক্ষ থেকে নিষেধ করার পরও গত ১২ই অক্টোবর লোকজন নিয়ে মুনতাসির সেখানে বিক্ষোভ করেন। ওই দিন রেড ক্রিসেন্টের বোর্ড সভায় তাকে চাকরি থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত হয়। বোর্ড সভায় উপদেষ্টার ভাই মাহবুব আলমও ছিলেন। সভার পর রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি থেকে বের হতে গেলে তাকে অবরুদ্ধ করেন মুনতাসির মাহমুদের অনুসারীরা।
তারপর সেদিনই মুনতাসিরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও পদ থেকে অব্যাহতির চিঠি ফেসবুকে প্রকাশ করে এনসিপি। এরপরও উপদেষ্টা মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে ফেসবুক পোস্টে বিভিন্ন অভিযোগ করছিলেন মুনতাসির।
খবরটি শেয়ার করুন