ছবি: সংগৃহীত
ইরানের রাজধানীর তেহরানের বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী পারিসা। গত শুক্রবার রাতে বিক্ষোভে যোগ দিয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’। বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল। হঠাৎ এই বিক্ষোভে গুলি চালান নিরাপত্তা বাহিনীর চার সদস্য। এই বিক্ষোভে কিশোর ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে যোগ দিয়েছিলেন এক বাবা। গুলিতে তিনি মারা যান। খবর সিএনএনের।
শুধু তেহরান নয়, ইরানের বড় বড় শহরে তিন রাত ধরে টানা বিক্ষোভ চলছে। আর এসব বিক্ষোভ নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় সহিংস হয়ে উঠছে। সিএনএন বলছে, ইরানের ৩১টি প্রদেশের সবকটিতেই এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অন্তত ৭৮ জন নিহত হয়েছেন। ২ হাজার ৬০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে গতকাল রোববার (১১ই জানুয়ারি) পর্যন্ত ৬০ ঘণ্টা ধরে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রেখেছে ইরান সরকার। এ ছাড়া টেলিফোন-সেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে। ইরানে যারা আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন তারা বলছেন, বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তিদের লাশ জমা হচ্ছে হাসপাতালগুলোয়।
নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হওয়ার পর ইরানের বিক্ষোভের ভিডিও নানানভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। এর অনেক ভিডিওর সত্যতা নিশ্চিত করেছে নিউইয়র্ক টাইমস ও বিবিসি। এসব ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নিরাপত্তা বাহিনী ভয়ংকর দমনপীড়ন চালাচ্ছে। এই অবস্থায় ইরানের সামরিক বাহিনী ঘোষণা দিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা রাস্তায় নামবে।
এসব ভিডিও থেকে দেখা যাচ্ছে, তেহরানের হেরাভি স্কয়ারে নেমে আসছে সাধারণ মানুষ। ছন্দে ছন্দে সেখানে স্লোগান উঠছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিরুদ্ধে। সেখানকার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভে এত মানুষের উপস্থিতি যে জনসমাগমের শুরু আর শেষ কোথায় সেটা বোঝা যাচ্ছে না। এ ছাড়া বিক্ষোভ দমনে সেখানে রাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
ইরানের ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়ায় গত শনিবারের বিক্ষোভের চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। এ ছাড়া ইরান থেকে দেশটির বাইরে কেউ কলও করতে পারছে না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এই পরিস্থিতির নিন্দা জানিয়েছে।
তারা বলছে, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মারা গেছে ২৮ জন। তবে ইরান নিয়ে কাজ করে এমন দুটি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, এই নিহতের সংখ্যা ৭০ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে অপ্রাপ্ত বয়স্ক রয়েছে। এ ছাড়া ২০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন