মঙ্গলবার, ১৩ই জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** যে ইস্যুতে সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ চায় বিএনপি *** ‘সাংবাদিকদের স্নাতক হওয়ার বাধ্যবাধকতায় সাংবিধানিক অধিকার খর্ব হবে’ *** বাম ও মধ্যপন্থী মতাদর্শের তরুণদের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম আসছে *** শেখ হাসিনাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করল পিবিআই *** বাংলাদেশের বাহিনীগুলোর কোনো পদক্ষেপ ভারতের বিরুদ্ধে নয়: ভারতীয় সেনাপ্রধান *** ইরানের সরকার স্বীকার করল নিহত ২০০০—বেসরকারি সূত্রমতে ১২০০০ *** প্রবাসীদের সুখবর দিলেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল *** শিক্ষার্থীদের চাকরি সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা *** দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলন উদ্বোধন করলেন প্রধান উপদেষ্টা *** জামায়াত আমিরের সঙ্গে জার্মান রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

কথা ফুটেছে ইরানের দুই নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর মুখে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৯:৪৮ অপরাহ্ন, ১৯শে জুন ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

গাজায় চলমান গণহত্যার মধ্যেই ইরানে ইসরায়েলের হামলা এবং এর জের ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যে অশান্তির বিষবাষ্পের উদ্‌গিরণ শুরু হয়েছে, তা বৈশ্বিক আতঙ্ক জাগিয়ে তুলেছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে প্রথমে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যা এবং এর জবাবে ইসরায়েলে ইরানের প্রত্যাঘাত যে নতুন সংঘাতের সূচনা করেছে, তা স্পষ্টতই অঞ্চলটিতে সর্বাত্মক যুদ্ধে মোড় নিচ্ছে।

ইসরায়েলের দিক থেকে ‘তেহরানকে জ্বালিয়ে দেওয়া হবে’ বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে—ব্রিটেন, আমেরিকা ও ফ্রান্স যদি ইসরায়েলকে রক্ষায় সামরিক হস্তক্ষেপ করে, তাহলে ইরান ওই দেশগুলোর মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে। 

প্রতিমুহূর্তে নতুন নতুন মাত্রায় মোড় নিতে থাকা এ উত্তেজনার আঞ্চলিক পরিসর থেকে বৈশ্বিক উত্তেজনায় রূপান্তরিত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ ক্রমেই সংকীর্ণ হয়ে আসছে।

আজকের ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের নেপথ্যে পশ্চিম তথা আমেরিকার দায় যে অনেকখানি, তা স্পষ্টতই প্রতিভাত হচ্ছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাশ টেনে ধরা প্রশ্নে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যর্থতা অথবা অনিচ্ছা এ অশান্তির পেছনে বড় নিয়ামক হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। তবে ইরান–ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই শান্তিবাদীরা দৃঢ় কণ্ঠে বলছেন, বিশ্বকে বাঁচাতে এ যুদ্ধ থামাতেই হবে।

এমন পরিস্থিতিতেও ইরানের দুই নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ও মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মাদি এবং শিরিন এবাদী ইরানের পক্ষে কিছু বলছিলেন না। এ কারণে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সমালোচনার শিকার হচ্ছিলেন। অবশেষে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের আজ বৃহস্পতিবার (১৯শে জুন) সপ্তম দিনে কথা বলেছেন তারা।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদি ও শিরিন এবাদী।

‘ধ্বংস নয়, সংলাপ বেছে নিন’— এ বার্তা দিয়ে তারা নোবেল উইমেন’স ইনিশিয়েটিভ ওয়েবসাইটে এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইসরায়েল যে যুদ্ধ শুরু করেছে, তা শুধু ভোগান্তিই বাড়াচ্ছে না, বরং তা গোটা অঞ্চলজুড়ে এবং বৈশ্বিকভাবে বিস্তৃত সংঘাতের আশঙ্কাও তৈরি করছে। নারীদের, শিশুদের— সাধারণ নাগরিকদের জীবন এখন চরম ঝুঁকিতে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এ যুদ্ধ থামাতে হবে। আমরা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, উভয় দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ এবং মানবাধিকার রক্ষার আহ্বান জানাই। পাশাপাশি, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিও মেনে চলা উচিত।’

২০০৩ সালের নোবেলজয়ী শিরিন এবাদী বর্তমানে ব্রিটেনে নির্বাসনে আছেন। তিনি ইরানে গণতন্ত্র, নারী ও শিশু অধিকার এবং শরণার্থীদের পক্ষে কাজ করার জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পান।

২০২৩ সালের নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদি ইরানে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা ও নারীর অধিকারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করছেন। বর্তমানে তিনি তেহরানের কারাগারে দীর্ঘমেয়াদি সাজা ভোগ করছেন।

এ দুই শান্তিকর্মীর আহ্বান এমন এক সময়ে এল, যখন যুদ্ধের কারণে ইরান ও ইসরায়েল উভয় দেশে বহু সাধারণ নাগরিক হতাহত হচ্ছেন এবং যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250