ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি ছিল ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং আধুনিক পপ সঙ্গীতের এক অসাধারণ মেলবন্ধন। আসতেকা স্টেডিয়ামের ঠিক মাঝখানে রাখা একটি বিশাল সোনালি ট্রফিকে ঘিরে অ্যাজটেক সংস্কৃতির মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। প্রখ্যাত শিল্পী লিলা দাউনস স্প্যানিশ ও ইংরেজিতে পুরো বিশ্বকে মেক্সিকোতে স্বাগত জানান।
এরপরই মঞ্চে আসেন ড্যানি ওশেন, যার পারফরম্যান্সের রেশ কাটতে না কাটতেই মেক্সিকান পপ স্টার বেলিন্ডা এবং লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলেস বিশ্বকাপের অফিশিয়াল অ্যালবামের গান ‘পোর এয়া’ পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। তাদের কুম্বিয়া এবং পপ মিউজিকের এই দারুণ মিশ্রণটি অনুষ্ঠানে এক অন্যরকম প্রাণশক্তি নিয়ে আসে।
এরপরই স্টেডিয়ামের আবহে যুক্ত হয় রক ও রেগেটন মিউজিকের উন্মাদনা। মেক্সিকান লেজেন্ডারি রক ব্যান্ড মানা যখন তাদের ১৯৯২ সালের আইকনিক গান ‘ওয়ে মি আমো’ গাইতে শুরু করে, তখন পুরো স্টেডিয়ামের দর্শক তাদের সাথে গলা মেলায়।
এই আবেগঘন মুহূর্তের পরই কলম্বিয়ান তারকা জে বলভীন এবং রায়ান কাস্ত্রো মঞ্চে এসে তাদের হিট গানগুলোর মেডলি দিয়ে পুরো স্টেডিয়ামকে একটি বিশাল ডান্সফ্লোরে পরিণত করেন। ‘কে কালোর’, নতুন ডুয়েট ‘উনা আ লা ভেজ’ এবং ‘আই লাইক ইট’-এর তালে দর্শকরা আনন্দে মেতে ওঠে।
তবে পুরো আয়োজনের সবচেয়ে বড় চমকটি জমা ছিল একেবারে শেষের জন্য। জে বলভীনের পারফরম্যান্সের পরপরই মঞ্চে আসেন গ্লোবাল সুপারস্টার শাকিরা। বার্না বয়কে সাথে নিয়ে তিনি এবারের বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’ এর প্রথম লাইভ পারফরম্যান্স উপহার দেন। শাকিরার আইকনিক ডান্স মুভস এবং বার্না বয়ের দুর্দান্ত স্টেজ প্রেজেন্স পুরো স্টেডিয়ামকে উন্মাদনায় ভাসায়।
পারফরম্যান্সের একেবারে শেষে তাদের একসঙ্গে ‘দেল, আলে, লেটস গো!’ চিৎকারটি ছিল টুর্নামেন্ট শুরুর জন্য এক নিখুঁত সমাপ্তি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই গানটি 'ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ড'-এর সঙ্গে থেকে একটি মহৎ উদ্দেশ্যকেও সমর্থন করছে। সব মিলিয়ে মেক্সিকো সিটির এই উদ্বোধনী দুপুরটি ছিল সত্যিই অবিস্মরণীয়।
খবরটি শেয়ার করুন