মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৭শে আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** নিজেকে সর্বকালের সেরা ও পরিপূর্ণ ফুটবলার দাবি রোনালদোর *** অপমানিত ড. ইউনূস, বার্লিন সফর বাতিল, বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের ওয়েবসাইট থেকে নাম বাদ *** সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগে মামলা দিল পুলিশ *** ইয়েমেনের হুতিদের লক্ষ্য কেন সৌদি আরবের বিমানবন্দর *** এবার এয়ারলাইনসগুলোকে সৌদি আকাশসীমা এড়িয়ে চলার হুঁশিয়ারি হুতিদের *** চকবাজারে আগুন, সরু গলি ও পানি স্বল্পতায় বেগ পেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসকে *** নিরাপত্তার কারণে ঢাকা-দাম্মাম রুটে বিমানের ফ্লাইট স্থগিত *** দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক *** রবীন্দ্রসংগীতকে ব্যঙ্গ করে আম্মারের ‘রঠা সংগীত’ *** রাহুল, প্রিয়াঙ্কা ও নেহা বোরার নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রা, আটকে দিল পুলিশ

সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগে মামলা দিল পুলিশ

শাওন দত্ত

🕒 প্রকাশ: ১১:০০ অপরাহ্ন, ১২ই অক্টোবর ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের পর তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা, অর্থায়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণার অভিযোগ এনেছে পুলিশ। মামলার এজাহারে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুই কর্মকর্তা হলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) বিজয় দেবাশীষ নারায়ণ পাল ও লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা।

গতকাল রোববার, ১১ অক্টোবর দিবাগত রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আজ সোমবার তাদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গ্রেপ্তারের পর পল্লবী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের পাশাপাশি রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। তবে কোন অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ পাওয়া গেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।

পুলিশের এজাহার অনুযায়ী, কাজী গুলশান আরাকে রাজধানীর পল্লবী এলাকার সেকশন-১১-এর একটি বাসা থেকে রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বনানী ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে রাত আড়াইটার দিকে দেবাশীষকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের পল্লবী জোনাল দলের সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তা তাদের সহযোগীদের নিয়ে সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং কুৎসামূলক প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সরকারবিরোধী প্রচার, অর্থ সংগ্রহ এবং সহিংসতায় উসকানি দিতে পারে—এমন ডিজিটাল উপকরণ তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহারে ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ নামে দুটি প্ল্যাটফর্মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হতো। এর উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র পরিচালনা করা।

এ ছাড়া ‘কালআজকাল ডটকম’ নামে একটি পেজের মাধ্যমে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে উসকানি দিতে পারে, এমন বিষয়বস্তু প্রচারের অভিযোগ করেছে পুলিশ। কাজী গুলশান আরার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম প্রচার ও পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।

জাগোনিউজ২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আওয়ামী লীগ সাপোর্টারস আলফা-১’ এবং ‘বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি’ নামে হোয়াটসঅ্যাপ গোষ্ঠী ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এজাহারে এসেছে। এসব মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ এবং সহিংসতায় উসকানিমূলক বিষয়বস্তু তৈরি ও প্রচারের অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব গোষ্ঠীর মাধ্যমে ঠিক কত টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে, কারা অর্থ দিয়েছেন কিংবা কোথায় সেই অর্থ ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে নির্দিষ্ট কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।

কাজী গুলশান আরার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগও এনেছে পুলিশ। এজাহারে বলা হয়েছে, ২৭ নভেম্বর দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে গণভবনে গিয়ে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি প্রকাশ্যে একাত্মতা ও আনুগত্য প্রকাশ করেন। এ ছাড়া ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ নামে একটি কমিটি গঠন এবং সংগঠনটির মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ করা হয়েছে। সংগঠনটির কমিটিতে ১০১ জনের সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

পুলিশের অভিযোগ, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে অবৈধ অর্থায়ন এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর বিভিন্ন ধারায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তবে এজাহারে উল্লিখিত অভিযোগের প্রতিটি বিষয়ে তদন্তের ফল এখনো প্রকাশ হয়নি।

সোমবার বিকেলে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, মামলার অন্য আসামিদের নাম-ঠিকানা ও অবস্থান শনাক্ত করা, দেশি-বিদেশি ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা যাচাই, ডিজিটাল আলামত উদ্ধার এবং তাদের পরিচালিত অন্য কোনো ওয়েবসাইট বা পেজের সন্ধান পেতে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করেন। দেবাশীষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মনসুর বলেন, তার মক্কেলের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর যথাযথ ভিত্তি রিমান্ড আবেদনে তুলে ধরা হয়নি। কী কারণে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই।

গুলশান আরার আইনজীবী মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, তার মক্কেলের বিরুদ্ধে টেলিভিশনের আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু ওই অনুষ্ঠানে কী বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল এবং তার মাধ্যমে কীভাবে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে রিমান্ড আবেদনে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই বলে তিনি আদালতে দাবি করেন।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বলেন, আসামিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন। তাদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি গুপ্তচরদের যোগাযোগ থাকার অভিযোগও তিনি আদালতে তুলে ধরেন। এসব যোগাযোগ, কথিত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি দেয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্তে এখন যেসব বিষয় সামনে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, কথিত অর্থায়নের উৎস, অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অভিযোগে উল্লিখিত ডিজিটাল উপকরণ। এসব বিষয়ে কী ধরনের তথ্য ও আলামত পাওয়া যায়, তা তদন্তের পর জানা যাবে।

এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযোগ, আসামিপক্ষের বক্তব্য এবং আদালতের রিমান্ডের আদেশই নিশ্চিতভাবে জানা যাচ্ছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে তদন্তের ফল এবং পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250