রবিবার, ১৫ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১লা চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** চলে গেলেন জার্মানদের ইহুদি গণহত্যার দায় নিতে শেখানো দার্শনিক হাবারমাস *** বাংলাদেশ-তুরস্ক পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সমরাস্ত্র-জ্বালানি-বাণিজ্যে জোর *** ‘হাজী শরীয়ত উল্লাহর বংশধর হানজালা খোঁচাখুঁচি করলে বিএনপি দেশে থাকতে পারবে না’ *** ‘শাহরিয়ার কবির আমাকে মধ্যরাতের রাজাকার বললতেন, তবুও তার মুক্তি চাই’ *** ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর *** আমস্টারডামে ইহুদি স্কুলে বিস্ফোরণ *** ‘জামায়াত-এনসিপি অসভ্যতা করবে, এটাই স্বাভাবিক’ *** হাদি হত্যা: ফয়সালকে পালাতে ‘সাহায্যকারী’ ফিলিপ সাংমা পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার *** নিষেধাজ্ঞা কাটাতে আন্তর্জাতিক তৎপরতা, নির্বাচনী রাজনীতিতে শক্তিশালী হয়ে ফিরতে চায় আওয়ামী লীগ *** রাত থেকে গণপরিবহনে তেল নেওয়ার সীমা থাকছে না: সড়কমন্ত্রী

হুমকি দিয়ে ঝামেলা মেটাতে ভাড়ায় খাটেন তারা

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন, ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২৫

#

প্রতীকী ছবি

জাপানে ছোটখাটো বিরোধ বা ঝামেলা মেটাতে এখন আর পুলিশের দরকার নেই। দরকার নেই আদালতেরও নয়। কারণ, এবার বাজারে নেমেছে একেবারে ভিন্নধর্মী সেবা। নাম ‘রেন্টাল কোওয়াইহিতো।’ জাপানি ভাষায় এর মানে দাঁড়ায়—‘ভাড়ায় পাওয়া ভয়ংকর মানুষ।’ যেমন নাম, তেমনি কাজ।

হংকং থেকে প্রকাশিত সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংস্থার কাজই হলো গ্রাহকের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে সাহস ও শক্তি জোগানো। কেউ যদি সহকর্মীর খোঁচাখুঁচিতে বিরক্ত হন, প্রতিবেশী যদি রাতভর শব্দ করে ঘুমের বারোটা বাজানোর মতো কাজ করেন, কিংবা বাচ্চাকে স্কুলে কেউ বুলিং করে, তাহলে ফোন করতে হবে এই প্রতিষ্ঠানে। মুহূর্তের মধ্যেই হাজির হবে ট্যাটুভরা দেহ, ন্যাড়া মাথা, চোখে কড়া চাহনির এক ‘ভয়ংকর’ মানুষ।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের পাঠানো লোককে দেখেই বিপরীত পক্ষ সাধারণত আধঘণ্টার মধ্যেই নতি স্বীকার করে। শুধু অফিস বা বাসার ঝামেলা নয়, প্রেমঘটিত গোলযোগেও এই ভাড়াটে বাহিনী কাজে আসে। কারও প্রেমিক বা প্রেমিকা পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়লে তাদের সামনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া যেতে পারে এই ‘ভয়ংকর’ সঙ্গীদের।

আবার সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার বা নিয়োগকর্তা যদি টাকা মেরে দেন, সেই পাওনাও আদায় করে আনেন তারা। শুনে মনে হতে পারে সিনেমার গল্প, কিন্তু জাপানে এখন এটা একেবারেই বাস্তব ব্যবসা।

সম্প্রতি এক্সের এক ব্যবহারকারী, সংস্থাটির ওয়েবসাইটের কিছু স্ক্রিনশট শেয়ার করেন। সেটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। পোস্টটিতে লাইক পড়ে ৩ লাখের বেশি, রিপোস্ট হয় ৩৬ হাজারবার। নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও অনেকেই সেবাটিকে ‘সময়োপযোগী’ বলে প্রশংসা করেছেন।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা কোনোভাবেই গ্যাংস্টার ভাড়া করে না এবং কোনো বেআইনি কাজও করে না। সবকিছুই নাকি আইনের মধ্যে থেকে করা হয়। তবে তাদের পারিশ্রমিক কিন্তু একেবারেই ‘সস্তা’ নয়।

আধঘণ্টার সেবার জন্য খরচ পড়বে ২০ হাজার জাপানি ইয়েন, যা প্রায় ১৪০ আমেরিকান ডলার। আর তিন ঘণ্টার সেবা চাইলে গুনতে হবে ৩৪০ ডলার। শহরের বাইরে কাজ হলে গ্রাহককেই বহন করতে হবে যাতায়াত খরচ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘এটি খুবই দরকারি সেবা। কারণ মানুষের স্বভাব হলো দুর্বলকে হয়রানি করা আর শক্তিশালীদের ভয় করা।’ আরেকজন রসিকতা করে লিখেছেন, ‘কৌতূহল হচ্ছে, যদি দুই পক্ষই সমানভাবে ভাড়ায় ভয়ংকর মানুষ নিয়ে আসে, তখন কী হবে?’

সব মিলিয়ে জাপানের এই অভিনব ব্যবসা এখন রীতিমতো আলোচনায়। কারও কাছে এটি আধুনিক সমাজের বাস্তবতা, কারও কাছে সিনেমার কাহিনির মতো এক মজার উদ্যোগ। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত—‘ভাড়ায় পাওয়া ভয়ংকর মানুষ’ ইতিমধ্যেই জাপানি সমাজে শক্ত অবস্থান নিতে শুরু করেছেন।

জে.এস/

ভাড়াটে বাহিনী

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250