শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩রা মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** শূকর জবাইয়ে সহায়তা চেয়ে পোস্ট তরুণীর, পরদিনই হাজারো মানুষের ঢল *** ১১ দলীয় জোটে আদর্শের কোনো মিল নেই: মাসুদ কামাল *** খালেদা জিয়া সত্যিকার অর্থেই মানুষ ও দেশের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন: নূরুল কবীর *** দুই দশক পর ২৬ জানুয়ারি বরিশালে আসছেন তারেক রহমান *** তারেক রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির ভার্চুয়াল বৈঠক *** যারা হ্যাঁ ভোটের সমালোচনা করছেন, তাদের জানার পরিধি সীমিত: শফিকুল আলম *** যুক্তরাজ্যে সহকারী হাইকমিশনে নিয়োগ পেলেন ওসমান হাদির ভাই ওমর *** নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘এনপিএ’র আত্মপ্রকাশ *** এককভাবে নির্বাচন করবে ইসলামী আন্দোলন *** অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২: ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার আরো ৪২৪

‘আগামী নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করবে আওয়ামী লীগ’

বিশেষ প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ১২:৩০ পূর্বাহ্ন, ১৩ই নভেম্বর ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে না। দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে। এ কারণে দলটি বর্তমানে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। যত দিন দলটির নিবন্ধন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার না হচ্ছে, তত দিন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের থাকা না–থাকা নিয়ে বিস্তর আলাপ–আলোচনা হচ্ছে। কেউ কেউ নমনীয় অবস্থানে থাকলেও রাজনীতিতে দলটির আর ফেরার সুযোগ নেই বলে অনেকে মনে করছেন। তাদের যুক্তি, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের আর দেশের রাজনীতি পুনর্বাসিত হওয়া সম্ভব নয়।

তবে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সমর্থকেরা ভোট দিতে যাবেন কি-না কিংবা গেলে কোন দলকে সমর্থন করবেন, সেটাও নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবে বলে অনেকে মনে করছেন। বিএনপি-জামায়াত, দুই দলেরই নজর আওয়ামী লীগের ভোটের দিকে। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী গত ১০ই নভেম্বর দেওয়া এক বক্তব্যে দাবি করেন, আওয়ামী লীগের ৪৩ শতাংশ ভোট আছে।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলছেন, ‘আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থাকছে না। কিন্তু ইন্টারেস্টিং হচ্ছে আগামী নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করবে আওয়ামী লীগ। আগামী নির্বাচনটা কেমন হবে, সেটা আওয়ামী লীগের ওপর নির্ভর করবে। আওয়ামী লীগের ভোট টানার জন্য ইতিমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। এর নমুনা আমরা অলরেডি দেখতে শুরু করেছি। নমুনা একাধিক আছে।’

নিজের ইউটিউব চ্যানেলের এক ভিডিওতে মাসুদ কামাল এসব কথা বলেন। গত মঙ্গলবার (১১ই নভেম্বর) ভিডিওটি আপলোড করা হয়েছে। 'কোন চাপে ফিরিয়ে নিলেন মনের কথা' শিরোনামে তার 'কথা' ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিওটি আপলোড করা হয়েছে। বুধবার (১২ই নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ভিডিওটি দেখা হয়েছে ৮৬ হাজার বারের বেশি। এ সময়ের মধ্যে এতে মন্তব্য এসেছে ৮৩০ জনের।

মাসুদ কামাল ভিডিওতে বলেন, “মঙ্গলবার (১১ই নভেম্বর) বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে একটা মতবিনিময় সভায় বলেছেন, ‘আমরা প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতি করতে চাই না। আওয়ামী লীগ যেভাবে নির্বিচারে মামলা করেছে, আমরা সে পথে হাঁটতে চাই না। বরং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যত মামলা আছে, সবই আমরা তুলে নেব’।” 

মাসুদ কামাল বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলামের বক্তব্য অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পরে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যত মামলা হয়েছে, এর মধ্যে অনেক হয়রানিমূলক মামলা আছে। যত মামলা আছে, সেই মামলাগুলোর ৯০ শতাংশেরও বেশি মামলার বাদী হচ্ছেন বিএনপি অথবা যুবদল অথবা ছাত্রদল অথবা স্বেচ্ছাসেবক দলের কোনো না কোনো নেতা বা কর্মী। এতে কোনো সন্দেহ নেই।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন মামলা বাণিজ্যের কারণে অনেকে বাড়িতে থাকতে পারেন না, দৌড়ের ওপর আছেন। আর বিএনপির মহাসচিব বলছেন যে, তিনি সব হয়রানিমূলক মামলা তুলে নেবেন। আওয়ামী লীগের যত মামলা আছে, সব মামলা তারা উঠিয়ে নেবেন, শুনতে একটু অবিশ্বাস্য লাগে।'

মির্জা ফখরুল ইসলামের ওই বক্তব্যের পর বিএনপির পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, সেখানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন যে, গণমাধ্যমে তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, আমি আমার বক্তব্যে বলেছি যে, আমরা প্রতিশোধের রাজনীতি করতে চাই না, আওয়ামী লীগের মতো হয়রানিমূলক মামলা করতে চাই না, আমি আমার দেওয়া বক্তব্যে আরো বলেছি যে, এই ইউনিয়নে হয়রানিমূলক কোনো মামলা হলে আমরা তুলে নেব। কিন্তু দেশব্যাপী হয়রানিমূলক মামলা দায়ের কিংবা মামলা তুলে নেওয়ার বিষয়ে আমি কোনো বক্তব্য দিইনি।

মাসুদ কামাল বলেন, আওয়ামী লীগের ভোট টানতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিভিন্নভাবে বক্তব্য দিচ্ছে। এর বড় কারণ হচ্ছে, আওয়ামী লীগ এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। আর আওয়ামী লীগের ভোট যার পক্ষে যাবে, সে দলেরই জয়ী হওয়ার সম্ভবনা প্রবল। আর এ কারণেই এ ধরনের বক্তব্যে দেওয়া হচ্ছে।

ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন টকশোতে গত ৭ই অক্টোবর গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আব্দুন নূর তুষার বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকলেও তাদের ভোটারেরা ঠিকই থাকবেন। তাদের উপেক্ষা করার উপায় নেই। অনেক আসনে তারাই জয়-পরাজয় নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারেন। সেক্ষেত্রে এই ভোটারেরা বড় ‘ফ্যাক্টর’ হিসেবেই থাকবেন।

তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিবিসি বাংলার সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগকে এখনো বড় প্রতিপক্ষ হিসেবেই চিহ্নিত করেছেন, সেটাতে কোনো ভুল নেই। কারণ, জয়-পরাজয়ের সঙ্গে অবশ্যই আওয়ামী লীগের একটা সম্পর্ক থাকবে। বিএনপি একদিকে যেমন জনপ্রিয় দল, তেমনি দেশের নির্বাচন নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতাও অনেক বেশি। সে জায়গা থেকে তারেক রহমান সঠিক পর্যবেক্ষণই দিয়ে থাকবেন বলে মনে করেন তিনি।

মাসুদ কামাল আব্দুন নূর তুষার

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250