বুধবার, ২৮শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১২ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়ে জাতিসংঘে আওয়ামী লীগের চিঠি *** মানিক পশারীর জানাজা-দাফনে বাধার অভিযোগ তদন্তে জামায়াতের কমিটি *** তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা জাপান প্রধানমন্ত্রীর *** রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার: জাতিসংঘের প্রতিবেদন *** মাও সেতুংকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে ক্ষমা চাইলেন এমবাপ্পে, দুঃখ প্রকাশ লা লিগার *** আইজিপির বক্তব্য সরকারের জন্য বিব্রতকর: রিজভী *** বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমকে সমর্থন করে না সরকার: তথ্য উপদেষ্টা *** ‘ক্রসফায়ারের’ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে মবের শিকার হবেন না: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা *** আওয়ামী লীগের যারা ভালো মানুষ, তারা আপন ঠিকানা খুঁজে নেবেন: জামায়াত আমির

আওয়ামী লীগের ইফতার অনুষ্ঠান ভারত সরকার ‘বর্জনের’ যে ব্যাখ্যা দিলেন সাংবাদিক জুলকারনাইন

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০২:১৪ অপরাহ্ন, ১৬ই মার্চ ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের জানিয়েছেন, সম্প্রতি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রেসক্লাব অব ইন্ডিয়ার সভাপতি গৌতম লাহিড়ী আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা, ভারত সরকারের কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকদের নিয়ে একটি ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। তবে এই আয়োজনকে ঘিরে আলোচনার চাইতে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হলো, অনুষ্ঠানটি যারা 'এড়িয়ে গেছেন', তাদের উপস্থিতি না-থাকা।

গতকাল রোববার দিবাগত রাত ২টা ৫৬ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। জুলকারনাইন সায়ের বলেন, বেলজিয়াম থেকে বিশেষভাবে আমন্ত্রিত হয়ে আসা আওয়ামী লীগ নেতা হাছান মাহমুদ এবং জাহাঙ্গীর কবির নানক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন ঠিকই, তবে আমন্ত্রণ জানানো সত্ত্বেও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক—কোনো পর্যায়ের প্রতিনিধিই এই ইফতারে অংশ নেননি।

তিনি বলেন, শুধু তাই নয়, যেসব সাংবাদিককে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল, তাদের অধিকাংশই ছিলেন অনুপস্থিত। মূলধারার গণমাধ্যমের প্রতিনিধি হিসেবে শুধু ইন্ডিয়া টুডের একজন সাংবাদিককে সেখানে দেখা গেছে—যা আয়োজনের 'গুরুত্ব' সম্পর্কে অনেক কথাই বলে।

তিনি লেখেন, বাংলাদেশের নির্বাচন-পরবর্তী বাস্তবতায় এই ইফতারে ভারত সরকারের কেউ না আসা এবং সাংবাদিকদের যোগদানে বিরত থাকা—এই দুই ঘটনা ইঙ্গিত বহন করে: প্রথমত, ভারত সরকার সম্ভবত সচেতনভাবেই এই আয়োজনকে 'এড়িয়ে গেছে'। এর মাধ্যমে তারা বোঝাতে চেয়েছেন, আওয়ামী লীগের পক্ষে কোনো অবস্থান নেওয়ার আগ্রহ তাদের নেই। বরং বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখাই এখন তাদের মূল অগ্রাধিকার।

জুলকারনাইন সায়ের বলেন, দ্বিতীয়ত, এটি ভারতের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগকে একটি 'শক্ত দূরত্বের বার্তা'। যেখানে একসময় এই দলের নেতারা দিল্লির বিভিন্ন মহলে স্বাগত অতিথি ছিলেন, সেখানে এখন তাদের 'কূটনৈতিকভাবে বর্জন' দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানটি তাই আওয়ামী লীগের জন্যে আড়ম্বরের চাইতে একরকম 'বর্জনের মহড়া' হয়ে গেলো।

তিনি বলেন, ভারত সরকার আসলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বর্তমান সরকার ও বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক উন্নত করতে কতটা আন্তরিক, সেটার প্রমাণ আমরা পাব যখন দেশটি অন্তত চারটি পদক্ষেপ নিশ্চিত করবে। ১. বাংলাদেশ ভারত সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিকদের গুলি করে হত্যা বা পাকড়াও করে নিজ সীমানায় নিয়ে নির্যাতন শূণ্যের কোঠায় নিয়ে আসা। ২. ভারতে আশ্রিত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করা।

তিনি উল্লেখ করেন, ৩. ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান বিব হাদি হত‍্যার সাথে জড়িত আটককৃত ব্যক্তিদের দ্রুততার সাথে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো এবং একই সাথে জুলাই-আগষ্ট ২০২৪ আন্দোলনে হত‍্যার সাথে জড়িত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী এবং নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের ফেরতের ব্যবস্থা গ্রহণ। ৪. বাংলাদেশকে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা বুঝিয়ে দেওয়া।

জে.এস/

জুলকারনাইন সায়ের

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250