ছবি: সংগৃহীত
মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন বিএনপির নেত্রী সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম কিনলেও দলের ঘোষিত তালিকায় তার নাম না থাকায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেছেন।
বিএনপি যে ৩৬ জনের তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে জায়গা হয়নি এই নেত্রীর। বিএনপির রাজনীতিতে পরিচিত মুখ পাপিয়া নবম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন। এবারও মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পাননি।
গতকাল শনিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পাপিয়া নিজের অবস্থান ও রাজনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমার রাজনীতি কোনো সাময়িক পদ-পদবি বা ব্যক্তিস্বার্থের ওপর দাঁড়িয়ে নেই। এটি একটি আজীবন লালিত আদর্শের লড়াই, যা স্কুলে পড়াকালীন ছাত্রদলের প্রাথমিক সদস্য হিসেবে শুরু করেছিলাম। দীর্ঘ কয়েক দশকের সেই ত্যাগ আর রক্তে ভেজা সংগ্রাম আমার অস্তিত্বের অংশ।’
পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘বিএনপি এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি আমার ভালোবাসা ও আনুগত্য এত ঠুনকো নয় যে এতো সহজে তা বিলীন হয়ে যাবে। রাজনীতিতে মান-অভিমান থাকতে পারে, পরিস্থিতির কারণে মনে কষ্ট থাকতে পারে; কিন্তু আদর্শের জায়গায় আমি কোনোদিন এক চুলও আপস করিনি এবং করবও না। আমার ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা আমার ওপর এই ধ্রুব বিশ্বাসটুকু নিশ্চিন্তে রাখতে পারেন।’
দলের প্রতি নিজের অটল অবস্থান স্পষ্ট করে পাপিয়া বলেন, ‘আমি এই দলের বাইরে কখনো যাইনি এবং যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। বিএনপিতেই আমার রাজনৈতিক জন্ম হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ, এই দলের পতাকা তলেই আমার শেষ নিঃশ্বাস পড়বে।’
পাপিয়ার এই পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন, আবার কেউ কেউ দলীয় সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন।
ফেসবুক ব্যবহারকারী রাশেদ মাহমুদ লিখেছেন, ‘দলকে ভালোবেসে যারা দীর্ঘদিন রাজনীতি করেন, তাদের মূল্যায়ন হওয়া উচিত।’ আরেক ব্যবহারকারী তানজিলা হক মন্তব্য করেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়াই রাজনীতির বড় শক্তি। পাপিয়া আপা সেটাই দেখালেন।’
অন্যদিকে মাহবুব আলম নামের একজন লেখেন, ‘মনোনয়ন না পাওয়া কষ্টের, তবে দলের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখা প্রশংসনীয়।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, মনোনয়ন না পাওয়া সত্ত্বেও প্রকাশ্যে দলীয় নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যের বার্তা দেওয়া বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা যেতে পারে।
খবরটি শেয়ার করুন