মঙ্গলবার, ১০ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৬শে ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী *** অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশের সারসংক্ষেপ চেয়েছে সরকার *** ইরান যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ *** নেপালের সরকার ও জনগণকে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান *** নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসছেন মাহফুজ আনাম *** কলকাতায় গ্রেপ্তার ফয়সাল ও আলমগীরের সাক্ষাৎ চায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন *** ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিশুদ্ধ আওয়ামী লীগ সৃষ্টি করাই এখন প্রধান লক্ষ্য’ *** হাদি হত্যা মামলায় ভারতে গ্রেপ্তারদের দেশে আনার চেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** মাদক মামলায় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর বেকসুর খালাস *** জুমার সঙ্গে হাদির খুনির ছবি, যা জানাল দ্য ডিসেন্ট

জ্বালানি কিনতেই মাসে হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৩:৫২ অপরাহ্ন, ১০ই মার্চ ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। এতে আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বর্তমান দামে জ্বালানি আমদানিতে প্রতি মাসে হাজার কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত ব্যয় গুনতে হতে পারে।

জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে দেশে আমদানি করা ডিজেল, ফার্নেস অয়েল ও অন্যান্য জ্বালানির ক্রয়মূল্যও বেড়ে গেছে। এর প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প খাত ও পরিবহন ব্যবস্থায়।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এক কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ায় আমদানির প্রতিটি চালানে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ডলার সংকট ও বৈদেশিক মুদ্রার চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং বিভিন্ন তেল শোধনাগার ও সরবরাহ লাইনে হামলার ঘটনা। এর ফলে সরবরাহ কমে গিয়ে বাজারে দাম বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।

এদিকে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, শিল্প খাতে উৎপাদন খরচ বাড়বে এবং পরিবহন খাতেও প্রভাব পড়বে। ফলে শেষ পর্যন্ত এর চাপ সাধারণ ভোক্তার ওপরও পড়তে পারে।

এদিকে সরকার জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিভিন্ন খাতে খরচ কমানোর উদ্যোগ বিবেচনা করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রয়োজনে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নতুন নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি খাতে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প জ্বালানি উৎস ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

জে.এস/

জ্বালানি তেল

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250