বুধবার, ২৮শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়ে জাতিসংঘে আওয়ামী লীগের চিঠি *** মানিক পশারীর জানাজা-দাফনে বাধার অভিযোগ তদন্তে জামায়াতের কমিটি *** তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা জাপান প্রধানমন্ত্রীর *** রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার: জাতিসংঘের প্রতিবেদন *** মাও সেতুংকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে ক্ষমা চাইলেন এমবাপ্পে, দুঃখ প্রকাশ লা লিগার *** আইজিপির বক্তব্য সরকারের জন্য বিব্রতকর: রিজভী *** বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমকে সমর্থন করে না সরকার: তথ্য উপদেষ্টা *** ‘ক্রসফায়ারের’ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে মবের শিকার হবেন না: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা *** আওয়ামী লীগের যারা ভালো মানুষ, তারা আপন ঠিকানা খুঁজে নেবেন: জামায়াত আমির

‘ড. ইউনূসের আমলের অধিকাংশ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে’

শুভ্র বড়ুয়া

🕒 প্রকাশ: ০৫:৪১ অপরাহ্ন, ২২শে এপ্রিল ২০২৬

#

ফাইল ছবি

রাজনৈতিক বিভাজন, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক বাস্তবতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন। সম্প্রতি একটি ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া আলোচনায় তিনি দেশের চলমান পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক হিসেবে তুলে ধরেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রবণতা নিয়ে বিশদ কথা বলেন।

রাজনৈতিক বিভাজন প্রসঙ্গে মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, ‘বারবার রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা বা সমাজকে বিভক্ত করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।’ তার এই মন্তব্যে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার প্রতিফলন দেখা যায় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আদালতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে ‘মব’-এর শিকার হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার কারণে জামিন চাইতেও অনেকেই নিরাপদ মনে করছেন না।” তার মতে, এটি বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থার জায়গায় বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করছে এবং আইনের শাসনের জন্যও একটি অশনিসংকেত।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রসঙ্গে নূর খান লিটন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বতঃস্ফূর্তভাবে উঠে আসা বিভিন্ন স্লোগান ও চেতনার জায়গাগুলো পরবর্তী সময় কৌশলে প্রতিস্থাপিত হয়েছে, যা স্বাধীনতার চেতনার জন্য একটি পরাজয়ের ইঙ্গিত বহন করে।’ তিনি মনে করেন, ‘এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।’ তার এই বক্তব্য দেশের ইতিহাস ও রাজনৈতিক বয়ান নিয়ে চলমান বিতর্ককে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

আলোচনায় তিনি সাম্প্রতিক সময়ের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। নূর খান লিটন জানান, ‘গত দেড় বছর সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় উগ্রগোষ্ঠীগুলো যেভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে, তা ভবিষ্যতে নতুন আশঙ্কার জন্ম দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এই সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং সরাসরি তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছেন। এই সময়ের অধিকাংশ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ঘটেছে।’

তবে এই দাবির ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্যের সীমাবদ্ধতার কথাও স্বীকার করেন তিনি। নূর খান লিটন বলেন, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সুস্পষ্ট চিত্র পাওয়ার মতো তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়নে এখনো ঘাটতি রয়ে গেছে বলেই ইঙ্গিত দেন তিনি।

ক্ষমতার পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আচরণ নিয়েও সমালোচনা করেন এই মানবাধিকারকর্মী। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকার সময় অনেক নেতাকর্মী দৃঢ় অবস্থানে থাকলেও ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।’ একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ের অনেক কর্মী কারাবন্দি থাকলেও তাদের বিষয়ে দল বা সংশ্লিষ্ট কেউ তেমন খোঁজখবর নিচ্ছে না।’

তার এই বক্তব্যে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ দায়বদ্ধতা এবং সংগঠনগত দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের প্রতি দলের দায়িত্ববোধ কতটা কার্যকর—সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

এদিকে, নূর খান লিটনের এই মন্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ফেসবুক ব্যবহারকারী আরিফ হোসেন লিখেছেন, “মানবাধিকার নিয়ে এই ধরনের খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন, যদিও তথ্যের ঘাটতির বিষয়টি আরও গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত।”

সাবিহা রহমান নামে আরেক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, “যদি সত্যিই অধিকাংশ লঙ্ঘন একটি নির্দিষ্ট দলের বিরুদ্ধে হয়ে থাকে, তাহলে সেটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া দরকার।”

তবে ভিন্নমতও রয়েছে। তানভীর ইসলাম নামে একজন লেখেন, “তথ্যসূত্র নিশ্চিত না করে এ ধরনের মন্তব্য বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।” একইভাবে নুসরাত জাহান মন্তব্য করেন, “মানবাধিকার ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার না করে সবার জন্য সমানভাবে বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।”

বিশ্লেষকেরা বলছেন, নূর খান লিটনের বক্তব্যে যেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইস্যু উঠে এসেছে, তেমনি তথ্যের সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ফলে তার পর্যবেক্ষণগুলো আরও গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করার প্রয়োজন রয়েছে।

সব মিলিয়ে, এই আলোচনা দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থার প্রশ্নকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এই বিষয়গুলো কতটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এবং বাস্তব পরিবর্তনের জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়।

নূর খান লিটন

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250