ছবি: সংগৃহীত
ভ্যাটিকানে নিয়োগ পাওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফর শুরু করেছেন ক্যাথোলিক চার্চের সর্বোচ্চ নেতা পোপ চতুর্দশ লিও। সফরের প্রথম গন্তব্য হিসেবে মুসলিমপ্রধান দেশ তুরস্ক এসেছেন তিনি। এই তথ্য জানিয়েছে এএফপি।
মে মাসে নির্বাচিত হওয়ার পর এটাই পোপের প্রথম বিদেশ সফর। তার এই সফরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য আছে। গন্তব্য হিসেবে তুরস্ককেও বেছে নিয়েছেন বিশেষ কারণে।
ক্যাথোলিক চার্চের গোড়াপত্তনের শুরুতে তুরস্কে প্রথম নাইসিয়া সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছিল। ওই সম্মেলনে নেওয়া অনেক সিদ্ধান্ত ও নীতি এখনো ক্যাথোলিকেরা মনেপ্রাণে মেনে চলেন।
রোমান সম্রাট কনস্ট্যানটিনের আমলে তৎকালীন নাইসিয়া নগরীতে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এটা ছিল তৎকালীন রাজধানী কনস্ট্যানটিনোপল (হালের ইস্তাম্বুল) থেকে ১০০-১২০ কিমি দূরে অবস্থিত একটি শহর, যা এখন ইজনিক নামে পরিচিত।
সম্প্রতি ওই সম্মেলনের ১,৭০০তম বার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। মূলত এসব ঐতিহাসিক কারণেই বিদেশ সফরের প্রথম গন্তব্য হিসেবে মুসলিম-প্রধান দেশ তুরস্ককে বেছে নেন লিও। গত বৃহস্পতিবার (২৭শে নভেম্বর) স্থানীয় সময়ে দুপুরে লিও (৭০) আঙ্কারা পৌঁছান। ৩ দিনের ব্যস্ত সফর শেষে লেবানন যাবেন পোপ।
রোম থেকে আঙ্কারা আসার পথে ফ্লাইটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পোপ। প্রথম বিদেশ সফরটিকে বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজে লাগাতে চান বলে মত দেন লিও।
লিওর পূর্বসূরি পোপ ফ্রান্সিস লেবানন ও তুরস্ক সফরে যাওয়ার পরিকল্পনা করলেও অসুস্থতার কারণে যেতে পারেননি। বিদেশের মাটিতে দেওয়া প্রথম বক্তব্যে পোপ লিও বলেন, '(তাদের) উচ্চাভিলাষ ও বেছে নেওয়া পথ ন্যায়বিচার ও শান্তিকে পদদলিত করছে।
প্রথম মার্কিনি পোপ জানান, বিশ্বে এখন অস্বাভাবিক মাত্রায় সহিংসতা-সংঘাত চলছে। তিনি তুরস্কের রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, 'বিশ্বে এখন অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় সংঘাতের মাত্রা বেড়েছে। এর পেছনে ইন্ধন যোগাচ্ছে অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতাধর দেশগুলোর বেছে নেওয়া কৌশল।'
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন