ছবি: সংগৃহীত
সিনেমা ছাপিয়ে ইদানীং চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল প্রসঙ্গ। যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো হচ্ছে বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসব থেকে, ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসনের নিন্দা জানানো হচ্ছে, গণহত্যার বিরুদ্ধে উচ্চারিত হচ্ছে প্রতিবাদ। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদের সাক্ষী হয়ে রইল এবারের ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। খবর হলিউড রিপোর্টারের।
গতকাল শনিবার (৩০শে আগস্ট) ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ভেন্যুর বাইরে হাজার হাজার ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে আশপাশের এলাকা। চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমিতি, সংগঠন ও সংবাদকর্মী আয়োজিত এ মিছিলের উদ্দেশ্য ছিল, গাজায় চলমান গণহত্যার প্রতিবাদের ক্ষেত্র হিসেবে পৃথিবীর প্রাচীনতম এই উৎসবকে একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা।
হলিউড রিপোর্টার জানিয়েছে, এ প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিতে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জড়ো হন হাজার হাজার শিক্ষার্থী, সমাজকর্মী, অ্যাকটিভিস্ট ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজকেরা এক বিবৃতিতে বলেন, ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শুধু একটি চলচ্চিত্র উৎসব হিসেবে উদ্যাপিত হতে পারে না। বরং ইসরায়েল যে গণহত্যা চালাচ্ছে, পশ্চিমা সরকারগুলো তাতে সহযোগিতা করছে; এ বিষয়গুলো জোরালোভাবে উচ্চারিত হওয়া দরকার এই উৎসব থেকে। ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি স্পষ্ট সমর্থন জানানো উচিত।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘গাজার হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শরণার্থীশিবিরগুলোতেও বোমা বর্ষণ করা হচ্ছে। বেসামরিক নাগরিকদের খাবার ও পানি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সাংবাদিক ও চিকিৎসকদের হত্যা করা হচ্ছে। ইসরায়েলের এ বর্বরতার সঙ্গে ইতালি ও ইউরোপ জড়িত। তারা অস্ত্র সরবরাহ করছে, অর্থনৈতিক চুক্তি করছে, কূটনৈতিক সহযোগিতা দিচ্ছে। আমাদের আবেদন, গণহত্যা বন্ধ করুন, অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করুন, পশ্চিমা সহযোগিতা বন্ধ করুন।’
গাজায় চলমান গণহত্যার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিতে আগেই আহ্বান জানানো হয়েছিল ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব কর্তৃপক্ষকে। উৎসবের আগে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেন বিভিন্ন দেশের ছয় শ শিল্পী ও নির্মাতা। গাল গাদত ও জেরার্ড বাটলারের মতো ইসরায়েলপন্থী তারকাদের যেন আমন্ত্রণ না জানানো হয় ভেনিস উৎসবে, সে দাবিও জানিয়েছিলেন তারা।
গত বুধবার (২৭শে আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে শুরুর দিনেও বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়েছিলেন। উৎসবের মূল গেটে তারা ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন, স্টপ দ্য জেনোসাইড’ স্লোগান লেখা ব্যানার টানিয়ে দেন।
ভেনিস উৎসবের গত বছরের আসরেও উচ্চারিত হয়েছিল যুদ্ধবিরোধী প্রতিবাদধ্বনি। সেবার পুলিশের বাধা টপকে উৎসবের রেড কার্পেটে ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়েছিলেন বিক্ষোভকারীরা। তবে এবার উৎসবের মূল প্রাঙ্গণ থেকে প্রায় এক হাজার ফুট দূরে অবস্থান নিতে হয় তাদের। সেখানেই পুলিশ তাদের আটকে দেয়। তবে তাদের ছত্রভঙ্গ করার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ। বরং শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয় বিক্ষোভ কর্মসূচি।
খবরটি শেয়ার করুন