শনিবার, ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ‘আসিফ নজরুল তৃতীয় শ্রেণির লেখক’ *** নরসিংদীতে কিশোরীকে অপহরণ ও হত্যা: প্রধান আসামি গাজীপুরে গ্রেপ্তার *** ফাওজুল কবিরের সরকারি বাসায় সাবেক উপদেষ্টাদের ইফতার ও নৈশভোজ *** আমি কিছু দেখিনি, ভুল কিছু করিনি—বিল ক্লিনটনের সাক্ষ্য *** হতাহত নিয়ে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের পাল্টাপাল্টি দাবি *** ‘কোনো নির্বাচনই শতভাগ নিখুঁত হয় না’ *** জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশ হত্যার বিষয়টি তদন্ত হবে: মির্জা ফখরুল *** তালেবানের পৃষ্ঠপোষক থেকে কেন প্রতিপক্ষ হয়ে উঠল পাকিস্তান *** ‘ড. ইউনূসের সময়কালে অপসারণ চেষ্টা’—রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জামায়াত আমিরের *** কবি মোহন রায়হানকে ‘অপমান’ করায় উদীচীর নিন্দা

‘গৌরী চায় না আমি মেয়েদের জড়িয়ে ধরি’

বিনোদন ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন, ২রা নভেম্বর ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

বলিউড তারকা হওয়ার আগেও শাহরুখ খানের জীবন ছিল এক অনিশ্চিত সংগ্রামের গল্প। মুম্বাইয়ের চকমকে দুনিয়ায় নিজের জায়গা করে নেওয়ার আগে তিনি লড়েছেন একা—মায়ের অসুস্থতা, সংসারের টানাপোড়েন আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সঙ্গে। সেই সময়টায় পাশে ছিলেন অভিনেতা ও প্রযোজক বিবেক বাসওয়ানি, যার ঘরেই নাকি প্রথম আশ্রয় পেয়েছিলেন শাহরুখ। তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

সম্প্রতি রেডিও নাশার এক সাক্ষাৎকারে বিবেক সেই দিনগুলোর কথা তুলে ধরেন। অভিনেতার জন্মদিন আজ রোববার (২রা নভেম্বর)। বিবেক জানান, ‘শাহরুখ তখন আমার বাড়িতেই থাকত। একদিন বলল, ভেজ খেতে ভালো লাগে না, তাই বাইরে গিয়ে কিছু খাই। প্রথম ২০ মিনিট চুপচাপ খেয়ে গেল—কারণ, সে প্রায় দুই দিন ঠিকমতো কিছু খায়নি।’ খাওয়া শেষে শাহরুখ তাকে বলেছিল, ‘তুমি জানো, বিবেক? আমার মা মারা যাচ্ছেন।’

বিবেক বলেন, ‘আমি হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। এরপর ও মায়ের অসুখ, বোন শেহনাজ আর গৌরীর কথা বলতে শুরু করল। সেদিন রাতভর কথা বলেছিলাম, সময় কেটে গেল কফির কাপের পর কাপে।’

সে সময় শাহরুখের মা হাসপাতালে, আর গৌরীর সঙ্গে তার সম্পর্কও তখন টালমাটাল। সিনেমা করার আগ্রহও ছিল না তার। বিবেকের ভাষায়, ‘প্রযোজক বিক্রম মালহোত্রা তখন ওকে এক সিনেমার প্রস্তাব দেন, কিন্তু শাহরুখ স্পষ্ট জানায়—গৌরী চায় না আমি পর্দায় মেয়েদের জড়িয়ে ধরি। তাই সিনেমা নয়, শুধু টেলিভিশনেই থাকবে।’

তবুও বিবেক তাকে রাজি করান তিন দিনের শুটিংয়ে শিমলায় যেতে। সেই ছবিই ছিল ‘মায়া মেমসাব’—কেতন মেহতার পরিচালনায় একটি শিল্পধর্মী সিনেমা, যা শাহরুখের টিভি-অভিনয়ের মতোই গাঢ় ও সংবেদনশীল ছিল। এই ছবি তার মা মারা যাওয়ার আগেই শেষ হয়।

মায়ের মৃত্যুর খবরের পর শাহরুখ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন। ১০ দিন পর এক ভোরে বিবেকের দরজায় ঘণ্টা বাজে। দরজা খুলে বিবেক দেখেন, শাহরুখ দাঁড়িয়ে, হাতে বিশাল ব্যাগ। শুধু বলেছিলেন, ‘তুমি কি আমার সঙ্গে একটা সিনেমা করবে?’

বিবেক স্মরণ করেন, ‘আমি বললাম, তুমি তো সিনেমা করতে চাও না! ও উত্তর দিল, “এখন চাই। এটা আমার মায়ের স্বপ্ন ছিল—আমি যেন সুপারস্টার হই। সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই ফিরে এসেছি।”’

সেই রাতেই প্রেসিডেন্ট হোটেলে বসে কফির টেবিলে জন্ম নেয় এক নতুন পরিকল্পনা—‘রাজু বান গায়া জেন্টলম্যান’।

যদিও শাহরুখের প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ছিল ‘দিওয়ানা’ (১৯৯২), এরপর আসে ‘চমত্কার’। তবে ‘রাজু বান গায়া জেন্টলম্যান’-ই তাকে বলিউডের সামনের সারিতে তুলে আনে। ছবিটি সেই বছর অন্যতম হিট হয়, আর শাহরুখের নাম ছড়িয়ে পড়ে ভারতজুড়ে।

বছর তিনেক আগে যখন শাহরুখ তার প্রথম জাতীয় পুরস্কার পান, বিবেক বাসওয়ানি তাকে অভিনন্দন জানালে অভিনেতা উত্তর দেন, ‘সবকিছু শুরু হয়েছিল তোমার কাছ থেকে, বিবেক। রাজু অবশেষে জেন্টলম্যান হয়ে গেল।'

জে.এস/

শাহরুখ খান

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250